৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 249

তারেক রহমানের সাথে ঘনিষ্ঠতা ছিল তামিমের-উইকলি বি-জড’র পত্রিকা

নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া এলাকার একটি জঙ্গি আস্তানায় শনিবার (২৭ আগস্ট) যৌথবাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছে গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরী। কথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বাংলাদেশ প্রধাণ ছিলেন তিনি। তামিমের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্যতম বিরোধীদল বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব ও দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল। লন্ডনের জনপ্রিয় পত্রিকা ‘উইকলি বি-জড’র অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছিল। তারেক রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশের কথিত শীর্ষ পর্যায়ের আইএস নেতা তামিম চৌধুরী ওরফে শেখ আবু ইবরাহিম আল হানিফের বেশ ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল। তারা দুজনেই মেয়েদের ছদ্মনামে চিঠি চালাচালি করতেন। যেগুলো বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের উত্থানে ব্যাপক ভুমিকা রেখেছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের একটি গোয়েন্দা সংস্থা তামিমকে পাঠানো তারেকের একটি চিঠি পায়। ওই গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র ধরে লন্ডনের জনপ্রিয় সপ্তাহিক ট্যবলয়েড পত্রিকা ‘উইকলি বি¬জড’ এ তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে ওই গোয়েন্দা সংস্থার নাম প্রকাশ করেনি পত্রিকাটি। উইকলি বি¬জড এর চলতি সংখ্যায় ‘তারেক-তামিম কানেকশন এক্সপোজড’ শিরোনামে ওই সংবাদে বলা হয়, ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য তারেক রহমান যুক্তরাজ্য যান এবং লন্ডনে বসবাস করা শুরু করেন। ২০১২ সালে বিএনপির এক নেতার মাধ্যমে তারেকের সঙ্গে কানাডায় বসবাসরত তামিম চৌধুরীর পরিচয় হয়। পাশাপাশি তারেক রহমান সেসময়ে কানাডায় বসবাসরত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যকারী এবং মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামীর সঙ্গেও ঘনিষ্ট যোগাযোগ রক্ষা করে এসেছেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ওই গোয়েন্দা সংস্থাটি আরও জানায়, তারেক ও তামিমের সম্পর্কটি ছিল অত্যন্ত সাবলিল। ’তামান্না’ ছদ্মনামে তারেকেরে সঙ্গে নিয়মিত চিঠি চালাচালি এবং মোবাইলে মেসেজ আদান প্রদান করতেন তামিম। এদিকে তারেক রহমানের ছদ্মনাম ছিল ‘কনিকা’। ২০১৩ সালের মাঝামাঝি কোন এক সময়ে তামিম কানাডা থেকে ‘নিখোঁজ’ হয়ে যায়। পরে সে ইরাকে গিয়ে আইএসে যোগ দেয়। কম্পিউটারে টাইপ করা তামিমের ‘তামান্না’ নামের চিঠিগুলো প্রথমে ইরাক থেকে তুরস্ক যেত এবং সেখান থেকে কুরিয়ার বা মেইলের মাধ্যমে লন্ডনে আসতো। এরপর কোন ব্যক্তির মারফত তারেকের লন্ডনের বাসায় পৌঁছে যেত। একই পদ্ধতিতে তারেক তামিমকে চিঠি পাঠাত বলে ওই গোয়েন্দা সংস্থাটি বি¬টজকে জানায়। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে তারেক (কনিকা) একটি টাইপ করা চিঠি পাঠিয়েছিল তামিমকে (তামান্না) দূর্ভাগ্যক্রমে সেই চিঠি তামিমের হাতে পৌঁছাবার আগেই গোয়েন্দা সংস্থাটির হস্তগত হয়। আর তখনই বেরিয়ে আসে তারেক তামিমের বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যৌথ ষড়যন্ত্রের কথা। চিঠিটিতে তারেক (কনিকা) তামিমকে (তামান্নাকে) সম্বোধন করেছিল ‘মাই ডিয়ারেষ্ট বাডি’ হিসেবে। দুই পৃষ্টার কম্পিউটারে টাইপ করা চিঠিতে তারেক লিখেছিল, উইকলি বি¬টজ ওই চিঠিটির পুরো অংশ না পেলেও গোয়োন্দা সংস্থাটির বরাত দিয়ে জানিয়েছে চিঠিটিতে মোট আটটি প্যারাগ্রাফ ছিল এবং চিঠিটি ছিল ২ হাজার ৩৭৮ শব্দের। চিঠিটিতে তারেক রহমান বাংলাদেশে আইএসের অভ্যুদয় ঘটলে বিএনপি সর্বোচ্চ সমর্থন দেবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিল। বাংলাদেশ ও ভারতের গোয়েন্দারা তারেক ও তামিমের মধ্যের ওই সম্পর্কের বিষয়টি কতখানি অবগত তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। তামিম চৌধুরী একজন কানাডিয়ান বাংলাদেশী যিনি আইএসের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা। বাংলাদেশের আইএস কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। আইএসের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত ‘দাবিক’ নামে পরিচিত ওয়েবসাইটে তার নিয়মিত লেখা ও সাক্ষাতকার প্রকাশিত হয়ে আসছে বলে ওই সংবাদটিতে বর্ণনা করা হয়েছে।

