স্টাফ রিপোর্টারঃ মামলাবাজ বরিশাইল্যা টিপুর বিরুদ্ধে মামলা করে বিপাকে টিপু বাহিনীর হামলার শিকার আহত দেলুর পরিবার। মামলা তুলে নিতে অব্যাহত হুমকীর পর থানায় সাধারন ডায়েরী করেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। এদিকে, মামলাকে ভিন্ন দিকে প্রভাহিত করতে ইতোমধ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বদলের অভিযোগ উঠেছে টিপুর বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মামলার আসামী হয়েও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বদল করে নিজের পছন্দ অনুযায়ী নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার। এ নিয়ে আহত দেলুর পরিবার সুষ্ঠু বিচার নিয়ে অনেকটা শঙ্কিত।

সন্ত্রাসী হামলা আহত দেলুর স্ত্রী এবং মামলার বাদী আমেনা খাতুন জানান, সরকারী রাস্তা দখলে রেখে টিপু তার ডাইংয়ের মালামাল রাখার জায়গা তৈরী করায় আমার স্বামী এর প্রতিবাদ জানালে মামলাবাজী টিপু তাকে দেখে নেয়ার হুমকী দেয়। এবং হুমকীর একদিন পরই প্রকাশ্য দিবালোকে বরিশাইল্যা টিপু, তার ছোট ভাই সাপ্পু, ভাগ্নে মাদক ব্যবসায়ী রায়হান, রাজিবসহ অজ্ঞাত আরো ৩/৪জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমার স্বামীর উপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন আমার স্বামী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপালে চিকিৎসাধীন ছিলো। এই মামলা নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা তুষার কান্তিকে মোটা অংকের টাকার মাধ্যমে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে পরবর্তীতে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বদল করে মামলার মোটিভ ভিন্ন দিকে ধাবিত করার চেষ্টা করে। আমেনা বেগমের অভিযোগ, মামলার আসামী টিপুর এবং তার ছোট ভাই সাপ্পু, ভাগ্নে মাদক ব্যবসায়ী রায়হান, রাজিব, বরিশাইল্যা মিজান,, ইসলাম ওরুফে ইসলা মামলা তুলে নিতে কয়ক দফা বাড়ীতে এসে এবং রাস্তায় দাঁড়িয়ে হুমকী দিয়েছে। এখনো তাদের এই হুমকী অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

মামলার বিবরনীতে জানাযায়, গত ৮ জানুয়ারী বিকেলে জয়নগর ও দিপ্তি ডাইংয়ের মধ্যে অবস্থিত সরকারী রাস্তাটি দীর্ঘ ২ বছর ধরে বন্ধ করে দিয়ে মানুষ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা করেন দিপ্তি ডাইংয়ের মালিক রফিকুল ইসলাম টিপু। এ নিয়ে এলাকাবাসী একাধিক বার প্রতিবাদ জানালেও টিপু প্রতিবাদকারীদের নানা ভাবে ভয়ভিতি দেখিয়ে আসছিলো। গত ৮ জানুয়ারী এলাকারা দেলোয়ার হোসেন রাস্তা বন্ধ রাখার প্রতিবাদ জানালে নব্য গডফাদার টিপু তার ভাই সাপ্পু, ভাগ্নে রায়হান,রাজিবসহ বেশ কিছু ভাড়াটে সন্ত্রাসী দেলোয়ারের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। এসময় দেলোয়ারের ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এসময় স্থানীয়রা দেলোয়ার গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে খানপুর ৩শ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। টিপুর বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতা, চেকজালিয়াতি, সন্ত্রাসী লালনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদে এলাকাবাসী ঝাড়– মিছিলও করেছিলো। উল্লেখ্য, বরিশাইল্যা টিপু সাবেক এমপি কবরীর সময়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানের ফ্যাক্টরীতে হামলা চালিয়েছিলো বলেও অবিযোগ রয়েছে।