একের পর এক অভিযানেও থেমে নেই নারায়ণগঞ্জে মাদক ব্যবসা। জেলায় র‌্যাব, পুলিশসহ মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের অব্যাহত অভিযান সত্ত্বেও মাদকের আগ্রাসী থাবা বন্ধ হচ্ছে না। সরকারি কঠোর পদক্ষেপের মধ্যেও মাদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে, সচল রয়েছে তাদের সরবরাহব্যবস্থাও। মাদক আমদানি, সরবরাহ ও বিপণনব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে একের পর এক কৌশল পাল্টাচ্ছে তারা। এসব নিত্যনতুন কৌশলে পাচার হওয়া মাদক ধরতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। জেলায় বিশাল পরিমান মাদক যানবাহন ও ট্রেনে অবাধে আনা-নেওয়া চললেও খুবই সীমিত পরিমাণ মাদক আটক করতে পারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নারায়ণগঞ্জের সর্বত্রই মাদক ব্যবসায়ী আর নেশাখোরদের চলছে দাপুটে তৎপরতা। গত বছরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর রেকর্ড পত্রে সবচেয়ে বেশি অঘটন ঘটেছে মাদকের সমস্যাকে কেন্দ্র করে। ব্যবসায়ীরা কয়েক দফা গ্রেফতার ও হাজতবাস করলেও তাদের মাদক ব্যবসা বন্ধ করা যায়নি। জানাগেছে, কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা, কথিত সাংবাদিক ও সোর্স এর কারনেই এ জেলায় মাদক নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না। ঐসকল অসাধু পুলিশ কর্মকর্ত নারায়ণগঞ্জ থেকে একাধিবার বদলি হলেও তারা পুনরায় আবারও নারায়ণগঞ্জে এসে পড়েছে। এদিকে গত বছর বিশেষ গোয়েন্দা শাখার তথ্যে মাদক ব্যবসার সাথে জরিত নারায়ণগঞ্জের ২২জন পুলিশ কর্মকর্তা না উঠে এসেছিল। শুধু পুলিশ নয়, ক্ষমতাশীন দলের একাধিক নেতারও নাম ছিল সেই তথ্যে। এছাড়াও বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্যে কথিত সাংবাদিকের নাম সম্প্রতি উঠে এসেছে। তারা সাংবাদিক পরিচয়ে মাদক ব্যবসা করছে। তারা দামি মটর সাইকেলে চড়ে মাদক ব্যবসা করছে আর প্রকৃত সাংবাদিকরা পায়ে হেটে সংবাদ সংগ্রহ করে জনসাধারণের কাছে তুলে ধরছেন। প্রায় ছয় মাস পূর্বে র‌্যাব-১১, সিপিসি-১ এর কম্পানী কমান্ডার শাহ্ শিবলী সাদিক টানবাজার এলাকা থেকে মাদকসহ সাংবাদিক পরিচয়দানকারী দুইজনকে গ্রেফতার করে। এরপর প্রায় ছয় ভূয়া সাংবাদিকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে,  গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চাষাড়ার রাইফেস্ ক্লাবে সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় সদর উপজেলার বিভিন্ন সমস্যার মাঝে মাদকের আগ্রাসটাকেই প্রাধান্য দিয়েছে বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, নারায়নগঞ্জে মাদকে সয়লাব্। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। তারা আরো বলেন, থানা-পুলিশের সাথে সখ্যতা রেখে এই মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেন মাদক ব্যবসায়ী। নিজ এলাকার কোন অভিযোগ নিয়ে গেলে মেম্বারদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয় না বলে জানান মাননীয় সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের কাছে। তাদের এই বক্ত্যব্যের পরিপেক্ষিতে শামীম ওসমান বলেছেন, দ্রুত প্রদক্ষেপ নেয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসকে প্রতি অনুরোধ করেন। আসক্ত হচ্ছে যুব সমাজ: মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই ইয়াবার ভয়াবহতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে শুরু করে সরকারের দায়িত্বশীল সব মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। তরুণ-যুবক থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষ এতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এ সুযোগে জেলা জুড়ে গড়ে উঠেছে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের অপ্রতিরোধ্য নেটওয়ার্ক। বিভিন্ন সূত্রমতে, প্রতিদিন শুধু নারায়ণগঞ্জে লক্ষাধিক পিস ইয়াবা বিক্রি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মাঝেমধ্যেই ধরা পড়ছে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা, প্রচুর ইয়াবাও উদ্ধার হচ্ছে। কিন্তু এত কিছুর পরও মরণঘাতী এ মাদকটির দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, থাই ভাষায় ইয়াবা মানে ক্রেজি মেডিসিন বা পাগলা ঔষুধ। ইয়াবা এক ধরনের মাদক যা হেরোইনের চেয়ে ভয়াবহ এবং হেরোইনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইয়াবার মূল উপাদান মেথ্যাম ফিটামিন ও সঙ্গে থাকে উত্তেজক পদার্থ ক্যাফিন। ২৫ থেকে ৩৫ মিলিগ্রাম মেথ্যাম ফিটামিনের সঙ্গে ৪৫ থেকে ৬৫ মিলিগ্রাম ক্যাফিন মিশিয়ে তৈরি এ ট্যাবলেটের রং সাধারণত সবুজ বা লালচে কমলা হয়ে থাকে। নথিতে বলা হয়, ইয়াবা ট্যাবলেটের স্বাদ যে কাউকে আকৃষ্ট করতে পারে এবং সেবনের পর ধরা পড়ার সম্ভাবনাও থাকে না। ইয়াবা ব্র্যান্ডের এসওয়াই, এনওয়াই ও ডব্লিউওয়াই নামের তিনটি ট্যাবলেট বাজারে পাওয়া যায়। এবিষয় র‌্যাব-১১, সিপিসি-১ এর কম্পানী কমান্ডার শাহ্ শিবলী বলেন, মাদক নির্মূলে আমাদের অভিযান চলছে। এইর মধ্যে অনেক ভূয়া সাংবাদিক যারা মাদক ব্যবসা করে আসছিল তাদেরকে আমরা গ্রেফতার করেছি। মাদক ব্যবসায় জরিত একাধিক সাংবাদিদের আমরা পর্যবেক্ষন করছি। তথ্য পেলেই তাদের গ্রেফতার করা হবে। এজন্য আমরা প্রকৃত সাংবাদিদের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।