নিউজ প্রতিদিন : হেফাজতে বাংলাদেশের প্রয়াত আমির শাহ আহমদ শফী জামায়াত-শিবিরের পরিকল্পিত হত্যকাণ্ডের শিকার বলে দাবি করেছেন তার শ্যালক মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন। শনিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ’ ব্যানারে আয়োজিত সংগঠনটির একাংশের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানিয়েছেন। একই সংবাদ সম্মেলন থেকে ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া হেফাজতে ইসলামের কাউন্সিল বন্ধের দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন বলেন, ‘আমার আপন বোন ফিরোজা বেগম (৮০) আমার ভগ্নিপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফী হুজুরের অস্বাভাবিক মৃত্যুর শোকে অসুস্থ। আমি তার কান্না সহ্য করতে পারছি না। তার অনুরোধে আমি আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। সংবাদ সম্মেলনে আনাস মাদানীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। হুজুরের হত্যাকারীরা তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ায় তিনি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভগ্নিপতি হজরত আল্লামা শফী স্বাভাবিকভাবে মারা যাননি। শিবিরের প্রেতাত্মারা শাহ আহমদ শফী হুজুরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমরা তার খুনের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করছি। আমরা তার হত্যাকাণ্ডের বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।’
তিনি বলেন, ‘শাপলা চত্বরে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ফাঁদে পা না দেওয়ার কারণে শফী হুজুরকে তখন থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী মাদ্রাসায় কিছু ছাত্রকে উসকে দিয়ে জামায়াত-শিবিরের লেলিয়ে দেওয়া ক্যাডারবাহিনী মাদ্রাসা অবরুদ্ধ রাখে। এ সময় জুনায়েদ বাবুনগরী মাদ্রাসায় অবস্থান করে মীর ইদ্রিছ, নাছির উদ্দিন মুনীর, মুফতি হারুন ও ইনজামুল হাসানদের দিয়ে মাদ্রাসায় ভাঙচুর করায়। এক পর্যায়ে তারা জোরপূর্বক হুজুরের কক্ষে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও হুজুরকে নির্যাতন করে। শফী হুজুরকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। এতে হুজুর অসুস্থ হয়ে পড়লে মুখে অক্সিজেন দেওয়া হয়। কিন্তু জামায়াত-শিবিরের সদস্যরা অক্সিজেন খুলে দিলে তিনি মৃত্যুর দিকে ঝুঁকে পড়েন। পরে অ্যাম্বুলেন্স আসলেও তারা ঠিক সময়ে অ্যাম্বুলেন্স ছাড়তে দেয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন, শফী হুজুরকে হত্যার উদ্দেশ্যে ও হাটহাজারী মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য জামায়াত-শিবির ১৯৮৫ সালে হামলা চালায়। দেশের প্রতি মমত্ববোধ ও কওমির প্রতি ভালোবাসা থাকায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ হামলা রুখে দেন শফী হুজুর। এছাড়া শফী হুজুর প্রকাশ্যে স্বাধীনতাবিরোধীদের (জামায়াত-শিবির) বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতেন ও তাদের বিরুদ্ধে নানা বইও লিখেছেন। এ কারণে শফী হুজুরের প্রতি জামায়াত-শিবিরের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। সেই ক্ষোভ থেকে এই হত্যাকাণ্ড।’
১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া হেফাজতে ইসলামের কাউন্সিল বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হুজুরের হত্যার বিচার দাবি না তুলে ১৫ নভেম্বর কাউন্সিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধি কাউন্সিলের মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে হুজুরের গড়া সংগঠনকে বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এ সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামীকালের (রবিবার) কাউন্সিল বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি। অবিলম্বে এ সম্মেলন বন্ধ করতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহকারী কোষাধ্যক্ষ সরোয়ার আলম, প্রচার সম্পাদক শামসুল হক, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ওসমান কাশেমী প্রমুখ।
উল্লেখ্য, আগামী রবিবার (১৫ নভেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় বসছে হেফাজতে ইসলামের প্রতিনিধি সম্মেলন, সেখানেই নির্ধারণ হবে সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব। চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুতে কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের এই সংগঠনটির শীর্ষপদ শূন্য হয়। আসন্ন এই কাউন্সিলে হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্ব নির্ধারণকে কেন্দ্র ইতোমধ্যে অস্থির হয়ে উঠেছে কওমি অঙ্গন। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আলেমদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নানা অস্বস্তি। একটি পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এই সম্মেলন না মানার ঘোষণা এসেছে, আরেকটি পক্ষ নীরবে নজর রাখছে পরিস্থিতির ওপর। এরইমধ্যে আহমদ শফীর স্বাক্ষরিত হেফাজতের নতুন একটি কমিটির কাগজপত্র ছড়িয়ে পড়েছে আলেমদের মাঝে।









আলোচনা অনুষ্ঠানের পর অতিথীদের উপস্থিতিতে বৃক্ষরোপণ করা হয় এবং এলাকার লোকদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ করা হয়। তাছাড়া সংগঠনটি আগামী বছর এই গ্রামের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিনামুল্যে ভর্তির জন্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং মৃত ব্যক্তিদের দাফনের জন্য বিনামূল্যে কাফনের কাপড় সরবরাহের কার্যক্রম চালু করা হয়।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জীবন, আলোকিত বক্তাবলীর সভাপতি নাজির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম, বক্তাবলী ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি আল আমিন ইকবাল, সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ মতিন, সাধারণ সম্পাদক, মতিউর রহমান ফকির, ধলেশ্বরীর তীরে সংগঠনের সিনিয়র সভাপতি জিয়াউর রহমান ফকির, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ইমরান, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল প্রধান, কানাইনগর সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মাহবুব হাসান রতন, আলোকিত বক্তাবলীর দপ্তর সম্পাদক মো. দুলাল মিয়া, বিশেষ সম্পাদক মনির হোসেন ছাড়া ও এলাকার মিয়ন মাদবর ,সুফিয়ান মাদবর, জলিল মেম্বারসহ গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।
সমাবেশে পীর সাহেব আরো বলেন, ধর্ষন সামাজিক মহামারীতে রুপ নিয়েছে। এর কারন কুশিক্ষা, কুরআনের আইনে বিচার না হওয়া, পর্দা প্রথা বাধ্যতামূলক না থাকা। ধর্ষণ সন্ত্রাস বন্ধ করতে হলে কুরআন সুন্নাহর আইন বাধ্যতামূলক করে ধর্ষকদের শাহাবাগে, মতিঝিলে প্রকাশ্য ভাবে কতল করতে হবে।