নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের আকবর নগর এলাকায় রহিম হাজ্বী ও সামেদ আলী নিজেদের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় আঃরহিমের সমর্থক জয়নাল আবেদীনের মৃত্যুতে ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে নিহতের স্বজনরা। শুক্রবার বিকেলে ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের সামনে এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মুক্তিযোদ্ধ লাল চাঁন মোদবরের সভাপতিতে প্রতিবাদ সভায় বক্তারা আঃ রহিম ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের দাবি জানান। এসময় বক্তব্য রাখেন,কোতালের বাগ জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মাহফুজুর রহমান, মসজিদের মোতাওয়াল্লি আশরাফ উদ্দিন আশা, হাজী নাহিদ হাসান সবুজ, নিহতের মেয়ে জামাতা শ্যামল,ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান জুয়েল, বাসেদ প্রধান প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন,জুয়েল, সাঈদ, আ: রহিম, জসিম,তাইজুদ্দিন,আরমান,ইসরাফিল, মাহমুদ মেম্বার,ইমরান,শাহাদাত হোসেন, সবুরসহ কয়েক শতাধিক মানুষ প্রতিবাদ সভায় অংশ নেয়।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ফতুল্লার বক্তাবলী এলাকার আকবর নগর গ্রামের সামেদ আলী হাজ্বী  ও রহিম হাজ্বীর বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ সামেদ আলী বাহিনীর হামলায় আহত টেটাবিদ্ধ জয়নাল আবেদীন মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোরে তিনি মারা যান।

এছাড়া রহিম হাজ্বী বাহিনীর মৃত তাহের আলীর স্ত্রী নাসিমা (৫০),রিয়াজুলের স্ত্রী আউশি (৩০),রমজান আলী হাজ্বীর পুত্র আলমগীর (৪৫), সামেদ আলীর পুত্র রনি (৩৫),  ফুলু মাদবরের পুত্র নবী হোসেন (৩৫) ও কবির হোসেন( ৩৭)। নবী
হোসেনের হাতের কনুইতে টেটাবিদ্ধ হলে প্রথমে মুন্সিগঞ্জে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় নবী হোসেনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়।

এলাকাবাসী জানান,বিকাল ৫ ঘটিকার সময় রহিম হাজ্বীর ভাতিজা ফুলু মাতবরের পুত্র কবীর হোসেন,নবী হোসেন সহ তার বন্ধুরা আকবর নগর মসজিদের সামনে বসে ছিল। সামেদ আলীর পুত্র ওসমানসহ তার সহযোগীরা মসজিদের সামনে আসলে তর্কবির্তক হয়। এক পর্যায়ে সামেদ আলী বাহিনীর অর্তকিত হামলা চালায়। এতে রহিম হাজ্বীর ভাতিজা টেটাবিদ্ধ হয়।

সামেদ আলীর লোক জন জানান,ডাকাতি করার উদ্যেশ্য রহিম হাজ্বী বাহিনীর সদস্য ফুলু মাদবরের পুত্র কবির হোসেন,নবী হোসেন এর নেতৃত্বে কাদির, রিয়াজুল,টারজান,সুইজা,জিহাদ,সাইদুর,আল আমিন,রশিদ,জাহিদ, হাসান সহ ৬০/৭০ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ভাষান মাদবরের পুত্র সামসুলের বাড়ি,সফি মাদবর সহ ৩/৪ টি বাড়ি ভাংচুর করে লুটপাট চালায়।

সামসুলের স্ত্রী লিমা জানান,সন্ত্রাসীরা ভাংচুর করে ৫০/৬০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।এ ছাড়া ৮ টি গরু ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে জানান আলমগীর হোসেন।

রহিম হাজ্বীর ভাই ফুলু মাদবর বলেন,আজ সামেদ আলী বাহিনীর লোকজন অর্তকিত ভাবে আমার ছেলে নবী হোসেন ও কবীর হোসেনের উপর হামলা চালায়।সামেদ আলীর লোকজনের বাড়িঘর ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা সাজানো।

সামেদ আলী জানান,রহিম হাজ্বীর লোকজন নিজেদের টেটাঁয় নিজেরা টেটাঁবিদ্ধ হয়েছে।

এলাকাবাসি জানায়,রহিম হাজ্বী ও সামেদ আলী নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে প্রায় সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। মাস খানেক আগে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শাহ মঞ্জু কাদের ও বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলীর উপস্থিতিতে উভয়কে মিলিয়ে দেয়া হয়।

দুই গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের এসআই শাফিউল আলম ও এসআই কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থল হতে ১১ টি টেটাঁ উদ্ধার করে।