বিশেষ প্রতিনিধি : 
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে দলের বেশ কিছু নেতা আলোচিত হয়ে উঠেছে। দলের হয়ে আন্দোলন করে এবং দলের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে দাড়তে গিয়েই এসব নেতারা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষনে সক্ষম হয়েছে। আর আগামীতে দল পূর্নগঠনে এসব নেতাদেরই সামনের সাঁড়িতে রাখার চিন্তা করছে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। এসব নেতাদের মধ্যে এড. তৈমুর আলম খন্দকার, এড. আবুল কালাম, আইনজীবী নেতা এড শাখাওয়াত হোসেন খান, এড জাকির, এটিএম কামাল, মাকসুদুল আলম খন্দকুার খোরশেদ, দিপু ভূইঁয়া, মাসুকুল ইসলাম রাজিব, রানা মুজিব, আবুল কালাম আশা, রিয়াদ চৌধুরী অন্যতম। এদের মধ্যে আইনজীবী নেতা এড. শাখাওয়াতের গুরুত্ব কেবল বেড়েই চলেছে। নেতাকর্মীদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই নেতা। ইতোমধ্যে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছেন। বিগত ওয়ান এলিভেনের সময় সাহসি ভুমিকা পালনের মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. শাখাওয়াত হোসেন খান। সর্বশেষ সেভেন মার্ডারের পর তার সাহসি ভুমিকার কারনে তিনি সারা দেশে আলোচিত হন।

সূত্রমতে, জেলা ও মহানগর কমিটি গঠনের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় নেতাদের চাপ রয়েছে। রাজধানীর পাশের জেলা হওয়ায় নারায়ণগঞ্জকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন বিএনপির হাই কমান্ড। এ জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের ব্যাপাওে কেন্দ্রীয় নেতারা তৎপর হতে শুরু করেছে। নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে আরো বেশী শক্তিশালী করতে দলের সক্রিয় নেতাদেও সমন্বয়ে কমিটি গঠনের চিন্তা করছে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। এছাড়া আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই জেলা বিএনপিকে পূর্নগঠনের চিন্তা করছে হাই কমান্ড। এবারের টাগের্ট নাসিক নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থীই জয়ী হবেন। আর সে লক্ষ নিয়েই কাজ শুরু করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে। জেলা বিএনপির কমিটিতে প্রবীনদেও পাশাপাশি নবীন অনেক নেতাকে গুরুত্বপূর্ন পদে আনা হচ্ছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিতে নেতৃত্বেও পরিবর্তন হবে বলেও বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে আইনজীবী নেতা এড. শাখাওয়াত হোসেনের নাম বেশ আলোচিত।

এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বিএনপি আমার রক্তের সাথে মিশে গেছে। সেই জাগো দল থেকেই রাজনীতি করে আসছি। দলীয় পদ পদবী বড় কথা নয়। দলের পদে না থেকে দলের জন্য কিছু করা যায় তার প্রমাণ রেখেছি। আজ দলের কারো কারো চক্ষুশূল হয়ে দল থেকে মাইনাস হয়েছি। আমার চেয়েও অনেক সক্রিয় ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করে দল থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। কারণ আমরা কারো ব্যক্তির নামে শ্লোগান দেইনি। কোন ব্যক্তির চাটুকারিতা করিনি। আমরা জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করি।

ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি গঠন বিষয়ে এড. শাখাওয়াত হোসেন খান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির যাদের সাথেই আমার কথা হয়েছে তাদেরকে বলেছি যদি আমাকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় তাহলেই আমি দায়িত্ব নিব। কারণ অন্য কোন পদে দায়িত্ব দিলে দলকে এমন পর্যায় থেকে শক্তিশালী করতে হলে যা করা দরকার তা করা যাবে না। তাই সভাপতির দায়িত্ব দিলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিকে একটি মডেল মহানগর বিএনপির কমিটি হিসেবে গড়ে তুলব। এ কমিটি দেখে দেশের অন্যান্য কমিটিগুলোও কাজ করবে। আর যারা দলের রাজনীতি করেছিল সেই সব ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে যারা পিছনে পড়ে গেছে তাদেরকে সামনে নিয়ে আসব। কোন ভাইয়ের রাজনীতি নয় সকলের শ্লোগান হবে বিএনপির রাজনীতি। কেন্দ্রীয় নেতারা আমাকে মানসিকভাবে প্রস্তত থাকতে বলেছেন।