নিউজ প্রতিদিন: কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে (আহমদিয়া মুসলিম জামাত) রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফ্ফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জে মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার দুপুরে নগরের জামতলায় কেন্দ্রীয় ঈদগাহে মহাসম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনকে ঘিরে প্রায় ৩ লাখ লোকের সমাগম হয় পুরো নারায়ণগঞ্জ শহর জুড়ে। সমাবেশস্থল থেকে লোকসমাগম পুরো চাষাঢ়া ও পঞ্চবটি সংযোগ সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
হেফাজতের কেন্দ্রীয় আমির আল্লামা আহমদ শফী বলেছেন, হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর পর কোন নবী আসতে পারে না। যারা এই ঘোষণা মানতে নারাজ তারা সুস্পষ্ট কাফের। যারা আমাদের শেষ নবীকে বিশ্বাস করে না তারাও এদের দলের অন্তর্ভুক্ত। এমনকি যারা কাদিয়ানীদের কাফের মনে করে না তারাও কাফের।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহে আয়োজিত কাদিয়ানী বিরোধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন । সম্মেলনকে ঘিরে প্রায় ৩ লাখ লোকের সমাগম হয় পুরো নারায়ণগঞ্জ শহর জুড়ে। সমাবেশস্থল থেকে লোকসমাগম পুরো চাষাঢ়া ও পঞ্চবটি সংযোগ সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
মহাসম্মেলনের প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। আহমদ শফি বলেন, কাদিয়ানীদের মুসলমানের কবরস্থানে দাফন করা যাবেনা। একই সাথে তাদের সাথে আত্মীয়তা করা যাবেনা। তাদের সুন্দরী নারীকে বিবাহ করা যাবেনা।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দ্যেশ্য করে বলেন, আমি শেখ হাসিনাকে অনেকবার বলেছি যে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করো। কিন্তু এখনও তারা সেই কথা বাস্তবায়ন করেনি। আমি বলবো যাতে অতিস্বত্বর এই ঘোষণা বাস্তবায়ন করা হয়। সরকারের নীতিনির্ধারকরা যদি নিজেকে মুসলমান হিসেবে দাবী করতে চায় তাহলে তাদের অবশ্যই কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে। যদি তা না করা হয় পরবর্তীতে দেশের কি অবস্থা হবে তা জানিনা। সরকারকে বার বার বলা হয়েছে, কিন্তু তারা কর্নপাত করছে না। যদি সরকার আমাদের দাবী মানেন তাহলে আমরা আপনার সাথে থাকবো অন্যথায় আপনার সাথে আমরা নেই।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, আল¬ামা জুনায়ের আল হাবিব, মুফতি সাখাওয়াত হোসেন নদভী, মুফতি মিজানুর রহমান সাইদ, মুহাম্মদ রেজাউল হোসেন, মাওলানা মোহাম্মদ হানজালা, মাওলানা আহমফ আলী কাশেমী, মুফতি নূর হোসাইন নুরানী, মাওলানা মুজিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের নেতা, মুফতি মাসুম বিল্লাহ, নাসিক ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, শ্রমিক নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ, নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতের আহবায়ক মাওলানা আব্দুল আউয়াল, এবিএম সিরাজুল মামুন, খেলাফত আন্দোলনের আমির আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজী, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী প্রমুখ।
এদিকে, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছেন ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেন। তিনি বলেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি কিংবা কোনো ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য যাতে প্রদান করা না হয় সেজন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল। সমাবেশ ঘিরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়।



আজকের বিক্ষোভ মিছিলে আলেম সমাজ সহ এলাকার সর্ব সাধারণ মানুষ স্বার্থফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বক্তাবলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের জামে মসজিদ থেকে মিছিল নিয়ে বক্তাবলী বাজারে পথসভা করেন।এই পথসভা শেষ করে বক্তাবলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।
উক্ত বিক্ষোভ মিছিলে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বক্তাবলী মধ্য মহল্লা বায়তুল নূর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ ফেরদৌস হোসাইন, রাজাপুর মাস্টার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সাইফুল ইসলাম,রাজাপুর চৌরাস্তা জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোঃ সুলতান আহম্মদ, মধ্যনগর গ্রামের বিভিন্ন জামে মসজিদ থেকে আসা ইমাম মাওলানা হাফেজ মনির, মাওলানা মাহাবুব, মাওলানা আব্দুল্লা হাফিজ,মাওলানা আবু সাঈদ, মাওলানা সাঈদ হোসাইন,বক্তাবলী বড় মসজিদের ইমাম মাওলানা মুক্তি ইমরান হোসাইন,মাওলানা বেলাল হোসাঈন,মাওলানা মমিনুল ইসলাম হোসাইন,আব্দুল আজিজ কয়াল,মো.আবুল খায়ের ও মোজাম প্রমুখ।
পুলিশ বক্সের পুলিশ ইব্রাহীম মন্ডলের স্ত্রীকে ছেড়ে দিলেও আটক অনিককে ফতুল্লা থানা পুলিশের হাতে সোর্পদ করা হয়।



তিনি আরো বলেন, আজকের খেলা দেখে আমার মনে হলো বক্তাবলীর ছেলেরা গ্রামের সন্তান হলেও তারা কিন্তু খেলাধুলায় পিছিয়ে নেই। আমাদের ছেলেরা ভাল খেলাধুলা করে এখান থেকে জেলা ভিত্তিক, বিভাগীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে খেলতে পারে সেই প্রত্যাশা করছি।
এর আগে ফাইনাল খেলার উদ্বোধন করেন বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম শওকত আলী।
অনুষ্ঠানটি সার্বিক ভাবে দায়িত্ব পালন করেছে, ওসমান, নাজমুল, মেহেদী, হাছান, মেহেদী মারুফ, জুয়েল, শফিকুল ইসলাম, শান্ত ও নাহিদ।