সিদ্ধিরগঞ্জে পশুরহাট নিয়ে বিভক্তিতে মুক্তিযোদ্ধারা

সিদ্ধিরগঞ্জে কোরবানীর হাট নিয়ে ত্রিমূখী চক্রান্তে দু”ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এ নিয়ে তাদের মধ্যে মত পার্থক্য দেখে দিয়েছে। এনিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের একপক্ষ অপর পক্ষকে ঘায়েল করতে সংবাদ সম্মেলন করেছে। এ সময় তারা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিটের কমান্ডার শাজাহান ভূইয়া (জুলহাস) এর কঠোর সমালোচনা করেন।

শনিবার দুপুর ২টায় গোদনাইল চৌধুরী বাড়ি একটি চাইনিজ হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলন করে তারা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোহর আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর হোসেন মোল্লা, বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তার হোসেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা এহসান কবির রমজান, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ সাউদ, বীরমুক্তিযোদ্ধা সামসুদ্দিন প্রধান, বীরমুক্তিযোদ্ধা অব্দুল আলী, বীরমুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহম্মেদ, বীরমুক্তিযোদ্ধা মোখলেসুর রহমান, বীরমুক্তিযোদ্ধা শুক্কুর আলী, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ, বীরমুক্তিযোদ্ধা সালাউদ্দিন, বীরমুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান, বীরমুক্তিযোদ্ধা নরুল ইসলাম, বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুদা সুলতানা, বীরমুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান, বীরমুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক প্রমূখ।

এসময় বীরমুক্তিযোদ্ধা নুর হোসেন মোল্লা বলেন, আমদের ১০ ও ৮নং ওয়ার্ডে বীরমুক্তিযোদ্ধাদের অবগত না করে বীরমুক্তিযোদ্ধা বহুমুখি সমবায় এর প্যাড ব্যবহার করে ব্যক্তি নামে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নেওয়া হয়েছে। তাই আমরা সকল মুক্তিযোদ্ধাদের জুলহাস ভূইয়ার নামের এই হাট অন্যকেউ যদি পরিচালনা করে তাতে আমাদের কোন আপত্তি থাকবেনা। আমরা চাই এলাকার সকলে মিলে হাট পরিচালনা করতে।

তিনি বলেন, জুলহাস ব্যক্তি স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছে। সে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে। হাট পাওয়ার পরে জুলহাস ভূইয়াকে বলি হাট করার জন্য টাকা কোথায় পেলেন ? তিনি (জুলহাস) বলেন কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা দিয়েছে।

