স্টাফ রিপোর্টারঃ ফতুল্লার দাপা এলাকায় এখনো চলছে জমজমাট মাদক ব্যবসা প্রশাসনের সাড়াঁশি অভিযান কিছু মাদক ব্যবসায়ী কারাগারে, আবার কেউ মাদক ব্যবসা ছেড়ে কর্মজীবনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেলেও এ ব্যবসা থেমে নেই। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে অভিনব কায়দায় চালিয়ে যাচ্ছে এ ব্যবসা। এছাড়া বেশ কিছু মাদক ব্যবসমা পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে থাকলেও মাদক ব্যবসায় নতুন করে বেশ কিছু যুবক যুক্ত হয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে। তবে বর্তমানে প্রশাসনের নানামুখী তৎপরতায় সাধারন মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করলে রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় এখনো ভিন্ন কৌশলে নারায়ণগঞ্জের মাদক ব্যবসা অব্যাহত রয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানাগেছে। তবে জেলা পুলিশ প্রধান মঈনুল হকের দাবি, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ী যেই হোক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাইলট স্কুলের পশ্চিম পাশে লিটন চৌধুরী ওরুফে সাইকেল ও তার ছেলে রিফাতের মাদক ব্যবসা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। রিফাত নিজেকে থানা পুলিশের সোর্স দাবী করে মাদক ব্যবসা করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। পাইলট স্কুলের পূর্ব পাশে চন্দ্র বাড়ীতে এখন চলছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর এর সোর্স পরিচয় দিয়ে ফজলার ছেলে পান্নার মাদক ব্যবসা। এছাড়া খোঁজপাড়া এলাকায় করিম ড্রাইভারের পোলা নয়ন ও স্বপন আজগরের হাসান, রওশন আলী, কমুর ছেলে আহসান উল্ল্যাহ্, লাদেন হারুন, হযরতের ভাতিজি জামাই জসিম ওরফে বরিশাইল্ল্যা জসিম, এছাক হাজীর ছেলে সবুজ বরিশাইল্ল্যা কালামের পোলা সোহেল। রেল ষ্টেশন, বটতলা এলাকায় মাদক ব্যবসা চলছে শুভ ওরফে ইয়াবা শুভ, হানিফ, সোলেমান ওরফে মাইচ্ছ্যা সোলেমানের মাধ্যমে, রেল ষ্টেশনের কলাবাগান, ব্যাংক কলোনী, জোড়পুল এলাকায় হেরোইন, গাজাঁ, চরস ও ইয়াবার ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে মাদক সম্রাঞ্জী পারভীন, তার দেবর শাহীন ওরফে ডাকাত শাহীন গ্রæপের মাধ্যমে। রিফুজিপাড়া এলাকায় মুন্না ওরফে বুইট্যা মুন্না, শুভ ওরফে ইয়াবা শুভ, মাসুদ ওরফে গাল কাটা মাসুদ, খাঁ বাড়ীর রাসেল, রিফাত, হানিফ,আহসান, রায়হান ওরফে ভাগিনা রায়হান, রিয়াদ, ফারুক, দেলু ওরফে ভাগিনা দেলু ও রওশন আলীর মতো মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রনে চলছে এখন দাপা এলাকার মাদকের ব্যবসা।

অপদিকে, পিলকুনী,ব্যাংক কলোনী এলাকায় হিটলারের ভাই জনি, বাবু, ডাকাত তুজুর নেতৃত্বে বিশাল একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাক মেইলিং, মাদক ব্যবসা, দেহ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। ডাকাত তুজু, জাহাঙ্গীর, খোকনের বিরুদ্ধে গত কিছুদিন আগে সমির চক্রবর্তী নামে এক ব্যবসায়ী ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হলেও এখনো এই বাহিনী বহাল তবিয়তে রয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার মঈনূল হক বলেন, মাদক নির্মূলে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে, অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, মাদক উদ্ধার করা হয়েছে, অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে, মাদক ব্যবসায়ীরা যতোই প্রভাবশালী হোক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন জানান, মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আগের তুলনায় ফতুল্লায় মাদকের তৎপরতা কমে গেছে। তবে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে আমাদের কোন আপোষ নেই।