নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বন্দরনগরী নারায়ণগঞ্জ তার কথাতেই চলবে-এটা সাফ জানিয়ে দিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সিটির মেয়র আমি। আমার সিটির লিডার আমি, আমার কথায় নারায়ণগঞ্জ চলবে। কারণ আমার নগরের দায়িত্ব আমার এবং নারায়ণগঞ্জবাসীর, অন্য কারও নয়।’

পাঁচ দিনের চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল ছেড়ে নারায়ণগঞ্জে ফিরে গেছেন আইভী। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তিনি কথা বলেন সংবাদ সম্মেলনে।

গত ১৮ জানুয়ারি বিকালে নগরভভনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন আইভী। স্থানীয় চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠিয়ে দেন ঢাকায়। রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তির পর তাকে রাখা হয় নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ)।

পরদিন আইভীকে দেখতে এসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, নারায়ণগঞ্জের মেয়রের স্ট্রোক করেছিল। দুই দিন পর্যবেক্ষণ শেষে গত ২০ জানুয়ারি রাত আটটার দিকে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয় বলে জানান তার চিকিৎসক বরেণ চক্রবর্তী। আজ দুপুরে আইভী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।

পাঁচদিন হাসপাতলে থাকার পরও আইভীর কথায় আগের মতোই সেই তেজস্বী ভাব দেখা গেছে। নারায়ণগঞ্জে যে ঘটনা নিয়ে শামীম ওসমানের সঙ্গে তার পুরনো বিরোধ চাঙ্গা হয়েছে, সেই হকার উচ্ছেদ নিয়ে আবার কঠোর অবস্থানের কথাই জানান তিনি।

মেয়র আইভী বলেন, ‘ফুটপাত দিয়ে আমার নারায়ণগঞ্জবাসী চলাফেরা করবে। এটা হকারদের ব্যবসার জায়গা নয়। ফুটপাত দিয়ে মানুষ হাঁটবে, আর হকাররা ব্যবসা করবে নির্দিষ্ট জায়গায়। যেখানে মানুষের কোনো ক্ষতি হবে না।’

হকারের বিষয়টিতে আইভী যে শামীম ওসমানকে এক বিন্দু ছাড় দেবেন না, সেটি তিনি স্পষ্ট করেই ইঙ্গিত দেন হাসপাতাল ছাড়ার আছে। তিনি বলেন, ‘আমি যে যুদ্ধে নেমেছি সেটা নীতি বা আদর্শের যুদ্ধ, ক্ষমতার যুদ্ধ নয়।’

এরই মধ্যে শামীম ও আইভীকে ঢাকায় ডেকে পাঠানোর খবর প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তবে আইভী অসুস্থ হওয়ার পর এই বিষয়টি আর গতি পায়নি। নারায়ণগঞ্জের মেয়র বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষুদ্র কর্মী। আমি অনেকবার পরীক্ষা দিয়েছি। আমার আর পরীক্ষা দেয়ার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। আমি সারা জীবন শেখ হাসিনার ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে কাজ করে যেতে চাই।’

নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে আইভী বলেন, ‘আমি এখন পুরোপুরি সুস্থ। আমি আমার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, নারায়ণগঞ্জবাসী বিশেষ করে পুরো দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। যারা আমার বিপদের দিনে আমার খোঁজখবর নিয়েছে।’

আইভী বলেন, ‘যে সাহসী আইভীকে তারা চেয়েছিল, সাহসী নারায়ণগঞ্জবাসী আবার জেগেছে। অস্ত্রের ঝনঝনানির কাছে শান্তির যে জয়, নৈতিকতার যে জয়- তাকে কেউ হারাতে পারে না। এটা নারায়ণগঞ্জবাসী দেখিয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জ শহরকে শান্তিময় হতেই হবে- এমন মন্তব্য করে মেয়র বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। আমার কোনো অভিযোগ নেই। রাজনীতিতে এরকম হবেই।’

গত ২৫ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের ফুটপাত থেকে হকারদেরকে উচ্ছেদ করে সিটি করপোরেশন এবং পুলিশ। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সংসদ সদস্য শামীম ওসমান চাইছেন হকাররা আবার বসুক সেখানে। এ নিয়ে দুই পক্ষের কথার লড়াই গত ১৬ জানুয়ারি রূপ নেয় সংঘর্ষে। আহত হন আইভীসহ ৫০ জনেরও বেশি। আর এ নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আইভী ও শামীমের সঙ্গে কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, দুই জনকেই বলেছেন সংযত হয়ে কথা বলতে।

সংঘর্ষের পর দিন নারায়ণগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সড়ক ছাড়া অন্য সড়কে বিকাল পাঁচটার পর হকার বসার অনুমতি দেয় সিটি করপোরেশন। আর পরদিন আইভীর অসুস্থতার খবর পেয়ে হকাররা বঙ্গবন্ধু সড়কেও ফিরে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশ তাদেরকে সেখানে বসতে দেয়নি।