সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ  সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের মালিক জনগণ আর বাংলাদেশের জনগণ আর ধৈর্য্য দেখাবে না। জনগণের পয়সায় রাষ্ট্রীয় কোষাগাড় থেকে বেতন পাওয়া কোন পাকিস্তান প্রেমীর উদ্ভট অনভিপ্রেত কথাবার্তা এদেশের রাজনৈতিক সচেতন মানুষ আর সহ্য করবে না। সোমবার বেলা ৩টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের  সংসদর সদস্য  শামীম ওসমান এ কথা বলেছেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, রাজনীতির গতি প্রকৃতি নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা কোন আদালতের নাই।  যারা কথা বলছেন তারা ভুলে গেছেন ব্যর্থ রাষ্ট্র পাকিস্তানের উদাহরন বাংলাদেশে অচল। কারণ বাংলাদেশটা পাকিস্তান না, বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানের জনগণ না। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা নওয়াজ শরীফ না, তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।  বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী এবং আইনশৃক্সখলা বাহিনী পাকিস্তানের আইনশৃক্সখলা বাহিনী না । বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো আইএসআই দ্বারা পরিচালিত না। পাকিস্তানের রাজনীতি এবং বিচার বিভাগ সেনা বাহিনীর নির্দেশে চলে। পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আর বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে জাতির জনকের নেতৃত্বে পরিচালিত ¯^শস্ত্র মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে। আমার এসব কথার জন্য যদি আদালত আমাকে তলব করেন, তবে অবশ্যই যাবো। তবে সংসদ সদস্য পদ ও দলীয় পদ ছেড়েই যাবো এবং এদেশের প্রতিটি ¯^াধীনতার পক্ষে বিশ্বাসী কোটি কোটি মানুষের মনের কথাগুলো আদালতে বলে আসবো। বিশ্বাস করি আদালত সেই কথার মর্মার্থ বুঝবেন। মনে রাখা উচিত,  শেখ হাসিনা নীলকন্ঠী হলেও বাংলার মানুষ নীলকন্ঠী নয়। কারণ, সব কিছু নিয়ে আপোষ করলেও বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা শেখ হাসিনা প্রশ্নে তার কর্মীরা আপোষ করতে শিখেনি।
শামীম ওসমান এসময় বলেন, দেশ নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করছেন তাদের মনে রাখতে হবে, শেখ হাসিনার কর্মীরা রাজপথের অকুতোভয় সেনা। আওয়ামী লীগের কর্মীরা সকল ষড়যন্ত্রের জওয়াব দেয়ার মতো ক্ষমতা রাখে। কেউ কেউ দায়িত্বশীল জায়গায় বসে দায়িত্বহীনের মত কথা বলছে, শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে অশ্রদ্ধার কথা বলছেন। তাদের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে পল্টন থেকে কোন বিএনপি-জামাতের প্রেতাত্মা কথা বলছে। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এসব নিন্দনীয় বক্তব্য দেশের শতকরা  ৮৫ ভাগ মানুষের কাছে অযোগ্য অগ্রনযোগ্য বলে মনে হচ্ছে। তাই উচিত হবে তাদের সম্মানের সাথে সেই বক্তব্য প্রত্যাহার করা, নয়তো নিজেকে সেই সম্মানের চেয়ার থেকে সরিয়ে নেয়া। কারণ ইতিহাস স্বাক্ষী, যারা ইতিহাসকে বিকৃত করেছেন, ইতিহাস তাদেরকে বারবার আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করেছে। সময় হয়ে এসেছে সব কিছুর জবাব দেয়ার। শামীম ওসমান এসময় উপস্থিত কর্মীদের সজাগ ও প্রস্তুত থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, ২১আগষ্ট শুধুমাত্র একদিনের স্মরণের বিষয় নয়। ২১আগষ্ট আমাদের শিক্ষা দিয়ে যায়, মনে করিয়ে দেয় যে, এদেশকে ব্যর্থ ও জঙ্গী রাষ্ট্র বানাতে শকুনীর দল আমাদের নেত্রীকে হত্যার জন্য এখনও ওৎ পেতে আছে। কিন্তু দেশ দল ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই আবারো প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসাতে হবে এবং কর্মীরাই সেটা করবেন।
 সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন রেণুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোক সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় শ্রমিকলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মতিন মাষ্টার, থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়া,মহানগর আওয়ামীলীগের সহ প্রচার সম্পাদক ইফতেখার আলম খোকন,জেলা যুবলীগ সদস্য ও নাসিক ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লাসহ স্থানীয় অনেক নেতৃবৃন্দ । #