নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় চার যুবকের গুলি করে হত্যার ঘটনায় হত্যাসহ পুলিশ দুটি মামলা দায়ের করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া চারজনের পরিচয় সনাক্ত হলেও পুলিশ মামলায় চার যুবকের অজ্ঞাত পরিচয় দেখানো হয়েছে। নিহতরা লুৎফর মোল্লা, সবুজ সরদার, ফারুক প্রমানিক ও জহিরুল হক।

সোমবার (২২ অক্টোবর) সকালে আড়াইহাজার থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিউদ্দৌলা বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেছে।

এদিকে গুলিবিদ্ধ চার যুবকের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে লাশের পোশাক দেখে চারজনের পরিচয় সনাক্ত করেছে নিহতের স্বজনরা। আর নিহত সবুজ সরদার, জহিরুল ও ফারুক প্রমানিক তিনজনই পাবনার আতাইকুলা থানাধীন ধর্মগ্রাম পুষ্পপাড়া এলাকার বাসিন্দা। আর লুৎফর মোল্লা ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার উত্তর আকনবাড়িয়ার কালিবাড়ীর মনসুর মেল্লার ছেলে। সে ঢাকার রামপুরার বাগিচারটেকের এলাকায় বসবাস করে গাড়ি চালাতো।

নিহত লুৎফর মোল্লার স্ত্রী রেশমা আক্তার বলেন, তার স্বামী বাস চালক। শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে বাসা থেকে বের হন। এবং সন্ধ্যা ৭টার দিকে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামেন। রাত ১টায় স্বামীর সাথে তার শেষ বারের মতো কথা হয়। এরপর থেকে স্বামীর মোবাইল ফোন বন্ধ পান। রোববার সকালে টেলিভিশনে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ৪ জনের লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে ছুটে আসেন তিনি। পরে লাশ দেখে স্বামীকে সনাক্ত করে।

নিহত ফারুকের বাবা জামাল প্রমানিক বলেন, ১৫ বছর যাবত রূপগঞ্জের গাউছিয়ায় বাস চালাতো। গত সোমবার ১৫ অক্টোবর ডিবি পরিচয়ে গাউছিয়া থেকে একই গ্রামের ৪ জনকে ধরে নিয়ে যায়। যার মধ্যে ২জনের লাশ আড়াইহাজারের অজ্ঞাতদের মধ্যে পাওয়া গেছে। সবুজ সরদার ও ফারুক প্রমানিক।

সবুজ সরদারের স্বজনরা জানান, খাইরুল সর্দার পেশায় অটোরিকশা চালক। সবুজ ঢাকায় বেকারিতে চাকরি নেয়ার কথা বলে ২ সপ্তাহ আগে গ্রাম ছাড়ে। তার সাথে আরও দুইজন নিখোঁজ আছে কিন্তু মর্গে রাখা দুইজন তারা না বলে খাইরুল সর্দারের ভায়রা জানান।

জহিরুলের শ্বশুর নজরুল বলেন, জহিরুল বেকারীতে কাজ করতো। জহিরুলকে বেকারিতে কাজ করার জন্য গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছিল ফারুক। ফারুক ছিনতাইতারী চক্রের সাথে জড়িত বলে শুনেছি। ফারুকই গ্রাম থেকে তিনজনকে শহরে নিয়ে এসেছে কাজ করানোর জন্য।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, ৪ যুবকের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ৪টি লাশের মধ্যে তিনজনের মাথায় গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে চারজনেই মাথার পেছন থেকে আঘাত করা হয়েছে এবং ভারী কোন বস্তু দিয়ে মাথা ও মুখমন্ডল থেতলে দেয়া হয়েছে। শনিবার রাতের কোন এক সময়ে চারজনকে হত্যা করা হয়েছে।

এদিকে চারজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আড়াইহাজার থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিউদ্দৌলা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। আর পুলিশের এক অফিসার বাদী হয়ে অস্ত্র মামলা দায়ের করে।

আড়াইহাজার থানার ওসি এম এ হক দুটি মামলা দায়েরের বিষয় সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রোববার ভোরে এলাকাবাসী মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে চার যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি লাশের মাথায় ও কপালে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় রয়েছে। হাসপাতালের তথ্য সূত্রে জানা গেছে চারজনের তিনজনের মাথায় গুলি করা হয়েছে। নিহত যুবকদের এখনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। লোক মুখে শুনেছি চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে লাশ দেখে সনাক্ত করেছে। নিহতের স্বজনরা এখনো আমাদের কাছে কেউ আসেনি।

ওসি আরো জানান, ধারণা করা হচ্ছে অন্য কোথায় থেকে মেরে এখানে ফেলে রাখা হয়েছে। লাশের নিকট থেকে ২ টি দেশীয় পিস্তল, ১রাউন্ড তাজা গুলি ও ১টি প্রাইভেট কার (যার নম্বর ঢাকা মেট্রো চ ১৩-০৫০১) উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রোববার সকালে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়েকের সাতগ্রাম ইউনিয়নের পাচঁরুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ৪ যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এইসময় লাশের পাশ থেকে দুটি পিস্তল ও একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ লাশ গুলো নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।