‘জয় বাংলা’কে ভারত থেকে আনা শব্দ বলে অনেকে মনে করে’ উল্লেখ করে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, মহানবী হযরত মুহম্মদ (স.) মক্কা বিজয়ের পর ‘ছাতুল মক্কা’ বা জয় মক্কা বলেছেন। ভাষাগত পার্থক্য থাকলেও ‘ছাতুল মক্কা’ ও ‘জয় বাংলা’ একই।

মঙ্গলবার রাজধানীতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সম্মেলন কক্ষে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘জয় বাংলা নিয়ে অনেকের রিজার্ভেশন (অনিচ্ছা বা বর্জন) আছে। অনেকে অনেক কথা বলেন। আমাদের দেশের ইসলামপন্থী দলগুলো বলে, জয় বাংলা নাকি ভারতের কথা। ভারতের জয় হিন্দি এ রকম আরকি বলতে চান।’

শাজাহান খান বলেন, ‘কিন্তু আমি একজন মুসলমান হিসেবে একটা ইতিহাসের কথা আপনাদের জানাতে চাই। সেটি হলো, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (স.) যখন মক্কা বিজয় করলেন ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি একটি শব্দ উচ্চারণ করেছিলেন- ছাতুল মক্কা, ছাতুল মক্কা। একই ভাবে সাহাবিরা সমস্বরে উচ্চারণ করেছিলেন, ছাতুল মক্কা। ছাতুল শব্দের অর্থ কী? ছাতুল শব্দের অর্থ হলো- জয়। নবীজিও (স.) বলেছিলেন জয় মক্কা।’

‘আমরা যারা মুসলমান তারা নবীর এই কথা যদি স্মরণ করি তাহলে স্বীকার করতে হবে যে, ছাতুল মক্কা আর জয় বাংলার মধ্যে শব্দগত কোনো পার্থক্য নেই, ওটা আরবি ভাষা আর এটা বাংলা ভাষা। যারা আমাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন, তারা একটা উদ্দেশ্য নিয়ে এটা করছেন’ বলেন শাজাহান খান।

তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু একজন সাধারণ মানুষ নন, একজন মহামানব। মহামানবের মধ্যে যেসব গুণাবলি থাকে বঙ্গবন্ধুর মধ্যে সেগুলো ছিল। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন দুর্যোগে সৃষ্টিকর্তা এই মহামানবদের সৃষ্টি করেন এবং তারা তাদের দর্শন ও আদর্শের মাধ্যমে স্বপ্ন বাস্তবায়নে মানুষকে উজ্জীবিত করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুও তাই করেছেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আগস্ট মাস এলেই বাংলার মানুষকে আতঙ্কে থাকতে হয়। একদিকে যেমন আমাদের শোকের দিন অপরদিকে এই আগস্ট মাসেই ষড়যন্ত্রকারীরা বারবার আক্রমণ করে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য সিরিজ গ্রেনেড হামলা করা হয়েছিল’।

‘আজ ১৫ আগস্ট, আজও ষড়যন্ত্র হয়েছিল। পান্থপথের একটি হোটেলে জঙ্গিরা অবস্থান করছিল, পুলিশ জানতে পেরে সেখানে যখন ঘেরাও করে তখন জঙ্গিরা গ্রেনেড নিক্ষেপ করে, একজন নিহত হয়। আগস্ট মাস এলেই তারা হত্যাকাণ্ডের চেষ্টা করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে উৎখাতের জন্য বিএনপির বহু নেতা বহু কথা বলেছেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মতো লোক বলেছেন, আরেকটি ১৫ আগস্ট ঘটবে। তাহলে বিষয়টি কী? বিষয়টি হলো ষড়যন্ত্রকারীরা কিন্তু বসে নেই। তারা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। সকল মানুষকে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

নৌ-পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণে যেসব কথা বলা হয়েছে সেগুলো কিন্তু অপ্রাসঙ্গিক। এর কারণে আমরা যেমন প্রতিবাদ করছি, ঠিক পাশাপাশি বিএনপি এটিকে ঐতিহাসিক রায় বলছে। তার মানে তারা মনে করছেন বিচার বিভাগ পাকিস্তানের মতো এই সরকারের বিরুদ্ধে একটা অবস্থান নিক। বাংলাদেশ কিন্তু পাকিস্তান নয়। বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানি জনগণ নয়। বাংলাদেশের মানুষ রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। এখানে কোনো পাকিস্তানি ভাবধারা চলতে পারে না।

তিনি বলেন, যারা পাকিস্তানে বিশ্বাস করেন তারা দয়া করে পাকিস্তানে চলে যেতে পারেন। যারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠী আছেন তাদের বলতে চাই- ‘আপনারা সাবধান হোন। আমরা বাংলার জনগণ, যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম তারা ধ্বংস হয়ে যাইনি। মুক্তিযুদ্ধের ধারা আমাদের রক্তে প্রবাহিত।’

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান জ্ঞান রঞ্জন শীল, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্ত্তী, নৌপরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম, পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ বক্তব্য দেন। (আমাদের সময় ডট কম)