নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ডিএনডিতে একনেকের সাড়ে পাঁচ’শ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি নিস্কাষনে কাজের মূলা জুলিয়ে এ বছর পানি নিস্কাষনের সকল কাজ প্রায় বন্ধ ফলে সৃষ্ট হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে পানি বন্দি মানুষ।
প্রসঙ্গত, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা অঞ্চলের ৬ হাজার হেক্টর জমি নিয়ে ১৯৬৫-১৯৬৮ সালে গড়ে তোলা ডিএনডি বাধে প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ২০১৫ সালে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিএনডি এলাকা ঘুরে মানুষের দুর্ভোগের চিত্র দেখেন। পরে ২০১৬ সালে একনেকের সভায় ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
তবে একনেকে প্রকল্প অনুমোদনের পর বছর পার হয়ে ফের বর্ষা মৌসুম চলছে। গত মাসের কয়েকদিনের টানা বর্ষণে ডিএনডির অভ্যন্তরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সেই পানি না কমতেই ফের বৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতা আরো ভয়াবহ রূপ ধারন করেছে। ভূক্তভোগী সাধারণ মানুষের ধারনা একনেকের এই কাজের কারনেই এবার এ অঞ্চলে কোনো নিস্কাষনের কাজ করা হয়নি।
অনেক এলাকা ঘুওে দেখা যায় প্রতি বছর কম-বেশি পানি নিস্কাষনের জন্য ড্রেন ও খালগুলো পরিস্কার করা হয়। কিন্তু এ বছর প্রায় সব এলাকাই এ কাজ বন্ধ ছিলো। তাই বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবার ডিএনডি বাধের মধ্যে কয়েক লক্ষ মানুষ দীর্ঘদিন যাবত খুব কষ্টকর অবস্থায় পানিবন্দি। অনেকে চলাচলের জন্য বাড়ির ভেতরে তৈরি করেছে সাঁকো। এলাকার রাস্তা-ঘাট তলিয়ে আছে হাঁটু সমান পানিতে। মানুষ চলাচলে জন্য ব্যবহার করছে নৌকা। শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ বাড়িতে ঘরের ভেতর পানি ঢুকে আছে। আর শিক্ষার্থীরা কাদা-পানি ঠেলে কষ্ট করে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। অনেক মসজিদ গুলোতে পানি ডুকে যাওয়ায় মুসুল্লিদের নামাজ পড়ায় খুব অসুবিধা হচ্ছে। এত কষ্টের মধ্যে পানিবন্দি অবস্থায় বসবাসরত অসহায় মানুষের খোঁজ কেউ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
জলাবদ্ধতার কারনের খাবার-দাবার জোগার করা ও রান্না করার সমস্যয় অনেকে বাড়ি-ঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে পার্শ্ববর্তী শুষ্ক এলাকায়। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় চারিদিকে থই থই পানি। পানির মধ্যে মানুষের বসবাস। বিভিন্ন স্থানে চলছে নৌকা। কোথাও আবার হাটু পানি ভেঙ্গে চলাচল করছে মানুষ। বিভিন্ন বাসায় তলিয়ে আছে বিশুদ্ধ পানি উত্তলনের মটোর। শিশুরাও ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে।
কয়েক দিনের বর্ষণের ফলে ফতুল্লা পাইলট স্কুল এলাকা, ব্যাংক কলোনি, সেহাচর তক্কার মাঠ, মিজমিজির পাইনাদী, সিআইখোলা, কালাহাতিয়ার পাড়, নতুন মহল্লা, মজিববাগ, রসুলবাগ, নয়াআটি, তুষার ধারা, হাজীগঞ্জ, গিরিধারা, সাদ্দাম মার্কেট, জালকুড়ি, শহীদ নগর, ভূইঘর, দেলপাড়া, রামারবাগ, লালখাঁ, লালপুর, সস্তাপুরসহ বিভিন্ন নিচু এলাকার অনেক বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ পানিতে তলিয়ে গেছে। অথচ, ডিএনডির নারায়ণগঞ্জ অংশে জেলা পরিষদেও চেয়ারম্যান, মেয়র ও দুইজন সংসদ সদস্যসহ প্রায় ৫০ জন জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করছেন।