নিজস্ব প্রতিবেদকঃ অবশেষে ফতুল্লার বহুল আলোচিত-সমালোচিত আলাউদ্দিন হাজীর অবৈধ বালুর ঘাট উচ্ছেদ করেছে বিআইডব্লউটিএ। টানা তিন দিনের উচ্ছেদ অভিযান চলাকালিন সময় ফতুল্লাস্থ গরু হাট সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে কয়েক দশক আগে গড়ে তোলা আলাউদ্দিন হাজীর দখলকৃত স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিআইডব্লউটিএ এই উচ্ছেদ অভিযান চালায়।

এসময় নদীর তীর দখল করে রাখা বালুর স্তুপ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়। এদিকে, আলাউদ্দিন হাজী বুড়িগঙ্গা নদীর তীর এবং নদীর কিছু অংশ দখল করে স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিয়ে মোটা অংকের টাকার হাতিয়ে নিয়েছে এমন অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। বিআইডব্লউটিএ কর্তৃপক্ষ জানান, আলাউদ্দিন হাজী অবৈধ ভাবে নদীর তীর ভরাট করে ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বালু ব্যবসায়ী জানান, গত ৪ বছর পূর্বে আলাউদ্দিন হাজীর ছেলে আক্তার হোসেনের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা অগ্রিম জায়গা ভাড়া নিয়েছি এবং প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে আসছি। আলাউদ্দিন হাজীর ছেলের নদী দখলের ব্যাপারে বিআইডব্লউটিএ কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষেভ প্রকাশ করেন। এব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মঞ্জুর কাদের পিপিএম জানান, নদীর তীর যারা দখল করেছে তারা অবৈধ ভাবেই দখল করে ভাড়া দিয়েছে। তাদের কোন বৈধতা নেই।

এর আগে বিআইডব্লউটিএ যুগ্ম পরিচালক আরিফ উদ্দিন বলেন, প্রভাবশালীব্যাক্তিরাই নদীর তীর ঘেষে গড়ে ওঠা ১২ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত ওয়াকওয়ে নষ্ট করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে। যারা এসবের সাথে জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে আলীগঞ্জে মোকাররম সরদারের দখলে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ১ লাখ টাকা জড়িমান আদায় করা হয়।

উল্লেখ্য,শ্যামপুর ও ফতুল্লার একাধিক প্রভাবশালী ব্যাক্তি বুড়িগঙ্গা নদীর তীর দখল করে দীর্ঘদিন ধরে বালু,সিমেন্ট, ইট,কয়লা, পাথরের ব্যবসা করে আসছে। এর ফলে নদীর তীরে নির্মিত ওয়াকওয়ে নষ্ট হয়ে যায়।