ইসলাম নারীকে সাজসজ্জা গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষে সাজসজ্জা গ্রহণ করাকে একটি সওয়াবের কাজ বলেও ঘোষণা দেয়া হয়েছে। স্বামীর উদ্দেশ্যে সাজসজ্জায় থাকার জন্য স্ত্রীর প্রতি ইসলামের নির্দেশ রয়েছে। বর্তমানে নারীদের অবস্থা হলো, স্বামীর সামনে তারা সাধারণ ঘরোয়া কাপড়-চোপড় পরে থাকে। আর বাইরে বেড়াতে যাওয়ার সময় আপাদমস্তক সুসজ্জিত হয়ে যায়। কেউ স্বামীর উদ্দেশ্যে সাজ-সজ্জা গ্রহণ করলে সমালোচনা শুরু হয়ে যায় যে, মেয়েটির লাজ-লজ্জা বলতে কিছুই নেই- স্বামীর সামনে সে কেমন রূপচর্চা করছে!

একজন নারী স্বামীসহ ঐ সকল পুরুষের সামনে সাজ্জ-সজ্জা প্রকাশ করতে পারবে যাদের সঙ্গে মেয়ে লোকের বিয়ে চিরস্থায়ীভাবে হারাম। তাদের তালিকা হচ্ছে: নিজ বাবা, ভাই, ছেলে, ছেলের ছেলে, শ্বশুর ইত্যাদি। তবে শর্ত হলো, ওই ব্যক্তিকে আমানতদার হতে হবে যিনি আল্লাকে ভয় করেন। সে যদি ফাসিক ও গুনাহগার হয় তাদের সামনে সৌন্দর্য প্রকাশ করা জায়েয নেই, সেটা নিজ ভাই হলেও না। অনুরূপভাবে নারীরা অমুসলিম মহিলাদের সামনে সৌন্দর্য প্রকাশের বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। পবিত্র কুরআনের নি¤েœাক্ত বাণীটি তার সু¯পষ্ট প্রমাণ। আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর. পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভ্রাতু®পুত্র, ভাগিনা, স্ত্রীলোক, অধিকারভুক্ত দাসী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ স¤পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত অন্য কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। [সূরা আন-নূর: ৩১]

একজন নারী আয়াতে বর্ণিত সকল লোক ব্যতীত অন্যদের সামনে সুসজ্জিতাবস্থায় যতবারই আসুক ততবারই তাদের গুণাহ হবে। বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবু মূসা আল আশয়ারী (রা.) থেকেও এ মর্মে একটি হাদীস বর্ণিত আছে। রাসুল (সা.)বলেছেন, ‘প্রত্যেক চোখ যেনা করে। মেয়েলোক যখন সুগন্ধি মেখে কোন মজলিসের পাশ অতিক্রম করে, সেও যেনাকারিণী। (আবু দাউদ ও তিরমিযী) এর অর্থ হলো, সে যেনার প্রতি আহ্বানকারিণী। এধরণের কাজের কারণে সে গুনাহগার হিসেবে সাব্যস্ত হবে। হাদীসে উল্লিখিত চোখ যেনা করে এর অর্থ হলো, স্ত্রীদের নিষিদ্ধ সতরের দিকে তাকানো গুনাহ। কেননা, হারাম দৃষ্টি যেনার কারণ এবং যৌন কামনা সৃষ্টির উপায়। ইবনু খুযাইমা বর্ণিত আরো একটি হাদীস উপরোক্ত বিষয়টির ভয়াবহতার প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ সে স্ত্রীলোকের নামাজ কবুল করেন না, যে সুগন্ধি মেখে তার ঘ্রাণ বাতাসে ছড়িয়ে মসজিদের উদ্দেশে বের হয়, যে পর্যন্ত না সে ঘরে ফিরে আসে ও গোসল করে। (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ) এটা হলো, সুগন্ধি নিয়ে মসজিদে যাওয়ার পরিণতি। কিন্তু যে নারীরা সুঘ্রাণ ছড়িয়ে খোলামেলা পুরুষের মজলিসে কিংবা অনুষ্ঠান অথবা তাদের ক্লাব ও অন্য লোকের ঘরে যায়, তাদের অবস্থা সহজেই অনুমেয়।