চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে জঙ্গি আস্তানায় অপারেশন ঈগল হান্টে চার জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি খুরশীদ হোসেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অপারেশন শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা জানান।

তিনি বলেন, এ যাতবকালে যত অপারেশন হয়েছে এটি ছিল সবচেয়ে চমৎকার এবং সুষ্ঠু অপারেশন। যেখান থেকে আমরা একটি নিষ্পাপ শিশু এবং মহিলাকে সুস্থ অবস্থায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের অপারেশন এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। শুধু মাত্র সোয়াটের অপারশেন শেষ হলো। এখন আমাদের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট কাজ করছে। এর পরবর্তী পর্যায়ে আমাদের সিআইডি’র ক্রাইম সিনও কাজ করবে।

খোরশেদ আলম বলেন, আপনারা সর্বশেষ খবর আরো জানতে পারবেন, এ যাবত আমরা যা পেয়েছি তাতে জঙ্গি আবু সহ তারা আরো তিনজন সহযোগীদের মৃত্যুদেহ ভেতরে পাওয়া যায়। এবং আমারা প্রাথমিক ভাবে ধারনা করছি যে, তারা নিজেরাই আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মারা যায়।

এদিকে ওই আস্তানা থেকে বের করা নারী ও এক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে।

এর আগে সকাল থেকে মাইকে কয়েক দফা বলার পরও আত্মসমর্পণ না করায় বেলা সোয়া ৪টার দিকে ভেতরে থাকা দুই শিশুকে বের করে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তাছাড়া সকালে শেষবারের মতো তাদের আত্মসমর্পণ করতে বলার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে একটি বোমা ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয় সন্দেহভাজন ওই জঙ্গি আস্তানায়।

বুধবার সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার শিবনগর-ত্রিমোহনী গ্রামে আমবাগান ঘেরা ওই বাড়িটি পুলিশ ঘেরাও করার পর সন্ধ্যায় অভিযান চালায় সোয়াট। কিন্তু দুই ঘণ্টা পরই স্থগিত করে।

রাতের বিরতির পর সকাল ৯টার দিকে ফের অভিযান শুরুর পর সোয়া ১২টায় আত্মসমর্পণের শেষ আহ্বান জানানো হয়। এর আগে অভিযান শুরুর সময় থেকে এক-আধ ঘণ্টা পরপর শোনা যাচ্ছে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ। ১০টা ৬ মিনিটে একবার বিকট বিস্ফোরণ ঘটে।

অপারেশন ঈগল হান্ট’ নামে পরিচালিত এই অভিযান শুরুর আগেই সকাল ৮টার দিক থেকে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিস। নিরাপত্তার কথা বলে পুলিশ ওই বাড়ির আশপাশের প্রায় পাঁচ শ গজের ভেতর কাউকে যেতে দিচ্ছে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে চককীর্তি এলাকার জঙ্গি আস্তানায় স্থগিত হওয়া ‘অপারেশন ঈগল হান্ট’ সকাল ৯টায় অভিযান শুরু হয়। অভিযানে সোয়াট, পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজমের একটি দলসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন।