প্রকৃত আসামিদের আড়াল করতেই ক্রসফায়ার দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

শনিবার রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, এখন দেশ আছে কী না, সেটাই সন্দেহ। একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সত্যিকার অর্থে কোনো অপরাধীর বিচার হয়নি। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনিকে হত্যা করা হলো। তখন অনেক হইচই হলো। বললো, ৪ দিনের মধ্যে হত্যকারীদের ধরে বিচার করা হবে। আজ কয়েকবছর হয়ে গেলো কিছুই হয়নাই।

তিনি বলেন- কেন হয় নাই? এর পেছেনে নিশ্চয় বড় কারণ আছে। কারণ, যদি হত্যাকারীদের ধরা হয় সত্যি বেরিয়ে আসবে। তাদের কাছে (সাগর-রুনি) সরকারের অপকর্ম, চুরি, দুর্নীতির রেকর্ড ছিলো। অনেক তথ্য ছিলো। এসব যেই কম্পিউটারে ছিলো সেটি চুরি করে নিয়ে গেছে। আর কোনো জিনিস চুরি হয়নাই।

সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে পুলিশের সাড়াশি অভিযানের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত নয়। জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে কাউকে বিনা ওয়ারেন্টে ধরতে পারবে না। কিন্তু তারা সেই নির্দেশনা মানছে না । এরা আদালতের নির্দেশ মানে না, উল্টো আদালতে আদেশ দেয় কি করতে, হবে না করতে হবে।

দেশে বর্তমান সময়ে কারো কোনো নিরাপত্তা নেই মন্তব্য করে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে যুদ্ধ করেছি, সেটি হারিয়ে গেছে। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সবার সমান অধিকার, নিরাপত্তা আজ নেই।

দেশে আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে আছেন, তিনি কি প্রধানমন্ত্রী, না অন্য কোনো মন্ত্রী হিসেবে আছেন? দেশের মানুষ মনে করেন, তিনি নামে প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু তিনি নির্দেশ পালন করেন। তাকে প্রধানমন্ত্রী বলা যায় না।

সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধী ধরা পড়লো অথচ রিমান্ডে থাকা অবস্থায় ক্রসফায়ারে দেয়া হচ্ছে। কারণ আটককৃতরা এমন তথ্য দেয় যার সঙ্গে সরকার জড়িয়ে যায়। তাই ক্রসফায়ার।

দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন হতে চলেছে মন্তব্য করে এই অবস্থা থেকে উত্তরণে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।

ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, প্রচার সম্পাদক শেখ ফরিদ উদ্দিন, নগর জাগপার সভাপতি আকসাদুর রহমান, জাগপা মজদুরলীগের সভাপতি শেখ জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

এছাড়া নয়াদিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন ইনকিলাব পত্রিকার সম্পাদক এ এমএম বাহাউদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।

২০ দলের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, কল্যান পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মাদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানী, মহাসচিব গোলাম মোস্তাফা ভূঁইয়া, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব,  ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজারুল ইসলাম।

এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মসলিজের নায়েবে আমির মাওলানা মজিবুর রহামন পেশয়ারী, সাম্যদলের সভাপতি কমরেড সাইদ আহমেদ, এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব শাহাদৎ হোসেন সেলিম, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরী, পিপলস পার্টির মহাসচিব গরীবে নেওয়াজ প্রমুখ।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল(অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।