একজন অসুস্থ মা ফুটপাতে শুয়ে কাতরাচ্ছেন। পাশে তার দুই অবুঝ সন্তান। মাতৃসেবায় ব্যস্ত এ দুই ছোট্ট শিশু। মাথায় পানি ঢেলে মায়ের জ্বর প্রশমন করার চেষ্টা করছে বড় ছেলেটি। পাশে কারা যেন রুটি, কলা রেখে গেছে।পানি রাখার জন্য কোনো পাত্রও নেই তাদের। কুড়িয়ে পাওয়া মিনারেল ওয়াটারের বোতলেই কাজ চালিয়ে নিচ্ছে শিশুটি। ছোট ছেলেটি আর কিছু করার ক্ষমতা নেই দেখে বিদ্যুতের একটি খুঁটিতে মাথা ঠেকিয়ে রেখে তার অসহায়ত্ব প্রকাশ করছে।রাজধানীর ধানমন্ডির সোবাহান বাগ মসজিদ সংলগ্ন ফুটপাথে ধারণ করা এমনই একটি ভিডিও গত শনিবার (০৭ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে পোষ্ট করেছিলেন সাভার ভলেন্টিয়ার নামের একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পারভেজ হাসান। ভিডিওটির সঙ্গে বিস্তর লিখে শেয়ার দেওয়ার পরপরই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। যা একপর্যায়ে সংবাদ মাধ্যমেও চলে আসে।এ নিয়ে রোববার নিউজ প্রতিদিন ডট নেটে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ফুটপাত বাসীদের জীবনের এমন করুন চিত্র দেখে সেখানে অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করে নানা মন্তব্য করছিলেন। আবার মা-ছেলেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ইচ্ছে প্রকাশ করছিলেন অনেকেই।এমন সময় রোববার রাতে জানা গেল সেদিন শুধু ফেসবুকে ভিডিওটি পোস্ট করেই থেমে থাকেনি পারভেজ। তিনি তাঁর ৫ বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় এই মা’কে ভর্তি করেছেন হাসপাতালে।বিষয়টি নিশ্চিত করে অন্য এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে পারভেজ লিখেন, ‘কালকে যে অসহায় বাচ্চা আর মহিলার ভিডিওটি যাদের ইমোশনাল করেছে? তাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আসলে আমি আপনাদের ইমোশনাল করতে চাইনি। আমি জাস্ট আমাদের সমাজের প্রতিদিনের একটি করুণ দৃশ্য তুলে ধরতে চেয়েছি! প্রতিদিন বা মাঝে মাঝেই এইসব ফেস করতে হয়। তাই চেয়েছি আপনারা যাতে নিজ নিজ জায়গা থেকে তাদের জন্য একটু এগিয়ে আসেন! যাতে মানুষে মানুষে কোন ভেদাভেদ না থাকে। কারণ আমি বিশ্বাস করি, সবার উপরে মানুষ সত্য! ভিডিও টা আপ দিয়ে আমি ভাবিনি আপনারা এতো সাড়া দিবেন। তার জন্য আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ! আল্লাহ আপনাদের এই মানবিক অন্তরকে আরো উজ্জ্বল করুক!’দুই শিশুর মা ভালো আছেন জানিয়ে তিনি লিখেন, ‘আপনারা যারা খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন যে, এই অসহায় মহিলা কেমন আছে? বা সেই বাচ্চাগুলোর কি খবর? তাদের সবাইকে আনন্দের সাথে বলছি, তারা এখন সুস্থ আছে। আজ সেই অসহায় মহিলাকে আমি আর ৫ জন ভাইয়া মিলে হসপিটালে ভর্তি করিয়েছি। তখন তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ডাক্তার বলেছে, তিনি আল্লাহর রহমতে ঠিক আছেন। কারণ আগের রাতে তাকে মেডিসিন দেওয়া হয়েছিলো! চিকিৎসা শেষ করে মহিলার ছোট দুটো বাচ্চার জন্য নতুন জামা পেন্ট সাথে মহিলার জন্য নতুন সাড়ি কিনে দেওয়া হয়েছে! তাদের সাময়িক খাবার দেওয়া হয়েছে। এর ভেতর যাদের কথা বলতে চাই! ইয়ামিন ভাইয়া এবং সাথে আরো ৩ জন ভাইয়া ছিলো যারা যথেষ্ট সাহায্য করেছে, ডাক্তার তার ফি নেয়নি!’পারভেজ আরও লিখেন, ‘এই অসহায় পরিবারের কথা বলে কেউ যদি কোন মানবিক আবেদন করে? তাহলে তার সেই আবেদনে সাড়া দিবেন না। মনে করেন এই পরিবারটির একটা ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছে! সো কেউ প্রতারিত হবেন না। আবারো ধন্যবাদ দিচ্ছি যারা আজ আমার পাশে ছিল। মানবতার জয় হোক।