মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিসিক শিল্প নগরীতে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত দেড় ঘন্টা ব্যাপী এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ সময় ফতুল্লায় বিসিক শিল্প নগরীর ফকির নীট ওয়্যার নামের একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভসহ বেশ কয়েকটি কারখানা ভাঙচুর করেছে। পুলিশ বাধা দিলে এ সংঘর্ষের ঘটনায় শিল্প পুলিশের একজন সহকারি পুলিশ সুপার, ফতুল্লা থানার ওসি ও বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ প্রায় অর্ধশত সাধারণ শ্রমিক আহত হয়েছেন।

বিকেএমইএর’র সাবেক সভাপতি ও এম.ভি নীট ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালনা মো: হাতেম জানান, উৎপাদান মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে ফকির নীটওয়্যার কারখানার শ্রকিদের মধ্যে গত তিনদিন ধরে শ্রমিক অসন্তোষ চলছিল। মালিকপক্ষ মজুরি বৃদ্ধি করলেও দাবি অনুযায়ী বৃদ্ধি না হওয়ায় শ্রমিকরা গতকাল রোববার কারখানাটির অভ্যন্তরে বিক্ষোভ করে।

এ অসন্তোষ নিরসনে কারখানাটির মালিকপক্ষ আজ সকালে বিসিক কর্তৃপক্ষ, বিকেএমইএ কর্তৃপক্ষ ও শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে আলোচনায় বসেন। তারা আগামীকাল বিভিন্ন কারাখানার মালিকদের সাথে আলোচনা করে তাদের সাথে উৎপাদন মজুরি সমন্বয় করার আশ্বাস দিলেও শ্রমিকরা তা মেনে না নিয়ে বিসিকের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে এ বিক্ষোভ পুরো বিসিকে ছড়িয়ে পড়লে বিশেষ পোশাকধারী বহিরাগত শতাধিক যুবক এসে শ্রমিকদের সাথে যোগ দেয়।

এসময় তারা বিসিকসহ আশপাশের ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। বিসিকের এম.ভি নীটওয়্যার, নরসিংপুর এলাকার সাহিল গ্রুপ, হাজী হাসেম স্পিনিং মিল ও তারা স্পিনিং মিলে ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে অসংখ্য জানালার কাঁচ ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

তিনি আরো জানান, শ্রমিক ও বহিরাগতরা মিলে শিল্প মালিকদের কয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়িও তারা ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও ফতুল্লা থানা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারাসহ বিপুল পরিমান পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এতে শ্রমিকরা পুলিশের উপর ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে শুরু হয় শ্রমিক-পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

ঘন্টাব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের সময় শিল্প পুলিশের সহকারি পুলিশ সুপার, ফতুল্লা থানার ওসি মঞ্জুর কাদের ও ৭/৮জন পুলিশ সদস্য সহ প্রায় অর্ধশত সাধারণ শ্রমিক আহত হয়। এসময় পুলিশ উত্তেজিত হয়ে বহিরাগতদের লাঠিচার্জ করে। এসময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের কারণে বিসিক সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ সড়কে প্রায় দুই ঘন্টা যানচলাচল বন্ধ থাকে।

বিকেএমইএ’র সাবেক এই কর্মকর্তা ও শিল্প মালিক জানান, এ ঘটনার নেপথ্যে একটি কুচক্রী মহল জড়িত রয়েছে যারা এদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংস করে দেয়ার ষড়যন্ত করছে। তিনি এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।

নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশ-৪ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহাবুব উন নবী জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্তণে আনার জন্য শ্রমিকদের বোঝাতে চেষ্টা করে। তবে শ্রমিকদের মধ্যে বহিরাগত শতাধিক যুবক মিলে গিয়ে পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ হামলা করে। তারা বেশ কয়েকটি শিল্প কারখানা ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এতে পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে বহিরাগতদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

শ্রমিকদের হামলায় শিল্প পুলিশ ও ফতুল্লা থানার আহত পুলিশ কর্মকর্তা বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। তবে এর সংখ্যা এখন নিশ্চিত করে বলা যাবে না। পরে খোঁজখবর নিয়ে বলা যাবে। এ ঘটনার পর বিসিক শিল্প নগরীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ সড়কে স্বাভাবিক যানচলাচল শুরু হয়েছে।

শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো জানান, পুলিশের উপর হামলা, শিল্প প্রতিষ্ঠান ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার ব্যাপারে তদন্ত কাজ চলছে। তাদেরকে শনাক্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।