কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বিল্ডিংয়ে’র পর নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার বড় কবরস্থান এলাকার একটি তিনতলা ভবনে জঙ্গি আস্তানার খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

`অপারেশন হিট স্ট্রং ২৭` নামের ঘন্টাব্যাপী এই অভিযান শেষে ঘটনাস্থলে তিনজনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

এ অভিযানে গুলশান হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ কানাডা প্রবাসী তামিম চৌধুরীসহ তিনজন নিহত হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

তবে অভিযানে নিহত হওয়া অন্যদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

শনিবার (২৭ আগস্ট) সকালে শহরের পাইকপাড়া এলাকার নুরুদ্দিন মিয়ার বাড়িতে এ জঙ্গি আস্তনার সন্ধান পেয়ে ভবনটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভবনে অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এ সময় জঙ্গিদের উদ্দেশ্যে ব্যপক গোলা-গুলি চালায় আভিযানিক দল।

এর আগে ভবন থেকে সাধারণ মানুষদের সরিয়ে আনেন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

এর আগে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের জানান, সকাল ৯টার দিকে তারা অভিযান শুরু করলে জঙ্গিরা গ্রেনেড হামলা করে। পরবর্তীতে পুলিশও পাল্টা গুলি ছূঁড়তে শুরু করে।

পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সদর থানার পুলিশ, জেলার গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব-১১ ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের বিপুল সংখ্যক সদস্য এই অভিযানে অংশ নেয়।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, একজন জেএমবি সদস্য গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এই আস্তানার সন্ধান পাওয়া গেছে। সন্ধান পাওয়ার পর সেখানে অভিযান শুরু চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

এদিকে গুলশান হামলার মূল হোতা তামিম চৌধুরীকে ধরিয়ে দিতে গত ০২ আগস্ট ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহীদুল হক।