নিজস্ব প্রতিবেদক

মহিলা দিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে চাকুরীজীবীকে ব্যাকমেইলিং করে টাকা ও মটরসাইকেল হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় প্রতারকচক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। ২৯ মে সোমবার বিকার ৪টায় দাপা সাহারা সিটি সংলগ্ন পাকিস্তানী বিল্ডিং এলাকা তেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক প্রতারিত ব্যাক্তির মটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।  গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে রহমানের ছেলে ডাকাত টুটুল(৩০), আফজালের ছেলে বোতল রাসেল(৩৫) ও মৃত আব্দুস সালামের ছেলে মামুন(২৫) । দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন ফতুলা মডেল থানা ওসি(অপারেশন) মজিবুর রহমান ও এএসআই কামরুল হাসান। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও ডাকাতির মামলা রয়েছে।

মামলার বাদী শিকার আবু বক্কর সিদ্দিক জানায়, গত শনিবার রাতে ১০/১২জনের একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র মোবাইল ফোনে একটি মেয়েকে দিয়ে তাকে ও তার সহকর্মী আসাদুজ্জামান টুটুলকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাকে দাপা ইদ্রাকপুর পাইলট স্কুল সংলগ্ন পাকিস্তানি বিল্ডিং এলাকায় নিয়ে আসে। এখানে আসার পর তাকে বাড়ির মধ্যে আটক রেখে ওই মেয়েকে পাশে দাঁড় করিয়ে ছবি তুলে মারধর করে হাতে থাকা স্বর্নের আংটি, মোবাইল, টাকা ও মটরসাইকেল রেখে দেয়। এ সময় সিদ্দিকের ব্যাংক একাউন্টের এটিএম কার্ডের মাধ্যমে বুথ থেকে আরো ১০ হাজার টাকা তুলে নেয়। পরে রাত ৩টায় ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে আরো পঞ্চাশ হাজার টাকা আনার জন্য ছেড়ে দেয়। এতে ভীত হয়ে চাকুরীজীবি সিদ্ধিক ও টুটুল আরো ২০ হাজার প্রদান করলেও তাদের হোন্ডা কিংবা স্বর্নালঙ্কার কিছুই ফেরত দেয়।

এ ঘটনায় প্রতারনার শিকার টুটুল ফতুলা মডেল থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ গত রোববার মধ্যরাত থেকে অভিযানে নামে। একপর্যায়ে সোমবার বিকালে সাহারা সিটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও ডাকাত রকিম(৩০)পিতা আমির হোসেন, তালিবুল(২৫)পিতা- আব্দুর রব, রাজু পিতা অজ্ঞাত, শিশির দেওয়ান পিতা মৃত আরশাফ দেওয়ানসহ প্রায় ৮/১০জন পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে পাকিস্তানী বিল্ডিংয়ের নীচে কামরুল ইসলাম অপু‘র মালিকানাধীন প্রভাবশালী নেতাদের ছবি টানানো স্থানীয় একটি অফিসে তল্লাশি চালিয়ে ছিনতাইকৃত হোন্ডার কাগজপত্র ও প্রতারনার শিকার ব্যাক্তিদের কাছ থেকে জোরপূর্বক আদায়কৃত স্বাক্ষরযুক্ত সাদা কাগজ এবং পাইলট স্কুল সংলগ্ন একটি গ্যারেজ থেকে হোন্ডা উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে ফতুলা মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মজিবুর রহমান জানান,এ ঘটনার সাথে আরো ক’জন জড়িত রয়েছে,তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।