ইজারা দেয়ার আগেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডসহ ৫টি স্থানে বসেছে পশুর হাট। আর এ হাটে স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী ও পুলিশ।

শনিবার বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার সাইনবোর্ড মোড়ে বিশাল পশুর হাট বসিয়েছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা।

হাট সম্প্রসারণের জন্য ব্যস্ত সড়কের পাশে বালু দিয়ে ভরাট করার কাজও চলছে। এছাড়া ঢাকা- নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে মহল্লার প্রবেশ রোড বন্ধ করে হাট বসানো হয়েছে।

এতে লিংক রোডে সৃষ্টি হয়েছে যানজট আর মহল্লায় প্রবেশে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের।

এছাড়া ওই হাট নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজ্জাক বেপারীর সঙ্গেও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের বিরোধ চলছে।

হাটটি প্রতিবছর উপজেলা থেকে ইজারা নেন রাজ্জাক বেপারী। এবছর হাটটি ইজারা ছাড়াই বসিয়েছে নাজিম উদ্দিন। ফলে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী ও পুলিশ।

এছাড়া ফতুল্লার কাশিপুর, পাগলা তালতলা, গোগনগর ও পুরান সৈয়দপুর এলাকায় ইজারা ছাড়াই পশুর হাট বসানো হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের আগে পশুর হাট বসানোয় প্রতিটি হাটের আশপাশে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় রয়েছে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী। হাটের দখল ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে যেকোনো সময় ঘটতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক মাস যাবৎ বৃষ্টির পানিতে গিরিধারা এলাকার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি। এরমধ্যে উঁচু স্থানটিতে যেখানে এলাকার মানুষ এসে দাঁড়ায় সেখানে এখন পশুর হাট বসানো হয়েছে।

বেধে রাখা হয়েছে শতশত গরু। এখন এলাকায় প্রবেশে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসী জানান, রাজ্জাক বেপারীর এলাকায় নাজিম উদ্দিন হাট বসাবে। এটা কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না রাজ্জাক বেপারী।

এতে রাজ্জাক বেপারী ও তার ছেলে সাহাবুদ্দিন বেপারী দলবল নিয়ে যেকোন সময় ওই হাটে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করবে। তখন বাধা দিতে আসলেই উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হবে।

রাজ্জাক বেপারী বলেন, আমি ভুইগড় গিরিধারা মাঠের অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা নেয়ার জন্য বৃহস্পতিবার সদর উপজেলা পরিষদে শিডিউল ক্রয় করতে যাই।

সেখানে উপজেলা পরিষদের কোন কর্মকর্তা আমার কাছে শিডিউল বিক্রি করেনি। এছাড়া শিডিউল ক্রয়ে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নামিজ উদ্দিন আমাকে বাধা দিয়েছেন।

বর্তমানে নাজিম উদ্দিন যেখানে হাট বসিয়েছেন। সেখানে পানিবন্দি গ্রামবাসী এসে দাঁড়ায় এবং রিকশা নিয়ে স্কুল-কলেজ ও কর্মস্থলে যাতায়াত করে। এ স্থানে হাট না বসানোর জন্য প্রশাসনকে অবগত করেছি।

পরিবহন ব্যবসায়ীরা জানান, সাইনবোর্ড মোড়টি মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট, নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা গণপরিবহন থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করানো হয়। এখানে পশুর হাট বসানো মানে জনদুর্ভোগ।

এছাড়া ফতুল্লার কাশিপুর, পাগলা তালতলা ও গোগনগর এবং পুরান সৈয়দপুর এলাকায় রোববার পশুর হাটের জন্য ইজারা দেয়া হবে। এরআগেই এসব এলাকায় ইজারা ছাড়াই পশুর হাট বসিয়েছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা।

এনিয়ে স্থানীয় অপর সন্ত্রাসীরা ফুঁসে উঠেছে। যেকোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ সাংবাদিকদের জানান, লিংক রোডে হাট বসানোর বিষয় আমার জানা নেই।

তবে আমাদের তালিকায় ওই এলাকার হাটের স্থান রয়েছে ভুঁইগড় গিরিধারা মাঠে। যদি কেউ ইজারা ছাড়া লিংক রোডে হাট বসিয়ে থাকে তাহলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

জেলা প্রশাসকের অনুমতিতে রোববার ২৭ আগস্ট ৫টি হাটের ইজারা সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া ইজারার পূর্বেই যারা হাট বসিয়েছে তাদের বিষয়েও খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামাল উদ্দিন জানান, লিংক রোডে পশুর হাট বসালে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হবে। লিংক রোডে কোনো ভাবেই পশুর হাট বসতে দেয়া হবে না।

রাজ্জাক বেপারীর ফুসে থাকার বিষয়টি জানতে পেরেছি। তাকে হাটের শিডিউলও ক্রয় করতে দেয়া হয়নি। এবিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেখবেন।

তিনি আরও জানান, আমি ফতুল্লা ডিআইটি মাঠ ও আলীগঞ্জ পশুর হাট সম্পর্কে জানি। অন্যকোনো হাটের বিষয়ে উপজেলা থেকে আমাকে জানানো হয়নি।