রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের নিরীহ ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবারের প্রায় তিন হাজার একর অবৈধভাবে দখল থাকা ফসলি জমি উদ্ধার না হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অচল করে দেবার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকার।

বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের নামে বেনামে অবৈধভাবে দখল ফসলি জমি দখল করে নিয়েছেন ভূমিদস্যুরা। প্রতিবাদে জমিহারা নিরীহ কৃষকরা আদালতপাড়ায় মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে এমন ঘোষনা দেন তৈমূর।

মানব বন্ধনে ওই উপজেলার করাটিয়া, আঙ্গারজোড়া, পাশনদা, চারিতালোক, পাইশকা, কুতুব গ্রামের শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তৈমূর আলম খন্দকার আরও বলেন, জনগণের জানমালের রক্ষার দায়িত্ব হলো প্রশাসনের। কিন্তু সেই প্রশাসনের নামে সাইনবোর্ড লাগিয়ে অসহায় কৃষকদের হাজার একর জমি দখল করে নিয়ে যাচ্ছে এলাকার একটি ভূমি দস্যু চক্র। আমরা ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে ফসলি জমি রক্ষার জন্য স্মারকলিপি প্রদান করছি। কিন্তু তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। এর পরে কোন পদক্ষেপ না নিলে রূপগঞ্জবাসীকে নিয়ে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাবো।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ জাতীয় পরিষদের সদস্য ও  জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আনিসুর রহমান দিপু বলেন, ভূমি দস্যুরা যত বড় নেতাই হোক না কেনো নারায়ণগঞ্জ আইনজীবীরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। আর যারা ফসলি জমিতে হাত দিবে তাদের হাত ভেঙে দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ফসলি জমি রক্ষার জন্য একটি আইন পাশ করেছে। সেখানে উল্লেখ আছে কেউ জোরপূর্বক ফসলি জমি দখল করতে পারবে না। আর যদি এই ভাবে ভূমি দস্যুরা কৃষকের ফসলি জমি নিয়ে যায় তাহলে কৃষকদের পাশাপাশি আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হবো ।

এ সময় ভোক্তভোগির স্বীকার কৃষকরা বলেন, আমাদের ফসলি জমি পৈতিক সূত্রেই পাওয়া। কিন্তু বালু ভরাটের নামে আমাদের প্রায় তিন হাজার একর জমি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছেন ভূমিদস্যুরা। তারা আরও জানান, কাঞ্চন পৌর আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলামের ছোট ভাই তরিকুল ইসলাম মোগল তার সন্ত্রাসী বাহিনী বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পের সাথে আঁতাত করে জোর করে আমাদের জমি দখল করছে। আমরা জমিতে গেলে তারা আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

তারা আরও বলেন, ইটালিয়ান সিটি, পুলিশ অফিসার সমবায় সমিতি, প্রীতি রিয়েলিটি লিঃ এই আবাসন প্রকল্প গুলো স্থানীয় ভূমি দস্যুদের সঙ্গে নিয়ে অবৈধভাবে বালু ভরাট করে আমাদের ফসলি জমি নিয়ে যাচ্ছে।

এ সময়ে নিরহ ভূমিহীন মালিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-এড. হাসান মাহমুদ, হাবিবুর রহমান মোল্লা, নাজিম উদ্দিন মোল্লা, মহিউদ্দিন ভূঁইয়া, ওসমান গনি, আব্দুল আজিজ, শাহজাহান ভূঁইয়া প্রমুখ।