ডেস্ক নিউজঃ নারায়ণগঞ্জে জেলা ছাত্রদলের মিছিলে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। পুলিশ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ওই সময় জেলা ছাত্রদলের অন্তত ১২ জন নেতাকর্মী আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রদলের দুই কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়ায় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার সু-চিকিৎসার দাবিতে মিছিল করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, কারাগারে থাকা বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার সু-চিকিৎসার দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে জেলা বিএনপি। ওই সমাবেশে মিছিল নিয়ে যোগদান করতে গিয়ে চাষাড়া গোল চত্বর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পুলিশের লাঠিচার্জে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি, সেক্রেটারি খায়রুল ইসলাম সজীব, ছাত্রদল নেতা শাকিলসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুত্বর। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সাতজনকে প্রাথমিকভাবে আটক করলেও দুজনকে আটক রেখে বাকিদের ছেড়ে দিয়েছে।

পরে চাষাড়া বালুর মাঠ এলাকায় জেলা বিএনপির আয়োজিত সমাবেশে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্নভাবে যোগদান করেন। এখানে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, সেক্রেটারি অধ্যাপক মামুন মাহামুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার বক্তব্য দেন।

একই স্থানে সকালে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদল। এ সমাবেশে বক্তব্য দেন- মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সাহেদ আহমেদ ও সেক্রেটারি মমিনুর রহমান বাবু।

দুপুরে একই স্থানে মহানগর বিএনপির ব্যানারে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান একই দাবিতে সমাবেশ করেন।

বিকালে একই স্থানে মহানগর বিএনপির আরেকটি ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি দাবি করেছেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল নিয়ে জেলা বিএনপির কর্মসূচিতে যোগদান করতে যাচ্ছিলাম। মিছিলটি চাষাড়া পৌঁছালে পুলিশ অহেতুক লাঠিচার্জ করেছে। এতে ১০ থেকে ১২ জন জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। দুজনের অবস্থা গুরুতর। আমাদের সাতজন নেতাকর্মীকে প্রথমে আটক করে পাঁচজনকে ছেড়ে দিলেও দুজনকে পুলিশ এখনও ছাড়েনি।’

প্রসঙ্গত, ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। তারপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।