ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে গুঞ্জন ছিল দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ দলটির কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসছেন। সম্মেলনের আগে গুঞ্জন চললেও সম্মেলন শেষে তাজকে দেখা যায়নি দলটির কোনো পদে। তবে সব আলোচনার অবসান ঘটিয়েছেন সাবেক এ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন ‘বর্তমানে আমি রাজনীতিতে সক্রিয় নই।’

সোহেল তাজের ফেসবুকে স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘আপনাদের মন্তব্য এবং গণমাধ্যমের কিছু সংবাদ দেখে আমার কাছে মনে হয়েছে, অনেকের ধারণা সদ্য অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ council এ আমাকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে।

এই বিষয়ে অনেক বিভ্রান্তিকর খবরও প্রকাশিত হয়েছে এবং এও প্রচারিত হয়েছে যে, আমি দেশে ফিরেছি council এর কারণে। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এসব ধারণা সঠিক নয়, আমি কোনো পদ কারো কাছে চাইনি এবং আশাও করিনি, কারণ বর্তমানে আমি রাজনীতিতে সক্রিয় নই।’

সোহেল তাজের এ স্ট্যাটাস প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার লাইক ও প্রায় বারো’শ কমেন্ট পড়েছে। সেই সঙ্গে ১৪০টির মত শেয়ার হয়েছে।

এদিকে স্ট্যাটাসে দেয়া সোহেল তাজের এমন সিদ্ধান্তকে পরিবর্তনের অনুরোধ জানান সাধারণ পাঠকরা। পাঠকরা তাকে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার অনুরোধ জানান। দেশের জন্য সোহেল তাজকে দরকার বলে তারা উল্লেখ করেন।

এর আগে সোহেল তাজ রাজনীতিতে ফিরছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা গিয়েছিল। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়ার বিষয় গুঞ্জন ছিল সোহেল তাজের। কাউন্সিলের আগে সোহেল তাজের এক ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এ গুঞ্জনে আরও জোরালো হয়েছে। তিনি তার ফেসবুক পাতায় বাংলাদেশের লাখো মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। আর এর জন্য বাংলাদেশে প্রচুর সময় দিচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে তিনি রাজনীতিতে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

তার বাস্তব প্রমাণও মিলেছিল সম্মেলনের মঞ্চে সোহেল তাজের উপস্থিতি। সেই সঙ্গে সম্মেলনের ঠিক আগ মুহূর্তে টানা দুদিন দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক। সম্মেলন স্থলও পরিদর্শন করেছেন তিনি।

প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে সোহেল তাজ চারদলীয় জোট সরকার আমলে রাজপথে আন্দোলনে সক্রিয় থেকে অনেকের নজর কাড়েন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে বিপুলভাবে বিজয় অর্জন করেন। সে সময় গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসন থেকে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি গঠিত মন্ত্রিসভায় সোহেল তাজকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করা হয়। এর পাঁচ মাসের মাথায় ২০০৯ সালেই তিনি পদত্যাগ করেন।

ওই বছর ৩১ মে তিনি পদত্যাগ করে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু তখন তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিন বছর পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ায় ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি চিঠি দেন তিনি। পাশাপাশি তিনি পদত্যাগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারিরও আবেদন জানান। সেই সময় থেকে তার ব্যক্তিগত হিসাবে পাঠানো বেতন-ভাতার যাবতীয় অর্থ ফেরত নেয়ারও অনুরোধ জানানো হয় ওই চিঠিতে। এরপর ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিলে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন সোহেল তাজ।