২০তম আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা প্রতিদিন সকাল থেকেই ভিড় জমাচ্ছেন রাজধানীর ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে। পাশাপাশি পদ-পদবি পেতে নতুন অনেকেই ধর্ণা দিচ্ছেন দলের কেন্দ্রীয় ঊর্ধ্বতন নেতাসহ কর্মকর্তাদের কাছে। এ নিয়ে তদবিরের যেন কমতি রাখছেন না তারা। অন্যদিকে পদবির আশায় বুক পেতে আছেন কেন্দ্রীয় পুরনো নেতাদের অনেকেই। তবে সাবেক ছাত্র নেতাদের একটি অংশ এখনও মুখিয়ে আছেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে হাল ধরার প্রত্যাশায়।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একঝাঁক তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে আওয়ামী লীগের ২০তম কেন্দ্রীয় কমিটি হতে পারে। তার এমন বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে সাবেক ছাত্র নেতারা পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠছেন রাজনীতিতে। তবে এবারের সম্মেলন নিয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার মুখে উল্টো কথা। তারা বলেন, কমিটিতে বড় পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বর্তমান কমিটিতে থাকা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতার বাদ পড়ার আশঙ্কা যেমন ক্ষীণ, তেমনি এক ঝাঁক তরুণ নেতৃত্ব আসবেন এমন সম্ভাবনাও কম। কমিটিতে রয়েছেন এমন নেতারাই ঘুরেফিরে বেশি থাকবেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে।

এবারের সম্মেলনে বড় ধরনের চমক রাখা হয়েছে। নেতৃত্বে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসছে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রেও। দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গঠনতন্ত্রে দুটি বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। প্রথমত. দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের মেয়াদ বাড়ানো হবে। দ্বিতীয়ত. স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে অংশ নেওয়ার বিধান সংযোজন করা হবে। এ ছাড়াও দলে কিছু পদ তৈরি করা হবে। এর মধ্যে বাড়ানো হবে একটি যুগ্ম সম্পাদকের পদ ও কয়েকটি সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়ে সরকারে আসা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক ও মানবাধিকার বিষয়ক দুটি সম্পাদকের পদ যুক্ত হচ্ছে। এছাড়া প্রেসিডিয়াম ও নির্বাহী সদস্য পদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে ক্ষমতাসীনদের। এ বিষয়ে কমিটির সদস্য সচিব ও তথ্য গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন বলেন, গঠনতন্ত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে না, তবে যুগোপযোগী করা হবে। দলের প্রবীণ নেতারা এ কমিটিতে রয়েছেন। সেখানে কমিটির সদস্যরা তাদের মতামত তুলে ধরবেন, প্রস্তাব দেবেন।

জানা গেছে, সম্মেলনকে ঘিরে চলছে নানারকমের প্রস্তুতি। গঠন করা হয়েছে কয়েকটি প্রস্তুতি উপ-কমিটি। এ সব উপ-কমিটি দিনরাত কাউন্সিল সফল করতে কাজ করে যাচ্ছেন। এবারের কাউন্সিলের সেøাগানে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হবে। গতবারের চেয়ে অনেকগুণ বেশি উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আয়োজনের মধ্য দিয়ে এবারের কাউন্সিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ ফ্লাইওভার ও প্রবেশদ্বারে আলোকসজ্জা করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। দিনরাত ধরে বড় বড় এলইডি স্ক্রিনে দেখানো হবে দলটির ইতিহাস, ঐতিহ্য, অর্জন ও উন্নয়নের চিত্র। এরই মধ্যে সেসব ডকুমেন্টারির নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে গেছে।

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সাজসজ্জায় সাদৃশ্য রাখতে কেন্দ্র থেকে ব্যানার, পোস্টার ও প্ল্যাকার্ডের ডিজাইন নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য রক্ষায় ছবি ব্যবহারেও থাকবে কঠোর নির্দেশনা। সম্মেলনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ঘিরেও নেওয়া হচ্ছে নানা পরিকল্পনা। কাউন্সিলর, ডেলিগেটদের জন্য প্রায় ৫০ হাজার চেয়ারের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া নৌকা আকৃতির মঞ্চ ও দেশি-বিদেশি অতিথিদের আসনের বিষয়েও থাকবে ভিন্নতা। দেশি-বিদেশি অতিথিদের তালিকাও তৈরি করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, সম্মেলনকে ঘিরে পদোন্নতি পাওয়ার জন্যে বেশি আশাবাদী হওয়ার যেমন সুযোগ নেই, তেমনি বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হওয়ারও সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগ এমন একটি রাজনৈতিক সংগঠন এখানে যোগ্যতা-দক্ষতার মূল্যায়ন হয়। নিষ্ঠার সঙ্গে যার যার দায়িত্ব পালন করলে অবশ্যই পদোন্নতি হবে। আবার দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে বাদ পড়তে হবে।