নিউজ প্রতিদিন ডটনেট : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন ৮টি দোকানঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় একদল দুর্ধর্ষ চাঁদাবাজ ও তাদের সহযোগীরা। গতকাল ০৪ মে দিবাগত রাত ২টার দিকে চর বক্তাবলী গোপালনগর এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলা ও লুটের ঘটনা ঘটে। শুধু ভাঙচুরই নয়, হামলাকারীরা নির্মাণাধীন সাইট থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী মীর মোঃ সওকত আলী (৭১) চাঁদাবাজির অভিযোগে গত ২১ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, চর বক্তাবলী মৌজায় তাদের পৈত্রিক ও খরিদ সূত্রে মালিকানাধীন ২৪.৮০ শতাংশ জমিতে দোকানঘর নির্মাণ কাজ শুরু করলে স্থানীয় ১নং বিবাদী মোঃ আবুল হোসেন মীর, তার ছেলে জিসাদ ও মোঃ কাশেমসহ একটি চক্র ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ইতিপূর্বে ২১ এপ্রিল রাতেও বিবাদীরা লোহার হাতুড়ি নিয়ে স্থাপনা ভাঙচুরের চেষ্টা এবং জীবননাশের হুমকি দেয়।
তার ছোট ভাই মীর নেওয়াজ আলী জানান, পুলিশের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর বিবাদীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গতকাল রাত ২টার দিকে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল আমারে বাড়ির সংলগ্ন ওই সম্পত্তিতে অনাধিকার প্রবেশ করে। তারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ১০টি নির্মাণাধীন দোকানের দেয়াল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এতে কয়েক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সাইটে থাকা নির্মাণ সামগ্রীসহ প্রায় দেড় লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
৭১ বছর বয়সী মীর শওকত আলী ও তার ভাই মীর নেওয়াজ আলীসহ তাদের পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিবাদীরা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে যে, এক সপ্তাহের মধ্যে ১০ লাখ টাকা না দিলে তাদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ১ ও ২নং বিবাদী এলাকায় দুর্ধর্ষ প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত এবং তাদের কোনো বৈধ পেশা না থাকলেও চাঁদাবাজি ও মামলাবাজির মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং চিহ্নিত চাঁদাবাজদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। মীর নেওয়াজ আলী বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে গত ২১ এপ্রিল থানায় অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু সন্ত্রাসীরা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আমাদের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।









