নিজস্ব প্রতিবেদক
আড়াইহাজারে বিএনপির থানা কমিটিতে এবার এডভোকেট মো: জাহাঙ্গীর সভাপতি ও মনিরুজ্জামান খাঁন সাধারণ সম্পাদে আসছেন। এমন গুনজনে সরগম হয়ে উঠেছে উপজেলার সর্বত্র। শুক্রবার দিনভর বিএনপির নেতাকর্মীদের এনিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তুণমুল নেতাকর্মীদের দাবী এই দুইনেতার সম্ময়নে কমিটি করা হলে, উপযুক্ত ও যোগ্যতা সম্পূর্ণ কমিটিই হবে। তাদের রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্লিন ইমেজ। সাংগঠনিক ভাবেও তারা ইতিপূর্বে বেশ ত্যাগ শিকার করেছেন এবং  দক্ষতার সাথে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, এড. জাহাঙ্গীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাস্টার্স শেষ করে বিএনপির রাজনীতিতে পদার্পণ করেন। ইতিপূর্বে তিনি সাতগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রয়াত নেতা রোকনউদ্দিন মোল্লার হাত ধরে এপদে তার অভিষেক হয়। দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দলের কাজ করে যাচ্ছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার ক্লিন ইমেজের কারণে তৃণমুলের নেতাকর্মীরা তাকে বিএনপির থানা বিএনপির নেতৃত্বে আসা সময়ের দাবী বলেও অনেকে জানিয়েছেন।

এদিকে, মনিরুজ্জামান খান জাহাঙ্গীর নগর ইউনির্ভাসিটি থেকে অনার্স মাস্টাস শেষ করে বিএনপির রাজনীতিতে তার অভিষেক ঘটে। ইতি মধ্যে তিনি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে আড়াইহাজার থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসাবে অত্যন্ত সাহসীকতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে তার ভুমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো।

জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলায় যুবদলের সভাপতি প্রার্থী ছালাউদ্দিন মোল্লা বলেন, জাহাঙ্গীর ও মনিরুজ্জামানকে আড়াইহাজার থানা কমিটির দায়িত্ব দেয়া হলে বিএনপির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধা হবে। আড়াইহাজারে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা করতে হলে প্রথমেই ক্লিন ইমেজধারী নেতার প্রয়োজন। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় এই মুহূর্তে উক্ত দুইনেতার কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরো বলেন, উক্ত কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের জন্য লবিং করছেন এড. মো: আবু ছিদ্দিকুর রহমান। তিনি নারায়ণগঞ্জ আইনজীবি সমিতির সদস্য ও থানা যুবদলের মধ্যে একজন ইমেজধারী নেতা।

এদিকে, মনিরুজ্জামান খান বলেন, অতীতে নেতৃত্বে দুর্বলতার কারণে বিএনপিকে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। নেতৃত্বে সাংগঠনিক দক্ষতার দুর্বলতার কারণে নেতাকর্মীরা অনেকে দল ত্যাগ করেছেন। তাদের আবার ফিরে আনতে হবে। আমাকে ও জাহাঙ্গীরকে দলের দায়িত্ব দেয়া হল। প্রথমেই দলকে তৃণমুলের নেতাকর্মীদের নিয়ে গুছানো হবে। বিএনপির নিস্ক্রীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করে মাঠে নামানো হবে। কাউকে মাইনাস করে নয়; সবাইকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে আমার প্রথম দায়িত্ব। তবে বিতর্কিত কোনো ব্যাক্তির ঠাঁই সংগঠনে হবে না বলে তিনি ঘোষণা দেন।

জেলা আইনজীবি সমিতির নেতা এড. ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিএনপির তুণমুলের শতশত নেতা মিথ্যা মামলায় আসামি হয়ে কারাবাস করছেন। অতীতে নেতৃত্বের দুর্বলতার কারণে বিএনপির চরম ক্ষতি হয়েছে। শীর্ষনেতাদের কাছে না পেয়ে অনেকে দল ত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে যে সময় সারাদেশ আন্দোলন সংগ্রামে উত্তাল ছিল। সেই সময় প্রয়াত নেতা এএফএম ইকবাল ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে মাঠে-ময়দানে ছিলাম। তখন জাহাঙ্গীর ভাইও কর্মীদের বিপদে-আপদে পাশে ছিলেন। জাহাঙ্গীর একজন সংগ্রামী ও কর্মী বান্ধব নেতা। তাকে কাছে পেলে নেতাকর্মীরা উৎসাহ নিয়ে দলের জন্য কাজ করবেন।

এদিকে, বর্ষীয়ান নেতা ও থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এড. হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবি মো: জাহাঙ্গীর বলেন, অতীতে যারা আড়াইহাজার বিএনপির দায়িত্বে ছিলেন। তারা দলের জন্য রাজনীতি করেনি। তারা রাজনীতি করেছেন নিজেদের আখেঁর গুড়ার জন্য। জাহাঙ্গীর আরো বলেন, আমাকে থানা বিএনপির দায়িত্ব দেয়া হয়; আমি প্রথমেই সব নেতাকর্মীদের একমঞ্চে বসানোর চেষ্টা করব। অতীতের ভেদাভেদ ভুলে বেগম জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য দলের জন্য ঐকবদ্ধ হয়ে কাজ করব।