দক্ষিণখানের আশকোনার সূর্যভিলা নামের বাড়ির নিচতলার ফ্ল্যাটের তিন রুমের একটিতে ৫টি গ্রেনেড ও দুইটি সুইসাইডাল ভেস্টের সন্ধান পেয়েছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোসাল টিম।

রবিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান কাউন্টার টেরোরিজম ও ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) উপ-কমিশনার (ডিসি) প্রলয় কুমার জোয়ার্দার।

তিনি বলেন, সূর্যভিলার নিচতলার ফ্ল্যাটে তিনটি ঘর রয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত ধোঁয়া থাকায় আমরা ভেতরের ঘরে যেতে পারছিনা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ধোঁয়া কমাতে কাজ করছে।

ডিসি প্রলয় আরো বলেন, ফ্ল্যাটটির সামনের ঘরে ৫টি গ্রেনেড ও দুইটি আত্মঘাতী ভেস্ট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুইটি গ্রেনেডের অবস্থা বিপদজনক। কিন্তু ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এগুলো নিস্ক্রিয় করা যাচ্ছে না।

এদিকে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোসাল টিমের প্রধান ছানোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ফ্ল্যাটে থাকা গ্রেনেড ও বিস্ফোরকগুলো উদ্ধার করে নিস্ক্রিয় করার পরই জঙ্গি তানভীর কাদেরীর ছেলে আফিফের মরদেহ তুলে আনা হবে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাতে সূর্যভিলা নামের ওই বাড়িটিতে জঙ্গি আস্তানার খোঁজ পায় পুলিশ। পরে রাত দুইটার দিকে বাড়িটি ঘিরে ফেলা হয়। জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

সকালে ওই বাসা থেকে রূপনগরে নিহত জঙ্গি জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা ও তার মেয়ে এবং জঙ্গি মুসার স্ত্রী তৃষা ও তার সন্তান আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু ভেতরে রয়ে যান জঙ্গি সুমনের স্ত্রী, জঙ্গি ইকবালের সাত বছরের মেয়ে এবং তানভীর কাদেরীর ১৪ বছরের ছেলে আফিফ। তাদের কাছে আত্মঘাতী বা সুইসাইডাল ভেস্টসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক আছে বলে জানতে পারে পুলিশ।

দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাদের অসংখ্যবার আত্মসমর্পণের আহবান জানায় পুলিশ। কিন্তু তারা তাতে কর্ণপাত না করলে ভেতরে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করা হয়। এক পর্যায়ে দরজা খুলে ওই নারী জঙ্গি সাত বছরের মেয়েটিকে নিয়ে বের হয়। তারা পার্কিংয়ের দিকে এগিয়ে আসে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে আবারো আত্মসমর্পণ করতে বলেন। কিন্তু তিনি বাম হাতে শিশুটিকে এগিয়ে ধরে, ডান হাত উপরে তোলার ভঙ্গি করে হাত নামিয়ে কোমরে রাখা বিস্ফোরকে চাপ দেন। সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ওই নারী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয় পুলিশ।

তখনো জঙ্গি তানভীরের কিশোর ছেলে ভেতরেই অবস্থান করছিলো। সে আত্মসমর্পণ না করায় পুলিশ তাকে নিস্তেজ করতে গ্যাস ছোঁড়ে। একপর্যায়ে সে ভেতর থেকে গুলি করে ও গ্রেনেড ছোঁড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। এ সময় ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।