সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে রাজউক কর্তৃক এক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলি নতুন আইলপাড়া এলাকায় শুরু হয় এই অভিযান। এসময় নাসিক ৮নং ওয়ার্ড নতুন আইলপাড়া এলাকার ইটালী প্রবাসী দম্পতি শাহাবুদ্দিন ও মার্জিয়া বেগমের বাড়িতে উচ্ছেদ অভিযান চালায় রাজউক। এসময় বাড়ির নকশা বহির্ভূত সিমানা প্রাচির ও পার্কিংয়ের স্থানে ফ্ল্যাট নির্মাণ করায় তা ভেঙ্গে দেয় রাজউক।
এদিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বছর খানেক আগে ইটালী প্রবাসি দম্পত্তি শাহাবুদ্দিন ও মার্জিয়া বেগম নাসিক ৮নং ওয়ার্ডের নতুন আইলপাড়া এলাকায় বাড়ির নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ওই সময় থেকেই এলাকাবাসির অভিযোগ ছিলো বাড়ি নির্মাণের সময় রাস্তার জন্য যে পরিমান জায়গা ছাড়া দরকার ছিলো তা না ছেড়েই বাড়ি নির্মাণ করছেন ওই দম্পতি। এ বিষয়ে স্থানীয়রা ওই দম্পতিকে এলাকাবাসী অবহিত করলেও তারা সেই দিকে কর্ণপাত না করেই বাড়ি নির্মাণের কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। পরে ওই দম্পতির প্রতিবেশী খন্দকার নজরুল ইসলাম ও নাজিম উদ্দিন এ বিষয়ে রাজউকে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজউক তাদের নিজ দায়িত্বে নকশা বহির্ভূত স্থাপনা অপসারনের নির্দেশ দেয়। তারপরও তারা সেই স্থাপনা অপসারণ করেনি। পরে তাদের কয়েকবার রাজউকের পক্ষ থেকে সময়ও দেয়া হয়। সবকিছুর পরও ওই দম্পতি বাড়িটির নকশা বহির্ভূত অংশ অপসারণ না করায় বৃহস্পতিবার উচ্ছেদ অভিযান চালায় রাজউক। এদিকে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ওই দম্পতি বর্তমানে ইটালী রয়েছে। ওই বাড়িতে বর্তমানে থাকেন শাহাবুদ্দিনের পিতা শাহজাহান সরকার। তাকে উচ্ছেদের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেনি। তবে এসময় উপস্থিত ছিলেন মার্জিয়ার ভাই বাবু জানায় আমার বোন ও বোন জামাতা বিদেশে থাকে। তারা দেশে থাকতে এ রাজউক তাদের কি বলেছে তা আমি জানি না। তবে আজ রাজউক বাড়ি ভাংগতে আসবে তা আমরা জানতাম না। তারা কোন নোটিশ না দিয়েই বাড়ি ভাঙ্গতে এসেছে। এবিষয়ে রাজউক নারায়ণগঞ্জ জোনাল অফিসের অথরাইজড অফিসার মাকিদ হাসান জানায়, শাহাবুদ্দিন ও মার্জিয়া দম্পতিকে আমরা নোটিশ করেছি এবং নোটিশের পরে সময়ও দিয়েছি। সেই নোটিশের অনুলিপি আমাদের কাছেও আছে। এবং মর্জিয়া বেগমের কাছেও আছে। পরে মার্জিয়া বেগমের ভাই বাবুর সাথে এ বিষয়ে কথা বলে বিষয়টির সত্যতা খুজে পাওয়া যায়। এবং পরে তিনি ওই নোটিশের কাগজ দেখায় উপস্থিত সাংবাদিকদের।





এ বিষয়ে র্যাব-১১ এর এএসপি নাজমুল হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি ফতুল্লা শিবু মার্কেট কুতুব আইল এলাকায় এসএস এগ্রো ফুড কোম্পানি নামে একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ দিন যাবৎ ভেজাল খাদ্য সামগ্রী বানিয়ে আসছিলো। আজ (শনিবার) আমরা প্রতিষ্ঠানটিতে উপস্থিত হয়ে দেখতে পাই নোংরা পরিবেশে ভেজাল টমেটো ছস, আমের আচার, সয়াছসসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী উৎপাদন করা হয় এখানে। এখানে যেসব পণ্য উৎপাদন করা হয় সেগুলোর একটিও মানসম্মত নয়। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিএসটিআইয়ের কোন ছাড়পত্রও নেই। কোন ধরনের অনুমোতি ছাড়াই তারা এখানে প্রায় তেরো বছর যাবৎ এসব পণ্য উৎপাদন করে আসছিলো। যা কিনা মানব দেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। পরবর্তীতে আমরা নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মালিক দ্ইু সহোদরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করি। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নির্বার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট তাসলিমুন নেছা জানায়, ফতুল্লার কুতুবআইল এলাকার এসএসএগ্রো ফুড কোম্পানি নামে প্রতিষ্ঠানটি ভেজাল খাদ্য সামগ্রী উৎপাদন করে আসছিলো দীর্ঘ দিন যাবৎ। র্যাবের অভিযানে আটকের পর আমরা প্রতিষ্ঠানের মালিক দুই সহোদর আঃ ছাত্তার মোল্লা এবং আঃ আজিজ মোল্লাকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছি।


