ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে রাজনীতি করা দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দেশের অধিকাংশ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্ক ভালো নেই। কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক কিছু কিছু রাজনৈতিক দলের সরকারের সঙ্গে দূরত্ব বাড়লেও ওই দলগুলো কখনও জামায়াতকে সমর্থন করে না বলে জানা গেছে।

এমনকি কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সঙ্গেও জামায়াতের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বে টানাপড়েন দেখা দিলেও কৌশলগত কারণে দলটির শীর্ষ নেতারা মুখ খুলছেন না।

সূত্রমতে, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশকে ঘিরে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা হেফাজতে ইসলামের ‘ব্যাপক জনসমর্থন’ কাজে লাগিয়ে সেই সময় সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দিতে চেয়েছিল জামায়াত ও বিএনপি। কিন্তু এতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সরকারের পতনের লক্ষ্যে বিএনপি-জামায়াত সারাদেশে ব্যাপক সহিংসতা চালালেও তাদের সঙ্গে কোনো ধর্মভিত্তিক দল যোগ দেয়নি। কারণ দেশের অধিকাংশ ধর্মভিত্তিক দল অতীতে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ও তাদের সহিংস কর্মকা-কে কখনও সমর্থন করেনি এবং এখনও করছে না।

সূত্রমতে, ২০১৫ সালের বছর ১১ এপ্রিল এক সমাবেশে হেফাজতের আমির আহমেদ শফী বলেন, আওয়ামী লীগ, সরকার ও ছাত্রলীগ আমাদের শত্রু নয়, বন্ধু। তার এই বক্তব্যের পরই মূলত, জামায়াতের সঙ্গে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর ফাটলের সূচনা হয় বলে মনে করছেন অনেকেই।

কারণ, কওমী মাদ্রাসাকেন্দ্রিক গড়ে ওঠা ইসলামিক দলগুলোর মূল নিয়ন্ত্রক হচ্ছে আহমেদ শফীর নেতৃত্বাধীন হেফাজতে ইসলাম। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের বেশিরভাগ শীর্ষ নেতাই হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র মহাসচিব মাওলানা ইউনূস আহমদ বলেন, আমাদের দল স্বাধীনতাবিরোধী দল নয়। আমাদের দল স্বাধীনতার চেনায় বিশ্বাসী। ফলে কোনো স্বাধীনতাবিরোধী দলের সঙ্গে আমাদের দলের কখনও ঐক্য হতে পারে না।

বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব লায়ন এমএ আউয়াল বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমাদের ঐক্য হওয়ার প্রশ্নই আসে না। জামায়াত ’৭১-এ দেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে আবস্থান নিয়েছে। আর বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন হলো স্বাধীনতার পক্ষের দল। সুতরাং এ দলের সঙ্গে জামায়াতের ঐক্যের কোনো সম্ভাবনা নেই।