ডেস্ক নিউজঃ আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়ায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ সব দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, ‘আমরা চাই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হোক। নির্বাচনে জনগণ যাদেরকে ভোট দেবে তারাই জয়লাভ করবে।’

রবিবার দুপুরে বিএনপির দুই জোট ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলীয় জোট ভোটে আসার ঘোষণা দেয়ার পর বিকালে দলের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এই কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি এবং তার শরিকরা। এবারও তারা আন্দোলনের কথাই বলছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অবস্থান পাল্টে ভোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

এর আগে ঐক্যফ্রন্টসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে সংলাপে বসেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদ ভেঙে নির্বাচনের দাবি নাকচ হলেও তিনি সবাইকে নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সকলে মিলে নির্বাচন করব। জনগণ যাকে চাইবে তাকে যেন ভোট দেয়, সেটাই আমরা করব। সবাই যেহেতু নির্বাচন করবে সেজন্য সবাইকে ধন্যবাদ ও স্বাগত জানাচ্ছি।’

বিভিন্ন দল ও জোটের সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনটা কীভাবে করব এবং নির্বাচন যাতে সুষ্ঠভাবে সে আলোচনা হয়েছে। অনেকে অনেক দাবিদাওয়া করেছিল। বেশকিছু আমরা মেনে নেই। তাছাড়া নির্বাচনটা যেন সকলের জন্য অংশগ্রহণমূলক হতে পারে, সবাই যেন নির্বাচন করার সুযোগ পায় সেদিকে আমরা দৃষ্টি রাখব, সে কথা আমরা দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সংলাপে ২৩৪ জননেতা ও ৭০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। সাতদিনে ২৪ ঘণ্টা ৫ মিনিট কথা হয়।
আওয়ামী লীগ দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যে উন্নয়নটা করেছি তার ধারা যেন অব্যাহত থাকে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এই গতিটা যেন কোনমতেই থেমে না যায়।

‘বাংলাদেশকে আমরা যেভাবে গড়ে তুলতে চাই উন্নত-সম্মৃদ্ধ দেশ হিসেবে, সেভাবে যেন গড়ে তুলতে পারি সেদিকে দৃষ্টি রেখেই আমরা আলাপ-আলোচনা করি।’

প্রতিটি আসনেই উপযুক্ত প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হবে জানিয়ে জোটের প্রার্থীদের জন্য পরে আসন ছাড়ার কথাও জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ওবায়দুল কাদের, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও রশিদুল আলম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থতার জন্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও মো. আলাউদ্দীন সভায় উপস্থিত হতে পারেননি। কাজী জাফরউল্লাহ বিদেশে রয়েছেন।