শহর প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবসের’ মিছিল বের করতে চাইলে জেলা বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে জেলা বিএনপি নেতাদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় চাষাঢ়া প্রেসক্লাবের সামনে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালসহ নেতাকর্মীরা প্যারাডাইজ ক্যাবলের সামনে কালোপতাকা নিয়ে অবস্থান নেন। পরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ লাঠি হাতে নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিলে নেতাকর্মীরা দৌড়ে পালিয়ে যান।

এসময় একদল নেতাকর্মী নিয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল না দৌড়ে মূল সড়কে উঠতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে পুলিশের সাথে নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় মহানগর বিএনপির সভাপতির পক্ষে সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশার নেতৃত্বে মহানগর বিএনপি নেতাকর্মীরা একই স্থানে কর্মসূচি পালন করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে পুলিশের সাথে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মূল সড়কে উঠতে না পেরে শহরের গলাচিপা রেললাইন, নন্দিপাড়া হয়ে দেওভোগ পর্যন্ত মিছিল করেন মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা।

একই সাথে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বেলা ১১টায় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও কালো পতাকা মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। সেখানেও তার সাথে পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়। জেলা বিএনপির সহসভাপতি আজাদ বিশ্বাস দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে শহীদ মিনারে কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

অন্যদিকে সকাল ১০টায় শহরের সিরাজদৌল্লাহ রোড থেকে মিছিল বের করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল। পরে শায়েস্তা খান রোডসহ শহরের প্রধান প্রধান শহর প্রদক্ষিণ শেষে গলাচিপা মোড়ে জেলা স্কাউট ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে যুবদলের নেতাকর্মীরা।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, ১৫৪ জনকে বিনা ভোটে নির্বাচিত করা ও ২৭০টি কেন্দ্রে একটি ভোট না পড়াই প্রমাণিত হয় এই সরকার অনির্বাচিত। গণতন্ত্র এখন কারাগারে বন্দী। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২০১৮ সালেই গণতন্ত্রকে বাকশাল মুক্ত করবো। খালেদা জিয়াই আগামী প্রধানমন্ত্রী।

সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সভায় আরও বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সানোয়ার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মমতাজউদ্দিন মন্তু, আনোয়ার হোসেন আনু, রানা মুজিব, আক্তার হোসেন খোকন শাহ, জুয়েল রানা, সাগর প্রধান, বন্দর থানা যুবদলের সভাপতি আমির হোসেন, বন্দর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম রিপন, আলী নওসাদ তুষার, কাজী সোহাগ প্রমুখ।