ফতুল্লার বক্তাবলীতে স্বামীর পরকীয়া প্রেম ও শশুর বাড়ির লোকদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বিয়ের ৫ মাসের মাথায় ফাতেমা আক্তার মনি (১৮) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ স্বামীসহ শশুর বাড়ির লোকজন নির্যাতনের পর মনিকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে। আর ফাতেমা আক্তার মনি মারা যাওয়ার পর হতে শশুর বাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে। যার কারনে মনির মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হচ্ছে।

শুক্রবার (৬ অক্টোবর) দুপু রে ফতুল্লার উত্তর গোপালনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেছে।

নিহত ফাতেমা আক্তার মনি উত্তর গোপালনগর এলাকার আশিক হোসেন চাঁনের স্ত্রী ও বক্তাবলীর মধ্যনগর এলাকার হোসেন আলীর মেয়ে।

নিহতের বড় ভাই তৌহিদুল ইসলাম জানান, তার ছোট বোন ফাতেমা আক্তার মনিকে চলতি বছরের ৫ মে বক্তাবলীর উত্তর গোপালনগর এলাকার আওলাদ হোসেনের ছেলে আশিক হোসেন চাঁনের সাথে ইশলামী শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর হতে জানতে পারে ছোট বোনের স্বামী একজন নেশাগ্রস্ত ও পরকীয়া প্রেমে জড়িত। যার কারনে প্রায় সময় মনিকে তার স্বামী শারিরীক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করে আসছিল। এমনকি মনির স্বামী আশিক প্রায় সময় নতুন বউ রেখে বাহিরে রাত্রি যাপন করে। এতে করে মনি বিষয় গুলো শশুর বাড়ির লোকজনকে জানালে তারা আরো ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে। যার কারনে শুক্রবার সকালে মনি তার শশুর বাড়ির ২য় তলায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। আর সেই সংবাদটি মনির স্বামী ফোন করে তাকে জানায়। পরে মনির শশুর বাড়িতে গিয়ে স্বামী,শশুর শাশুরীসহ কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এতে করে তারা ধারনা করছে মনিকে হত্যা করে তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন নিউজ প্রতিদিন ডট নেট কে জানান, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জের ধরে ফাতেমা আক্তার মনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহতের পরিবারের হত্যার অভিযোগ করলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযোগ আমলে নেয়া যাচ্ছে  না। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারন জানা যাবে।