নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর তীর দখল করে গড়ে উঠা প্রায় বিশটি অবৈধ কাঁচা পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ। রবিবার দুপুর বারোটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার বক্তাবলী এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে নদীর তীরে গড়ে উঠা অবৈধ ডকইয়ার্ড, ইটভাটা, তেলের পাম্প ও বালু দিয়ে নদী ভরাটের সময় একটি অবৈধ ড্রেজার ভেংগে গুঁড়িয়ে দেয় ভ্রাম্যমান আদালত। একই সাথে নদী দখলের অভিযোগে একটি ডকইয়ার্ড প্রতিষ্ঠানকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা সহ এক কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে।

উচ্ছেদ অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ন-পরিচালক গুলজার আলী, উপ-পরিচালক মো: শহিদুল্লাহ, সহকারী পরিচালক এহতেশামুল পারভেজ।

বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নদীর তীরে ইটভাটা ও ডকইয়ার্ড নির্মানের অনুমোদন দেয়া হলেও তারা শর্ত ভঙ্গ করে নদীর বেশ কিছু পরিমান জায়গা অবৈধভাবে দখল করে নদীকে সংকুচিত করে ফেলেছে। তাই উচ্চ আদালতের নির্দেশে নদীকে অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।

তবে উচ্ছেদের আগে কোন ধরনের সময় দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন গুঁড়িয়ে দেয়া তেলের পাম্পের কর্মকর্তা মো: সাকিব। তার অভিযোগ, আগে থেকে সময় দেয়া হলে তারা তাদের মেশিনপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরিয়ে নিতে পারতেন। সময় না দেয়ায় বিশ থেকে পঁচিশ লক্ষ টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের উপ-পরিচালক মো: শহিদুল্লাহ দাবী করেন, অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা বিষয়টি আমলে না নেয়ায় তাদের অবৈধ স্থাপনাগুলো ভেংগে ফেলা হয়েছে।

টানা আরো আটদিন নাগাদ এই উচ্ছেদ অভিযান চলবে বলে জানিয়ে শহিদুল্লাহ বলেন, পর্যায়ক্রমে শীতলক্ষ্যা, ধলেশ^রী এবং মেঘনা নদীতেও পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে নদীগুলো দখলমুক্ত করা হবে।