স্টাফ রিপোর্টারঃ আড়ং ফ্যাশন হাউজের নারী কর্মী হ্যাপী আক্তারের বাড়িতে গিয়ে হুমকীর অভিযোগে ফতুল্লার লেডী মাস্তান পলিনসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় সাধারন ডায়েরী দায়ের হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় আড়ং ফ্যাশনের নারী কর্মী হ্যাপী ফতুল্লা মডেল থানায় এসে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করেন। জিডি নং ৩০১।

হ্যাপী জানান, বিবাদী পলিন(২৫) পিতা অজ্ঞাত, সাং লালপুর(ব্রাজিল বাড়ি সংলগ্ন), ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ। বিবাদী পলিন ও আমি এক সাথে নারায়ণগঞ্জের আড়ং ফ্যাশন হাউজ চাকুরী করতাম। এসময় বিবাদী পলিনের সাথে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার সাথে কথাকটাকাটি হয়। এর জের ধরে বেশ কিছু দিন যাবত বিবাদী আমাকে নানা ভাবে ভয় ভিতি দেখিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে আমাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিতও করেছে। এবং গত সোমবার বিকেলে ৪টায় অজ্ঞাত নামা ৩/৪জন যুবক আমার পোষ্ট অফিসস্থ বাসায় এসে এই বলে হুমকী দেয় যে, পলিনের বিষয় নিয়ে আর কোন বাড়াবাড়ি করবেন না, তা হলে পরিনতি ভাল হবে না। রাস্তাঘাটে আমাকে যে কোন ধরনের ক্ষতি সাধান করবে বলে হুমকী দিয়ে চলে যায়। এ সময় তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা দ্রæত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

হ্যাপীর অভিযোগ এর আগে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে পলিন কয়েকজন ছেলেকে নিয়ে এসে আমাকে দেখে নেয়ার হুমকী প্রদান করে। এসময় আড়ংয়ের অপর কর্মী দিপু পলিনকে উস্কে দেয়। এ ঘটনায় আমি আতঙ্কিত হয়ে আমার পরিবারকে জানালে পরিবারের পক্ষ থেকে আপোষ করার চেষ্টা করলে পলিন আরো ক্ষিপ্ত হয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে আড়ংয়ে প্রবেশ করে আমাকে মারধর করে এবং সে নিজেকে ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ দাবি করে আমার বাড়িতে সন্ত্রাসী পাঠাবে বলে হুমকী দেয়। এ সময় আড়ংয়ের অন্যান্য কর্মীরা আমাকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে তাদেরও দেখে নেয়ার হুমকী দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আড়ংয়ের এক কর্মী জানান, আমরা মূলত ওসমান পরিবারের কথা শুনেই আতঙ্কিত হয়ে পরি।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, পলিন ফতুল্লার লালপুরের ব্রাজিল বাড়ির পাশে মামা বাড়িতে থাকে। এখানে থেকেই সে পড়াশুনা এবং রাজনীতি করেন। তার চলাচলে স্থানীয়রা অতিষ্ঠ এমন দাবি স্থানীয়দের। এছাড়া পলিন বিভিন্ন সময়ে ওসমান পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এমন ক’জন নেতার সাথে ছবি তুলে তা পলিনের নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে আপ করে নিজেকে ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠজন দাবি করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সাবেকসভাপতি সাফায়েত আলম সানি জানান, এই মেয়ে ছাত্রলীগের কেউ না, জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি রাফেল প্রধান জানান, এই মেয়েকে ব্যাক্তিগত ভাবে চিনি না, সে ছাত্রলীগের কেউ নয়। প্রসঙ্গত, বিগত দিনে একাধিকবার সাংসদ সেলিম সমান, সাংসদ শামীম ওসমান এবং অয়ন ওসমান বলেছেন, ওসমান পরিবারের নাম ব্যবহার করে কেউ কোন প্রকার অপরাধ করলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিন।

উল্লেখ্য, পলিনের বাবা বিগত ৮ বছর আগে লালপুর কানন স্কুলের পাশে জেনারেটরের তার চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়রাদের হাতে আটক হয়। এসময় স্থানীয়রা তাকে বৈদ্যতিক খুঁটির সাথে বেধে মারধর করে এবং মাথার চুল কেটে দেয়।