আই এস হচ্ছে সেই ইহুদীদের দালাল,যারা অটমন সাম্রাজ্য তুরস্কের খেলাফতকে সম্মিলিতভাবে একত্রিত হয়ে ১৯২৪ সালে নষ্ট করেছিল এবং তাদের তৈরি করা বংশধর নাস্তিক ফেরাউনের উত্তরসূরি কামাল পাশাকে ১৯২৪ সালে তুরস্কের রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসিয়েছে। কিন্তু মনে রাখবেন হিরার জ্যোতি,হিরক্ষনদের জ্যোতি ছাই দিয়ে ঢাকা যায় না। ১৯২৪ সালে খেলাফতের বিপক্ষে কামাল পাশা তুরস্কের ক্ষমতা নিল। ক্ষমতা নিয়ে এসে ঘোষণা দিলঃ তুরস্কের ভূখণ্ডের কোন এক ইঞ্চি জায়গাতে ইসলাম নামে কোনকিছুর অস্তিত্ব থাকবে না। মসজিদ গুলোকে নাইট ক্লাব বানিয়েছে। মসজিদের মিনারকে ভেঙ্গে চুরমার করেছে। আজানকে বন্ধ করেছে। দাড়ি রাখাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। মাথার টুপি কেরে নিয়েছে। মুসলমানের হেজাবকে খুলে দিয়েছে। চরম Secularism (ধর্মনিরপেক্ষতাকে) সে প্রতিষ্ঠা করলো। কিন্তু তুরস্কের মুসলমানের হৃদয় থেকে কুরআন ও সুন্নাহর ভালোবাসার ইসলামের ঐতিহ্যকে তাঁরা মুছে দিতে পারে নাই।৮০ বছর পর আজ চরম ইসলামপন্থী রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান তুরস্কের ক্ষমতায় বসে আছে। তাঁর পূর্বসূরি সোলেমান ডেভিডেল, নাজমুদ্দীন আরবাকান তাঁরা খুব কষ্ট করে গেছেন। তারা সকলেই বদিউজ্জামান নূরছী (রহঃ)-এর অনুসারী। যিনি তুরস্কের আধ্যাত্মিক নেতা। মুজাদ্দেদীয়া তরীকার পীর ছিলেন। তাঁর সেই মুজাদ্দেদীয়া তরীকার পীর বদিউজ্জামান নূরছী (রহঃ) চরম ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র তুরস্কের মধ্যে দাওয়াতের কাজ চালালেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষাধিক ছাত্র তাঁর মুরিদ হয়ে গেল। সে সরকার তাঁকে ২৭ বার কারাগারের ভিতরে নিয়েছে। আর আমাদের দেশের পীররা চরম সুবিধাবাদী। যখন যে সরকার তারা সেই সরকারের অনুগত্য হয়ে যায়। এছাড়া পীরালীটাকে এখন তারা পুরোহিত তন্ত্রে পরিণত করেছে। ইসলামের পক্ষে দ্বীনের পক্ষে সত্যের পক্ষে এদের কোন বক্তব্য নাই। কিন্তু সত্যিককারের যারা পীর মাশায়েখ সাড়াজীবন তারা আল্লাহর দ্বীনের পক্ষে, শিরক কুফর এবং বাতিলের বিপক্ষে খেলাফতের পক্ষে, হুকুমতে ইলাহির পক্ষে কাজ করে গেছেন। কেউ প্রকাশ্যে,কেউ অপ্রকাশ্যে,কেউ প্রত্যক্ষভাবে,কেউ পরোক্ষভাবে। তাঁদেরই একজন বদিউজ্জামান নূরছী (রহঃ)। তাঁরই অনুসারী নাজমুদ্দীন আরবাকান,সোলেমান ডেভিডেল। আর তাঁদেরই অনুসারী রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। সেখানে এখন মসজিদে আজান হয়। মহিলারা স্কার্ফ পরিধান করে সংসদে ঢুকতেছে। পুরুষরা দাড়ি রাখতেছে। ইসলামের পক্ষে সারা বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার ভূমিকাতে চলে আসতেছে তুরস্ক। তাহলে ১৯২৪ সালে সমস্ত কাফের মুশরেক একত্রিত হয়ে,রাশিয়া,ব্রিটেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্মিলিতভাবে তারা তুরস্কের খেলাফতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। সেই ইসলামের মৌলিক একটি বিষয় খেলাফতকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ইহুদীরা আইএসকে মাঠে নামিয়েছে।

