নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় রাজনীতিতে একক ভাবে প্রভাব বিস্তার করতে ছাত্রলীগ নেতা মান্নান বাহিনীর ছিচকে সন্ত্রাসীরা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নোমান আহম্মেদ অর্কোসহ তার বড় ভাইয়ের উপর হামলা চালিয়েছে। এসময় নামধারী ছাত্রলীগের ক্যাডাররা নোমান আহম্মেদ অর্কোসহ তার বড় ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। তবে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মান্নানের ইন্ধনে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার বিকেলে ফতুল্লার মুসলিমনগর নয়াবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটলে শনিবার সকালে আহত নোমান আহম্মেদ অর্কো বাদী হয়ে মান্নান বাহিনীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে।

এদিকে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এমএ মান্নান নিজেকে এমপি শামীম ওসমান আস্থাভাজন নেতা হিসাবে এলাকায় জাহিল করে ভাতিজা বিল্লালকে দিয়ে একটি বিশাল বাহিনী গড়ে তোলে। এ বাহিনী মুসলিমনগর নয়াবাজার সহ আশে পাশের এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। এ বাহিনীর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে নাজেহাল করে দেয়। আর মান্নানের ইন্ধনেই সন্ত্রাসী বাহিনীরা এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। এতে মান্নান ঐ এলাকার আওয়ামীলীগ ও এমপি শামীম ওসমানের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলে এলাকার সচেতন মহল মনে করছে। আর শুক্রবার স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নোমান আহম্মেদ অর্কোসহ তার বড় ভাইয়ের উপর হামলার ঘটনায় এলাকায় নিন্দ্রার ঝড় উঠেছে। এছাড়া আহতদের ছবি দিয়ে ফেইসবুকে বিভিন্ন মহলে সন্ত্রাসীদের ধিক্কার জানাচ্ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লার মুসলিমনগর নয়াবাজার এলাকার মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলামের ছেলে নোমান আহম্মেদ অর্কো স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সাথে সাথে সম্পৃক্ত। তার সমর্থীত লোকজন নিয়ে স্বেচ্ছাসেবকলীগের ব্যানার নিয়ে আওয়ামীলীগ ও শামীম ওসমানের মিছিল মিটিংয়ে যোগদান করেন। বিশেষ করে অর্কো মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন ও ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের অধিনে রাজনীতি করে। আর স্বেচ্ছাসেবকলীগের রাজনীতি করার অপরাধে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মান্নান অসন্তোষ প্রকাশ করে। যার কারনে নোমান আহম্মেদ অর্কোকে দমাতে তার পিছনে মান্নান বাহিনীর লোককে লেলিয়ে দেয়। তার কারন মান্নান চায় মুসলিমনগর নয়াবাজার এলাকায় তার অধিনে ছাড়া কেউ অন্য কারোর রাজনীতি করতে পারবে না। সেই সুবাধে মান্নানের প্রধান হাতিয়ার ভাতিজা বিল্লালের লোকদের দিয়ে অর্কোকে এলাকায় কোনঠাসা করতে চাইছে। সম্প্রতি অর্কোর সাথে এলাকার লোকজন স্বেচ্ছাসেবকলীগের মিছিলে যাওয়ার অপরাধে রকি নামে এক ব্যক্তিকে মান্নান বাহিনীর সদস্য জজ মিয়া, আলম, নিজাম, হেলাল সহ আরো বেশ কয়েকজন মিলে মারধর করে। এতে রকি কোন প্রতিবাদ করেনি। শুক্রবার বিকেলে রকিকে ফের মারধর করার সময় অর্কো প্রতিবাদ করায় মান্নান বাহিনী ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বেদম মারধর করতে থাকে। এসময় অর্কোর বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল ইমরান তার ছোট ভাইকে বাচাতে গেলে তাকেও মারধর করে। পরে মান্নান বাহিনীর ছিচকে সন্ত্রাসীরা অর্কোর বাড়িতে হামলা চালায় এবং তাদের বাড়ির গেইট ভাঙচুরের চেষ্টা করে। পরে নোমান আহম্মেদ অর্কোসহ তার বড় ভাইকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩’শ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। তারা চিকিৎসা শেষে নোমান আহম্মেদ অর্কো বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

ফতুল্লা মডেল থানার এসআই কাজি এনামুল নোমান আহম্মেদ অর্কোর দায়েরকৃত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, যারা এ হামলার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।