ইউরোপ থেকে ৮০হাজার অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পুনর্বাসনে সহযোগিতা দেবে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউ ও তুরস্কের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী গ্রীস থেকে যেসব অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো শুরু হয়েছে তাদের মধ্যে অনেক বাংলাদেশিও রয়েছেন।অবৈধ অভিবাসন বন্ধ এবং অবৈধভাবে অবস্থানরত অভিবাসীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আলোচনা চলছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, একসঙ্গে যদি এত মানুষকে দেশে ফেরত পাঠানো হয় তবে তাদের পরিবার এবং দেশের অর্থনীতির ওপরে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এদের পুনর্বাসন নিয়ে সংশয় তো থাকছেই!ইরাক বা লিবিয়া-ফেরত অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে এমন একটি প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ফর দা রাইটস অফ ইমিগ্রান্টস’। সংগঠনটির কর্মকর্তা সাইফুল হক বলেন, ‘বেকার অবস্থায় এক সাথে এত মানুষ দেশে ফেরত পাঠানো হলে অর্থনীতিতে অত্যন্ত খারাপ প্রভাব পড়বে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হবে তাদের পরিবার’।
তিনি আরও বলেন, এভাবে হঠাৎ করে যাদের পাঠানো হয়, তারা পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে অত্যন্ত হতাশ অবস্থার মধ্যে পড়ে যায়।

দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে মনে করছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা। এ প্রসঙ্গে মি. হক বলেন, ‘ইউরোপে বেশিরভাগ বাংলাদেশই বৈধভাবে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে তারা অনিয়মিত হয়ে পড়ে। এদের মধ্যে অনেকেই দশ-পনেরো বছর ধরে সেখানে আছে। তারা নিয়মিত হওয়ার জন্য চেষ্টাও করছে। এখানে সরকারের অনেক দায়িত্ব আছে।’

রিটার্নিদের ইস্যু প্রবাসী নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। ইউরোপের দেশগুলো এতদিন যাবৎ তাদের শ্রম স্বল্পমূল্যের বিনিময়ে ঠিকই ব্যবহার করেছে। সেহেতু এখন তাদেরও দায়িত্ব আছে। তিনি বলেন, ‘যারা অনেকদিন ধরে ইউরোপে আছেন এবং শ্রম দিয়ে অবদান রাখছেন তাদের ক্ষেত্রে এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে আমরা মনে করি’।
যেসব লোক অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন, এমন নয় যে তারা কাগজ ছাড়াই সেখানে অবস্থান করছে। ইউরোপে এখনকার যে পরিস্থিতি, যে শরণার্থী সমস্যা আছে তার ফলশ্রুতিতে যারা অনিয়মিত আছে তাদের ওপর এই চাপ এসে নামছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাদের পুনর্বাসনে কিংবা কাজের সুযোগ তৈরিতে সরকারের দায়িত্ব নিতে হবে। রিটার্নিদের বিষয়ে সরকারের একধরণের নীতিমালা আছে কিন্তু এখনো সরকার এ বিষয়ে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। মি. হকের মতে, তাদের ফেরত পাঠানোর আগে সরকারসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নকেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আগে চাইবো তাদের নিয়মিত করা হোক। যদি না করা হয়, তাহলে একসাথে সবাইকে যাতে না পাঠানো হয়, পাশাপাশি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রেখে যেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে তাদের পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়’।

সূত্র : বিবিসি বাংলা।