ডেস্ক নিউজঃ নারায়ণগঞ্জে সংঘর্ষের সময় ব্যবসায়ী নিয়াজুল নিয়াজুল ইসলাম খানকে পিস্তল হাতে দেখা যায়। এছাড়া আইভী সমর্থক আবু সুফিয়ান এবং বিএনপি কর্মী সুমনকে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় সংঘর্ষে এখনও কোনও পক্ষ থেকেই মামলা করা হয়নি। তবুও পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় যারা অস্ত্র ব্যবহার করেছিল তাদের খুঁজছেন তারা।

বুধবার (১৭ জানুয়ারি) বিকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

ঘটনাস্থলে যারা অস্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন, সেইসব ব্যক্তির বিষয়ে পুলিশ এখন খোঁজখবর নিচ্ছে। তাদের কাছে ভিডিও ফুটেজ আছে বলে উল্লেখ করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কেউ অভিযোগ করতে এলে তা নেওয়া হবে।

নিয়াজুল ইসলাম খান নামে যে ব্যক্তি একটি অস্ত্র বের করেছিলেন, তার বিষয়েও পুলিশ প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘তিনি একজন ব্যবসায়ী বলে জানতে পেরেছি। তার অন্য কোনও পরিচয় আছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি সেখানে কেন গিয়েছিলেন তা জানার চেষ্টা চলছে। তবে এখন তিনি পলাতক। আমরা শুনেছি, তার একটি পিস্তল লাইসেন্স করা রয়েছে। তবে যে পিস্তলটি তার হাতে দেখা গেছে সেটি লাইসেন্স করা কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবারের (১৬ জানুয়ারি) সংঘর্ষের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। তার ভাষ্য, ‘ইতোমধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছে। আমরা প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছি। এছাড়া ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসক একটি কমিটি করে দিয়েছে বুধবার। তারাও ঘটনাটি তদন্ত করবে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে তারা প্রতিবেদন দেবেন।’

এর আগে মেয়র আইভী দাবি করেছেন, হামলাকারী নিয়াজুল নগর যুবলীগের নেতা ও শামীম ওসমানের সমর্থক। তবে শামীম ওসমান দাবি করেছেন, ‘নিয়াজ বিশাল মার্কেটের মালিক, তিনি নিশ্চয়ই পিস্তল হাতে রাস্তায় নামবেন না।’

একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে শামীম ওসমান আরও বলেন, ‘নিয়াজুল আমার পরিচিত। তিনি বিশাল বড় মার্কেটের মালিক। সে সুইটের ভাই যাকে বিএনপির সময় ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছিল। এটা কি তার দোষ? বিশাল কোনও মার্কেটের মালিক নিশ্চয়ই পিস্তল হাতে রাস্তায় নামবে না! তার হাতে পিস্তল দেখা গেলেও পরীক্ষা করা হোক এই পিস্তল থেকে গুলি করা হয়েছে কিনা।’

ফুটপাতে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) বিকালে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় মেয়র আইভী, সাংবাদিকসহ শতাধিক মানুষ আহত হন। এদিন দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, নগরীর সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখতে সড়কের ফুটপাথগুলো হকারমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন মেয়র আইভী। এই সিদ্ধান্তে হকাররা প্রতিবাদ জানালে তাদের সমর্থন জানান শামীম ওসমান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য রাখার ঘটনাও ঘটে। সবশেষ মেয়র আইভী নগরীর ফুটপাথ থেকে হকারদের উচ্ছেদের ঘোষণা দিলে তাদের আবারও ফুটপাথে বসানোর ঘোষণা দেন শামীম ওসমান।

এর প্রতিবাদে নগর ভবন থেকে পায়ে হেঁটে মেয়র আইভী তার নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিলসহ চাষাঢ়া এলাকায় আসেন। তারা মুক্তি জেনারেল হাসপাতালে সামনে এলে শামীম ওসমানের সমর্থক ও হকাররা তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এ সময় মেয়র আইভী ও তার লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে নিয়াজুল ইসলাম। নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে আইভীকে রক্ষা করেন। পরে লোকজন নিয়াজুলকে ধরে গণপিটুনিও দেয়।

পরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘শামীম ওসমানের নির্দেশে তার ক্যাডাররা আমার ও নিরীহ নগরবাসীর ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমিসহ নারায়ণগঞ্জের যুবলীগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন সম্পর্কে হকারদের সঙ্গে কথা বলতে নগর ভবন থেকে পায়ে হেঁটে চাষাঢ়া আসছিলাম। ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার জন্য নির্দেশ পালন ও হকারদের বসানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার বিষয়ে কথা বলাই ছিল আমার উদ্দেশ্য। কিন্তু শামীম ওসমানের নির্দেশে তার সমর্থকরা কোনও কারণ ছাড়াই আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। জেলার ডিসি ও এসপির নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে আমার লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রত্যাহারের দাবি জানাই।’ সূত্র-বাংলা ট্রিবিউন