নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকার মাতুয়াইলের মা ও শিশু স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও নারায়ণগঞ্জে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রি জাহিদ মালেক। মুলত ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের টানাপোড়েনের জন্যই প্রতিমন্ত্রির এই আকষ্কিক পরিদর্শন। নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যলয়টি অবস্থিত সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায়। বর্তমানে দুটি প্রতিষ্ঠানই ওই যায়গার দাবী করাতে এই টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা: জাহাঙ্গীর আলম প্রধান জানান, ১৯৭৬ সালে জাইকার অর্থায়নে এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধিনে জেডপিজি (জিরো পপুলেশন গ্রোথ) নামক একটি প্রজেক্ট চালু হয় এখানে। যার জন্য স্থানীয়রা জায়গা দান করে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরকে। সেই প্রজেক্ট ১৯৮২ সাল পর্যন্ত চালু থাকে। পরবর্তীতে এখানে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যলয় গড়ে তোলা হয়। এবং সাধারণ মানুষদের পরিবার পরিকল্পনার যাবতীয় সেবা প্রদান করা হয়। পরে মাতুয়াইলে মা ও শিশু স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের কাজ শুরু হয় ১৯৯৪ সালে। সেই সময় তারা শর্ত সাপেক্ষে আমাদের এখানে যায়গা নিয়ে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে যখন তাদের ওই ইন্সটিটিউট চালু হয় তখনও তারা এখানেই থেকে যায়। বর্তমানে এই যায়গাটি তাদের বলে দাবী করছে। মুলত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে মাতুয়াইলের ওই ইন্সটিটিউটটি। আর আমাদের এই পরিবার পরিকল্পনা কার্যলয়টি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধিনে। আর এ দুটো দপ্তরই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের অধিনে। আর সেজন্যই মাননীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আজকে (৫ জুলাই) আমাদের এই কার্যালয়টি পরিদর্শন করেন।

এই সময় প্রতিমন্ত্রি কার্যালয়টি সম্পূর্ণ ঘুরে দেখেন। পরে পরিবার পরিকল্পনা অফিসে বসে স্থানীয়দের নানা অভিযোগ ও দাবি শোনেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, আশেপাশে কোন হাসপাতাল না থাকায় এই দুটি প্রতিষ্ঠানেই সাধারণ মানুষ আসে। কিন্তু এখানে সেবা নিতে আসলে প্রায়ই ডাক্তার পাওয়া যায়না। যার ফলে সেবা নিতে এসে রোগীরা ভুক্তভোগী হয়ে ফিরে যান। মাঝে মধ্যে ডাক্তার পাওয়া গেলেও ঔষধ পাওয়া যায়না। এসব নানা সমস্যা বিদ্যমান থাকায় বিপাকে রয়েছেন আশেপাশের সাধারন মানুষ। এসব সমস্যা পরিত্রাণের জন্য প্রতিমন্ত্রির কাছে স্থানীয়রা এখানে একটি আধুনিক ও মডেল হাসপাতালের দাবি জানান। যেখানে তারা পুর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য সেবা পেয়ে উপকৃত হবে। স্থানীয়দের দাবীর প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহেদ মালিক মন্ত্রণালয়ে এ ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।