ভোটের রাজনীতির জন্যই হেফাজতে ইসলামীর সাথে সখ্যতা গড়ছে সরকার। কারণ তারা বাংলাদেশের প্রভু হিসেবে থাকতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

সোমবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে অর্পণ সংঘ বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা, শিক্ষা বৃত্তি প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রের প্রতিটি সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় দরকার প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে সমালোচনা করে রিজভী বলেন, এই সমন্বয় কি আপনি চান? আজকে দেশের আইন, বিচার, শাসন বিভাগের মধ্যে যে সমন্বয়হীনতা এটি সৃষ্টি করেছেন শেখ হাসিনা। দেশে কোনো সমন্বয় নেই। আপনি দেশের প্রভু হিসেবে থাকতে ভালোবাসেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের সংগঠনগুলো ওপর যে দায়িত্ব সে অনুযায়ী আপনি কাজ করতে দেন না।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সমন্বয় কিভাবে হবে? আপনার হাতে তো বন্দুক আছে। যে বন্দুক দিয়ে বিরোধী দলের নেতাদের হত্যা করছেন, গুম করছেন। আইন, বিচার, শাসন বিভাগকে নিজের করে নিয়েছেন। আপনার আদেশেই চলতে হয় প্রতিটি বিভাগকে।

ভারতের সাথে সরকারের সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের রোমান্স শুধু ভারতের সাথে। এতো হইচই, এতো কিছু দিয়ে দিলেন পানি পেলেন না। কিন্তু রোমান্স ঠিকই থেকে গেলো। এই রোমান্টিকতায় কোনো লাভ নেই। বিএনপি চিনের সাথে সমঝোতা স্বাক্ষর করেছিল। চিনের সাথে চুক্তির কাউন্টার চুক্তি হিসেবে ভারতের সাথে সমঝোতা চুক্তি করলেন। কিন্তু চিনের সাথে বাংলাদেশের কোনো সীমানা নেই। তাদের অস্ত্র হালকা, ধারালো এবং আমাদের সেনাবাহিনী দীর্ঘ দিন থেকে এই অস্ত্র ব্যবহার করে আসছে।

চুক্তি করে আসার পরে তিনি দেখছেন যে খবর তো ভালো না, এখন মুসলিম ভোট হাতে নেওয়ার জন্য নানান প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। যে আহম্মেদ শফি সাহেবকে এতো বিরক্ত করেছেন। মন্ত্রীরা তেতুল হুজুর কত কি বলে আজেবাজে মন্তব্য করেছেন। এখন আবার তার সাথেই সখ্যতা করতে চাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ দেখেছে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশ সরকারের সাথে নেই। সামনে নির্বাচন এই নির্বাচনে ভরাডুবি হবে। এখন যদি কিছুটা ভোটের আশায় আলেম, ওলামাদের সাথে তিনি দেখা করছেন। তার এই ভন্ডামি এদেশের মানুষ সব সময় দেখেছে। ভোট এলেই হিজাব পরছেন, তসছি গুনছেন, মাথায় কাপড় দিচ্ছেন যেই ভোট চলে যাচ্ছে তখন তিনি প্রগতিশীল। নিজেকে এমনভাবে উপস্থান করেন যে তিনি কোনো ধর্ম মানেন না। তিনি একজন ধর্ম নিরপেক্ষ ব্যক্তি।

সংগঠনের সভাপতি বীথিকা বিনতে হোসাইনের সভাপতিত্বে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সাহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু প্রমুখ।