স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৪ নং ওয়ার্ডের আটি এলাকায় ভুমি মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী আবাসন ভুমি পল্লী জামে মসজিদের খতিব শাহ আহমদউল্লাহর ধর্মীয় ফতোয়া জারীর ফলে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উক্ত আবাসন ভুমি পল্লীবাসী। এ বিষয়ে ভুমি পল্লী জামে মসাজদ ও কমপ্লেক্স পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক বরাবর স্থানীয় বাসিন্দাগন লিখিত অভিযোগ করার পরও কোন সুরাহা হচ্ছেনা বরং পরিস্থিতি দিনদিন ঘোলাটে অবস্থায় যাচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, মসজিদ চালু হওয়ার পর থেকে পুর্বের খতিব ও ইমামগন মুসুল্লিদের নিয়ে নিয়ে গুনাহ মাফের জন্য দোয়া দরুদ ও মোনাজাত পরিচালনা করিয়া এসেছেন। কিন্তু বর্তমান খতিব যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন ফতোয়া দিয়ে বিভিন্ন মত প্রচার করে মুসুল্লিদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত ধর্মীয় বিভেদ সুষ্টি এবং মসজিদের মিম্বরে বসে ধর্মীয় বয়ান না করে আত্মপ্রচার ও নিজ মতের অনুসারী নয় এমন মুসুল্লিদের বিরুদ্ধে নিজ মতের অনুসারিদের প্রচারনা ও উস্কানী দিয়ে ভুমি পল্লী আবাসনের শান্তি বিনষ্ট করে ধর্মীয় বিবাদ সৃষ্টি করেছেন। খতিব সাহেব যোগদানের পর কিছু দিন নামাজের দোয়া-দরুদ ও মোনাজাত পরিচালনা করেছেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি দোয়া-দরুদ ও মোনাজাত না করার জন্য ফতোয়া দেন যে,নামাজ বা দোয়া-দরুদের পর মোনাজাত করতে হয়না। এতে করে মুসুল্লিদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তিনি কাজ করছেন। পবিত্র রমজান মাসে রোজার নিয়ত করা যাবেনা এমন ফতোয়া দিয়ে তিনি মুসুল্লিদেরকে বিক্ষুদ্ধ করে তোলেন।

২৫ মে ঈদের জামায়াতে তিনি ফতোয়া জারী করে বলেন, বাবা-মা’র কবর জিয়ারত করা যাবেনা। তার এমন ফতোয়া জারীতে উক্ত আবাসন ভুমিপল্লীর ফ্লাট,বাড়ী,প্লট মালিক ও মুসুল্লিদের মাঝে খতিব আহমদুল্লাহ প্রতি তীব্র জনমত সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সাধারণ মুসুল্লিদেরকে ধর্মীয়ভাবে আঘাতের একাধিক অভিযোগ রয়েছে এ খতিবের বিরুদ্ধে।

গত সপ্তাহে মসজিদ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও অদ্য ১২ই জুন শুক্রবার করোনা ভাইরাসের অযুহাতে ভূমি পল্লী আবাসন কতৃপক্ষের মসজিদে নামাজ আদায় করতে মুসুল্লিদেরকে বাধা প্রদানের অভিযোগ রয়েছে। যা সরেজমিনে জানা যায়। খতিব আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে দোয়া-দরুদ ও মোনাজাত না করা নিয়ে তিনি যে ফতোয়া জারী করেছেন তার প্রতিবাদ করায় অনেক মুসুল্লিদেরকে আবাসন ভুমিপল্লী মুল গেইট দিয়ে প্রবেশ করতে বাধা প্রদান করছেন খতিবের নিজস্ব বলয়ের কিছু লোকজন।গত শুক্রবার জুম্মা নামাজ শেষে মোনাজাত না করা নিয়ে মসজিদের ভেতরে হট্রগোল ও হাতাহাতি দেখা দিলে অফিসের সুপার ভাইজার নুর নবীর হস্তক্ষেপে সমাধান হয় বলে জানা যায়।

কিন্তু অদ্য শুক্রবার ( ১২ জুন ) ভুমি মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী আবাসন ভুমি পল্লী জামে মসজিদের মুসুল্লিরা জুম্মা নামাজ আদায় করতে আসলে তাদেরকে বাধা প্রদান করা হয় এবং জোড়পুর্বক নামাজ আদায়ের জন্য মুল গেইট দিয়ে মসজিদের প্রবেশের চেষ্টা করা হলে কয়েকজন মুসুল্লিকে শারীরিকভাবে নির্যাতনও করা হয়।
এ বিষয়ে আবাসন ভুমি পল্লী’র জামে মসজিদের সভাপতি ডা. খিজির হায়াত খানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তা রিসিভ করেনি।

আবাসন ভুমি পল্লী জামে মসজিদ কমিটির সাধারন সম্পাদক মো.মহাসিনের ব্যবহৃত মুঠোফোনে ( ০১৯২৩৬১৪@@@) কল করা হলে তিনিও তা রিসিভ করেনি।

ভুমি মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী আবাসন ভুমি পল্লী জামে মসজিদের খতিব শাহ আহমদউল্লাহ’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি মুলত ৮/১০টি মিডিয়াতে নিয়মিতভাবে কাজ করছি এমনকি আজও একটি টেলিভিশনে একটি সাক্ষাতকার দিয়েছি। তাছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জের এক সাংবাদিক ভাইয়ের সাথেও কথা হয়েছে এ বিষয়ে। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সম্পূর্ন মিথ্যা।

মোনাজাত,দোয়া ও দরুদের বিষয়টি মসজিদ কমিটির সদস্যদের মাধ্যমেই হয়েছে। আমাদের মসজিদে প্রতিটি জুম্মা নামাজে ভিডিও করা হয় যা আমাদের কাছে রক্ষিত রয়েছে। সেটা দেখলেই বুঝবেন মোনাজাত,দোয়া-দরুদের বিষয়গুলো কিভাবে আলোচনা করা হয়েছিলো।

২৮ জনের স্বাক্ষরিত যে অভিযোগটি দেয়া হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে ১০০ জনের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিও কিন্তু তৈরী করা আছে। বিস্তারিত না জেনে কিছু লিখলে এ জগতে নয় আখেরাতেও এর হিসেব দিতে হবে।

ভুমি মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী আবাসন ভুমি পল্লী’র অফিস সুপার ভাইজার নূরনবীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি আজ আসিনি তাই কিছু জানিনা। নামাজ পড়তে মুসুল্লিদেরকে বাধা প্রদান এবং শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,এটাতো খারাপ কথা। বাধা দিলো কেনো এবং গায়ে হাত তুলবে কেনো? আচ্ছা বিষয়টি বিস্তারিত জেনে আপনাদেরকে বলবো।