ডেস্ক নিউজঃ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে কেন্দ্র করে শ্রীলঙ্কা জুড়ে আজ মঙ্গলবার থেকে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সরকার। সহিংসতায় উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের তরফ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে সরকারের একজন মুখপাত্র জানান। খবর আল জাজিরার।

একজন বৌদ্ধ ব্যক্তিকে  হত্যা ও মুসলিমদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগানোকে কেন্দ্র করে ক্যান্ডি শহরে বেশ কয়েকদিন ধরে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। গতকাল সোমবার স্থানীয়ভাবে কারফিউ জারি করা হয়।

সরকারের মুখপাত্র দয়াসিরি জয়াসেকারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘দেশে সাম্প্রদায়িক হিংসা মোকাবিলায় মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ১০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যারা ফেসবুকের মাধ্যমে হিংসা ছড়াবে, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে ঠিক হয়েছে।’

গতকাল সোমবার পুলিশ জানায়, সপ্তাহের শেষের দিকে ক্যান্ডি জেলায় দাঙ্গা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটতে থাকে। পরে এই দাঙ্গা শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

শ্রীলঙ্কায় এর আগেও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির দুই কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ১০ শতাংশ মুসলিম, ৭৫ শতাংশ বৌদ্ধ এবং ১৩ শতাংশ হিন্দু রয়েছে।

বেশ কয়েকজন পর্যবেক্ষণকারী জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ সংস্থা বদু বালা সেনা(বিবিএস)-কে চলমান সহিংসতার জন্য দায়ী করেছেন।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুসলিম-বৌদ্ধদের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন আহত এবং বেশকিছু দোকানপাট ও মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছিল। ২০১৪ সালে আলুথগামা দাঙ্গার পর মুসলিমবিরোধী প্রচার শুরু হয়।

কট্টরপন্থী কিছু বৌদ্ধ গোষ্ঠীর অভিযোগ, মুসলিমরা জোর করে বৌদ্ধদের ধর্মান্তর করছে এবং বৌদ্ধদের ঐতিহাসিক স্থান ধ্বংস করেছে।