নিউজ প্রতিদিন:  জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হয়ে নিজেকে যেমন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির মাঠে মেলে ধরতে পারেনি। তেমনি কেন্দ্রীয় পদ আনতে গিয়েও শেষতক ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে তাকে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ১৯জন সাধারন সম্পাদক প্রার্থীর মধ্যে তিনিই সর্বশেষ প্রতিদ্বন্ধি হিসেবে আবারো ব্যর্থতার গ্লানি কাঁধে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে ফিরতে হয়েছে তাকে। ১৯জনের মধ্যে তিনি হয়েছে ১৯তম। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রণির ব্যর্থতা এভাবেই বারবার প্রতিয়মান হচ্ছে। ছাত্রদলের জাতীয় কাউন্সিলে মশিউর রহমান রনি ১ ভোট পেয়েছেন, কেউ বলছে ৯ ভোট পেয়েছে আবার কেউ বলছে ১৫ ভোট। আর এসব ফলাফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে রনি এখন হাসির খোরাকে পরিনত হয়েছে।

জেলা বিএনপির অন্যতম নীতিনির্ধারক হিসেবে পরিচিত এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনিবার্হী সদস্য শাহ আলমের সুনজরের কারণে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদ ভাগিয়ে নেয়া রণি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক পদের প্রতি লোভ জাগে। তারই সূত্র ধরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক হতে স্বপ্ন দেখেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রণি। কিন্তু বিধিবাম, তিনি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে চরম ভাবে ব্যর্থ হয়ে নারায়ণগঞ্জে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।

ছাত্রদলের একাধিক নেতা জানান, মশিউর রহমান রণি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হওয়ার আগে ফতুল্লার আনাচে কানাচে ঘুরেছেন। ফতুল্লার ছাত্রদলের নেতাদের কাঁধে ভর দিয়েই চলেছে তার রাজনৈতিক কর্মকান্ড। ছাত্রদলের ফতুল্লার নেতাকর্মী ছাড়া নিজ যোগ্যতা বলে কোন মিছিল মিটিং করতে পারেনি। মূলত ফতুল্লার নেতাকর্মীরাই রণি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি করতে অধিক শ্রম দিয়েছে। কিন্তু রণি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদ পাওয়ার পর থেকে ফতুল্লাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানের নেতাকর্মীদের সাথে দূরত্ব তৈরী করে রাজনীতি করার চেষ্টা করেন। আর কারণে রণিকে নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে বলে ছাত্রদলের একাধিক সূত্রে জানাগেছে।

জেলা ছাত্রদলের একাধিক সূত্রের অভিযোগ, রণি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হওয়ার পর থেকেই মূলত জেলা ছাত্রদল দুই ভাবে বিভক্ত হয়ে পরে। জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক সজিবের নেতৃত্বে পৃথক একটি বলয় তৈরী হয়। এবং সাধারন সম্পাদক সজিবের বলয়ে জেলা ছাত্রদলের বেশীর ভাগ নেতা। জেলা ছাত্রদলের বেশ কিছু নেতার মতে, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনির উপর ক্ষুব্দ হয়েছেন জেলা ও জেলার অন্তর্গত থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। দলের জেলা কিংবা থানার নেতাকর্মীদের পরিচয় শূন্য করে এখন কেন্দ্রে ছাত্রদলকে আরো ডুবাতে নেতৃত্বে আসতে চাইছিলেন রনি। কিন্তু এখানেও তিনি ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছেন।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, রনি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হয়ে থানা কমিটিগুলো বার বার দেই দিচ্ছি করে সময় ক্ষেপন করেছেন। ফলে শক্তিশালী সংগঠনটাকে নষ্ট করেছেন রনি। ছাত্রদলের একটি কর্মী সৃষ্টি করতে না পারলেও নেতাকর্মীদের হতাশায় ফেলে সংগঠন থেকে দূরে সরিয়েছেন রনি। সর্বশেষ দলের নারায়ণগঞ্জ জেলায় তার অবস্থান খারাপ বুঝতে পেরে তিনি কেন্দ্রীয় পদে এখন নির্বাচন করতে ব্যস্ত হয়ে পরেনে এই নেতা।

ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের এক পদ প্রত্যাশী জানান, দীর্ঘ ১৪ বছর ধর্ব ছাত্রদলের রাজনীতি করে আজও পরিচয়হীন অবস্থায় রয়েছি। রনি পদে বড় হলেও তার থেকে রাজনীতির বয়স আমাদের বেশি। আমাদেরকে দিনের পর দিন কমিটি দিবে বলে ঘুরিয়েছে। টাকা দিয়েছি, শ্রম দিয়েছি বিনিময়ে একটি কর্মী সৃষ্টি করতে পারিনি। বরং তার এসব আশার বাণী শুনতে শুনতে আমাদের কর্মীরাও এখন আর আমাদের বিশ্বাস করেনা। সর্বশেষ আমাদের গেল রমজানের ইফতার মহফিলের আগের দিন বলেছিল ‘রোজা মুখে কথা দিচ্ছি, কাল ইফতার মহফিল করে কমিটি দিয়ে দিব।’ কিন্তু তার এই কথাও সে রাখেনি।

প্রসঙ্গত, বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলে ভোটের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ফজলুর রহমান। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ইকবাল হোসেন। গত বুধবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের শাহজাহানপুরের বাসায় ছাত্রদলের শীর্ষ দুই পদের জন্য কাউন্সিলরদের ভোট হয়। ভোটের ফলাফল আজ বৃহস্পতিবার ভোরে প্রকাশ করা হয়। ফজলুর রহমান ১৮৬ ভোট পেয়ে সভাপতি হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী রওনকুল ইসলাম পেয়েছেন ১৭৮ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে ইকবাল হোসেন পেয়েছেন ১৩৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী জাকিরুল ইসলামের ভোট ৭৪। সাধারন সম্পাদক পদে লড়তে গিয়ে নারায়ণগঞ্জের এক মাত্র প্রার্থী রনি নিজের ভোট ছাড়া জেলার আর কারো ভোট পায়নি বলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনির সাথে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।