মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নে আদিযুগ থেকে চলে আসা আদিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে টেটা বল্লমের সংঘর্ষের শেষ কোথায়? কোন দিন কি, শেষ হবে এই টেটা বল্লমের সংঘর্ষ? এমনটাই প্রশ্ন তুলেছেন ওই এলাকার হাজার হাজার নিরহ মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে ওই এলাকার সাধারন মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকেই চর দখল নিয়ে শুরু হয়েছিল উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসমহল বালুচর গ্রামের মোঃ সেরাজুল, জালাল মাস্টার, বনী আমি চেয়ারম্যান গং এবং মোল্লা কান্দি গ্রামের আলী হোসেন সরকার, গেদা মেম্বার, লেচু বকসা, গোলাম হোসেন চেয়ারম্যান পানিয়ারচর গ্রামের আয়ান প্রেসিডেন্ট গং এই টেটা বল্লম সংঘর্ষের শুরু করেছিল। তারই ধারাবাহিকতায় অদ্যাবধি ক্রমশই চলছে এই টেটা বল্লম সংর্ঘষ।

বর্তমানে মোল্লাকান্দি বালুচর গ্রামের নুরুবাউল, নাছির মেম্বার, কামাল মেম্বার, আমজাদ সরকার, আমীর হোসেন ও আলেক চাঁন মুন্সী, খাসমহল বালুচর গ্রামের শুক্কুর আলী মাদবর, রাজনগর গ্রামের আফজাল মেম্বার, ফিরোজ মেম্বার, আকবর নগর গ্রামের মুক্তার হোসেন, হাজী মমতাজ উদ্দিন, দক্ষিন কেরানীগঞ্জ জাজীরা এলাকার কাশেম নেতা, নারয়ানগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার বক্তাবলী ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামের হাজী সামেদ আলী গড়ে তুলেছে টেটা বল্লম বাহীনি। এছাড়াও লতব্দী ইউনিয়নের ভাসানচর, দোসরপড়া, কংশপুরা, রামকৃষ্ণদী, গোডাউন বাজার, বালুচর ইউনিয়নের চান্দেরচর, পানিয়ারচর গ্রামের লোকজনও এ টেটা বল্লম সঘর্ষের মূল হোতাদের সাথে সম্পূক্ত রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ থেকে শুরু করে প্রশাসনের লোকজন স্থানীয় ভাবে বহুবার মিমাংসা করে দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কেউ কোন সুরাহা দিতে পারেন নি। এমনকি কয়েকদিন আগে বর্তমান টেটা বল্লম সংঘর্ষের মূল হোতাদের সিরাজদিখান থানায় ডেকে এনে সুরাহা করার চেষ্টা করলে তারা মন থেকে মেনে নেন নি। তলে তলে তারা সংঘর্ষের পায়তারা চালিয়েই যাচ্ছে। এমনকি তারা তাদের লোকজন দিয়ে দেশীয় অস্ত্র মজুদ এবং সংগ্রহ করছেন।

এব্যপারে ওই এলাকার একাধীক গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় বালুচর বাজারের ব্যবসায়ীরা বিষয়টি নিয়ে প্রতিনিয়তই সংঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। কখন যেন আবার শুরু হয়ে যায় এই টেটা বল্লম সংঘর্ষ। তারা মনে করছেন বাজারের ইজারা এবং ইট ভাটাকে নিয়েই এই সংঘর্ষ ঘটে।

নুরু বাউল জানান, আমাদের পূর্ব পুরুষ থেকেই চলে আসছে টেটা বল্লম সংঘর্ষ। আমরাও নিজেদের সম্পদ এবং নিজের বংশের লোকদের রক্ষা করতে টেটা সংঘর্ষে জড়িত হতে হয়েছে। তবে আমরা যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করছি এই টেটা বল্লম সংঘর্ষ যেন আর না হয়।

আলেক মুন্সী জানান, টেটা বল্লম সংঘর্ষ করার আমাদের কোন ইচ্ছাই নাই। তারপরও টেটা বল্লম সংঘর্ষে জড়িত হতে হয় নিজের বাপ দাদার সম্পদ রক্ষার্থে। আপনারা জানেন বিগত দিনে আমার ও আমার বংশের জমি এবং ইট ভাটা জোর করে দখল করে নিয়ে গেছে আমাদের প্রতিপক্ষ।

আমার বংশের ২৮টি বসত ঘর আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলেছিল প্রতিপক্ষের লোকজন। প্রতিনিয়তই আমাদের ভয়ের ভিতরে থাকতে হয় কখন জানি আবার সেগুলো ধংশ করে দেয় তারা। আমি বর্তমানের বালুচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হয়েও এ নির্যাতনের স্বীকার। আমি প্রশাসন এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অনুরোধ করবো যেন এই টেটা বল্লম সংঘর্ষের ইতি টানার জন্য।

কাশেম নেতা জানান, টেটা বল্লম সংঘর্ষের কোন প্রয়োজন আমাদের নেই। ফতুল্লা থানাধীন আকবরনগর গ্রামের সামেদ আলী বাহীনি আমাদের জাজিরা ও সিরাজদিখানে জোর করে ঢুকে মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং জোর দখলকে প্রতিহত করতেই আমাদের এই পন্থা ব্যবহার করতে হচ্ছে। আমাদের এমন কেউ যদি আসতো এই টেটা বল্লম সংঘর্ষ বন্ধ করার জন্য তাহলে আমরা তার কাছে আজিবন কৃতজ্ঞ থাকতাম।

এ ব্যাপারে সিরাজদিখান পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ হেলালউদ্দিন জানান, আমি সিরাজদিখান থানায় যোগদানের পর টেটা বল্লম সংঘর্ষ এবং টেটা বল্লম সংঘর্ষের প্রস্তুতি যা ঘটেছে সিরাজদিখান থানার ওসি মোঃ আবুল কালাম এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে দু-পক্ষের দ্বন্দ্ব মীমাংসা করে দিয়েছি।