নিউজ প্রতিদিন ডটনেট : টিকটকের ফাঁদে পড়ে ঘুমের মধ্যেই দুই শিশু সন্তানকে রেখে ঘরছাড়া হয়েছেন রওশনা আক্তার ওরফে সিনথিয়া নামের এক নারী। সাথে নিয়ে গেছে তার সৌদি আরব প্রবাসী স্বামীর জমানো টাকা ও অলৎকার। পুলিশ বলছে, ওই নারী প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়েছেন।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলি ইউনিয়নের মধ্য নগর এলাকার সৌদি প্রবাসী আজিজুলের সাথে ১০ বছর আগে বিয়ে হয়েছিলো সিনথিয়ার। তার বাবার বাড়ি চরকাশিপুর এলাকায়। তাদের সংসারে ৮ বছরের সাজিত ও ৫ বছরের সাইফ নামে দুই ছেলে রয়েছে। গত কয়েক মাস আগেও তাদের সুখের সংসার ছিলো। আজিজুল বিদেশে থেকে প্রতিমাসে তার স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য বেতনের টাকা পাঠিয়ে দিতেন। পরিবারের সুখের কথা ভেবে দিন রাত সেখানে কাজ করতেন। গত ৭ জুন দুপুরে জানতে পারেন ভোরে তার স্ত্রী সন্তানদের ঘুমে রেখে ঘর থেকে পালিয়ে গেছেন। এ খবর শুনে তিনি আর সৌদিতে থাকতে পারেনি ছুটে এসেছেন নিজ এলাকায়। গত কয়েকদিন তার স্ত্রীকে খুঁজেছেন বিভিন্ন জায়গায়। তাকে না পেয়ে পরে ফতুল্লা থানায় অভিযোগ করেছেন। তবে তদন্ত বেশি দূর গড়ায়নি ফলে ১০ দিন পেড়িয়ে গেলেও খোঁজ মেলেনি আজিজুলের স্ত্রীর।

শুক্রবার রাতে নগরীর চাষাড়া এলাকা বসে কাদঁতে দেখা যায় আজিজুলকে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বাচ্চা দুইটা ওগো মার জন্য খালি কাঁন্দে। বার বার বলে ওদের মারে আইন্ন দিতে। আমি কই থ্যাইকা মা আইন্ন দিমো। আমার জীবনের সব উপার্জন নিয়া সে পালায় গেছে। তাতে আমার দুঃখ নাই কিন্তু বাচ্চাগুলোর কথা ভাবরো না।

আজিজুল জানান, সিনথিয়া অনেক আগে থেকেই টিকটক করতো। সেখানে এক ছেলের সাথে তার অনেক টিকটক আছে। ওই ছেলের সাথে তার স্ত্রীকে প্রায় ভিডিও কলে কথা বলতো দেখতো শিশু ছেলেরা। গত ৩ জুন তাদের বাড়িতে একটি মেয়ে এসেছিলেন। সে তিনদিন সেখানে অবস্থান করে চলে যায়। পরদিন ভোরেই সিনথিয়া ঘর ছাড়ে। শুনেছি ওই ছেলের বাড়ি সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলায় তবে তাকে অনেকে টিকটক আতিফ নামে চেনে।

আজিজুল বলেন, আমি এসব কিছুই জানতাম না। বাড়িতে ফিরে প্রতিবেশীদের কাছে সব জানছি। আমার মনে হয় ওই ছেলে আমার বাড়িতে সেই মেয়ে পাঠিয়ে ছিলো আমার স্ত্রীকে ফাঁদে ফেলতে। আমার চিন্তা লাগে সিনথিয়া যদি কোন প্রতারক চক্রের কাছে পড়ে যায় তাহলে ওর জীবন শেষ হয়ে যাবে।

সিনথিয়াকে উদ্ধারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহযোগিতা চেয়ে আজিজুল বলেন, আমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে দিতে আপনারা আমাকে সাহায্য করুন। আমার বাচ্চা দুইটার কাছে ওর মারে ফিরাইয়া দেন।

এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন আজিজুল। অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা উপপরির্দশক হাবিবুর রহমান জানান, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি ওই গৃহবধূর সন্ধান করতে। আমরা তার বাবার বাড়িতে গিয়ে তার চার ভাইসজ স্বজনদের সাথেও কথা বলেছি কিন্তু তারা কোন তথ্য দিতে পারেনি। ঘটনাটি পরকীয়া বলে আমরা প্রাথমিক ভাবে ধারনা করেছিলেন। পুলিশ ওই গৃহবধূকে উদ্ধারের জন্য চেষ্টা করছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রেজাউল হক দিপু জানান, থানায় এ ধরনের অভযোগ পাওয়ার পর আমরা সেটা গুরুত্ব দিয়ে দেখি। ওই গৃহবধূ কোন চক্রের ফাঁদে পড়েছে নাকি অন্য কোন ঘটনা রয়েছে তা তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি তার সন্ধানের চেষ্টা চলছে।