আইএস ২টি কথা বলতেছেঃ একটি হল জিহাদ, আরেকটি হল খেলাফত। এখন যারা ইসলাম বুঝেনা জানেনা,তাদের মধ্যে জিহাদের ব্যাপারে একটি ভুল ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে। খেলাফতের ব্যাপারেও ভুল ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে।দেখা যাচ্ছে- আইএস যে এলাকা দখল করছে, মহিলাদেরকে ধর্ষণ করছে। এবং বিচার ছাড়া যাকে তাকে কল্লা কেটে দিচ্ছে। এখন ইহুদীরা সুযোগ পাচ্ছে।

দুনিয়াবাসীকে বুঝাতে-খেলাফত মানেই হল মহিলাদেরকে ধর্ষণ করা। খেলাফত মানেই হল যাকে তাকে পাও কল্লা ফেলে দেওয়া। সে কাজটি তারা পুরোপুরি সফল না হলেও কিছুটা তো সফলতা লাভ করছে। বড়ই দুঃখজনক হলোঃ বাংলাদেশে এই আইএস এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যখন কথা শুরু হলো। এদেশে যারা আলেম ওলামা পীর মাশায়েখ তাদের দায়িত্ব ছিল,সন্ত্রাসের পূর্ণমাত্রায় বিরোধিতা করে,খেলাফত এবং জিহাদের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা।

আইন মানার ক্ষেত্রে আল্লাহর আইন মানতে হবে। আল্লাহর আইন ইবাদতের অংশ। আর সে আইনকে বাস্তবায়িত করার একমাত্র মূলমন্ত্র হল খেলাফত। তাহলে বুঝা যাচ্ছে,আমরা যারা ভূপৃষ্ঠের হুকুমত থেকে বঞ্চিত তারা ঈমানকেও ঠিক করি নাই, আমলকেও ঠিক করি নাই। ঈমান এবং আমল যদি ঠিক হতো,ভূপৃষ্ঠের হুকুমত আল্লাহ আমাদের দান করতেন।

খেলাফতের মূল উদ্দেশ্য চারটা:- নূর নবীজী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীস থেকে এই মাসালা আস্তেমবাত করেছেন,উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ দার্শনিক,আমাদের পূর্বসূরি শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দীসে দেহলবী (রহঃ) হুজ্জাতুল্লাহিল বালেগা কিতাবের ১৪৯ পৃষ্ঠায় তিনি তুলে ধরেছেনঃ খেলাফতের মূল ৪টা বিষয় বাস্তবায়ন করা।

১. (মজলুম) জুলুমের শিকার মানুষকে জুলুম থেকে বাঁচানো ।
২. আল্লাহর প্রদত্ত আইনকে বাস্তবায়ন করা, আল্লাহর প্রদত্ত শাস্তিকে বাস্তবায়ন করা ।
৩. বিচার ব্যবস্থা কুরআন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠা করা ।
৪. জিহাদ পরিচালনা করা।

★ আই এস এর গোঁমরা ফাঁসঃ

দুইটা জিনিসের বিরুদ্ধে কাফের মুশরেকদের সবচেয়ে বেশী প্রচার- একটি হল জিহাদ, আরেকটি হল খেলাফত। আইএস-এর সাথে ইসলাম ও মুসলমানের কোন সম্পর্ক নাই। আইএস এর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের দায় কখনোই ইসলাম ও মুসলমান নিবে না। আইএস ইহুদী মোসাদের আবিষ্কার। আর তাদেরকে অস্ত্র দিয়েছে আমেরিকা। আইএস-এর বিরোধিতা করতে যেয়ে কোন অবস্থায়ই জিহাদের বিরোধিতা করার সুযোগ নাই। কারণ জিহাদকে যে অস্বীকার ও জিহাদের বিরোধিতা করবে সে মুসলমান নয়। জিহাদ ইসলামের মূল একটি বিষয়।