বীরমুক্তিযোদ্ধা সামসুদ্দিন প্রধান বলেন, সমিতির নামে হাট এনে বহিরাগত ব্যক্তিদের দিয়ে হাট পরিচালনা করা হবে তা আমরা বীরমুক্তিযোদ্ধারা মানিনা। তাই আমাদের অবগত না করায় আজকের সংবাদ সমম্বেলন ডাকা হয়েছে।

বীরমুক্তিযোদ্ধা মজিদ সাউদ বলেন, কিছু দিন আগে আমাকে বলেছিল হাট করবে। তার পর আর জানায়নি। আজ ৬ দিন হওয়ার পরেও কোন বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মিটিং করেনি।

বীরমুক্তিযোদ্ধা এহসান কবীর রমজন বলেন, বীরমুক্তিযোদ্ধা সমিতির প্যাড ব্যবহার করে নিজ নামে হাট এনে ব্যাক্তি স্বার্থে হাট এনে কারো সাথে কথা না বলে নিজে চালানোর কথা বলে। তাই আমরা হাট পরিচালনার জন্য অন্য কাউকে দিলে আমাদের বীরমুক্তিযোদ্ধাদের কোন আপত্তি থাকবেনা।

এদিকে গত মঙ্গলবার ৮নং ওয়ার্ডে ইব্রাহিম টেক্সটাইল মিলস্ বালুর মাঠে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বীরমুক্তিযোদ্ধা বহুমূখী সমবায় সমিতির ব্যানারের ২৫ লাখ টাকায় কোরবানীর হাট পায়। সে হাটটি দখল করতে মঙ্গলবার থেকেই এলাকার ক্ষমতাশিন দলের লোকেরা মহড়া দিতে থাকে। এনিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তাই প্রেক্ষিতে ক্ষমতাশিন দলের লোকেরা বীরমুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করিয়েছে বলে একাধিক বীরমুক্তিযোদ্ধা জানিয়েছে।

সোনারগাঁয়ে সন্ত্রাসী হামলা, বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট, আহত-৫

পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাজিপাড়া গ্রামে শুক্রবার রাতে একই পরিবারের পাচঁজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসীরা জানান, উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের কাজিপাড়া গ্রামের মাহাবুব মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের ঈসমাইল মিয়ার দীর্ঘ দিন ধরে পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্ধ চলে আসছিল। শুক্রবার রাতে ঈসমাইল মিয়া তার পাওনা টাকা চাইতে গেলে দুজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এর জের ধরে মাহাবুব মিয়ার নেতৃত্বে অমিত মিয়া, সানি মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেনসহ ৮/১০ জনের একটি দল ছেনা, ছুরি, রামদা, লাঠি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঈসমাইল মিয়ার পরিবারের উপর হামলা চালায়। এ সময় হামলায় ঈসমাইলের বাবা শাহআলম ভাই ইসরাফিল মিয়া, ফুলবাহার বেগম, শরীফ মিয়াকে এলোপাথারী কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাতœকভাবে আহত করে বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে ঘরে থাকা বিভিন্ন মালামাল সহ নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঈসমাইল হোসেন বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দয়ের করেছেন।

ঈসমাইল হোসেন জানান, পাওনা টাকা চাওয়ার জের ধরে সন্ত্রাসী মাহাবুব মিয়া ও তার সহযোগীরা আমার পরিবারের পাচঁজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে বাড়ি ঘর ভাংচুর করে নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। অপরদিকে মাহাবুব মিয়া জানান, এ ঘটনায় তিনি ও তার লোকজন জড়িত নন।

সোনারগাঁ থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রূপগঞ্জে রপ্তানীমুখী কারখানায় দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত-১২

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসীস্থ সিটি গ্রুপ রপ্তানীমুখী কারখানায় সিকিউরিটি গার্ডের দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। ওভারটাইমসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত সিকউিরিটি গার্ডদের মধ্যে শনিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর থেকে উভয় পক্ষের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় আবারো সংষর্ষের ঘটনা ঘটেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও কারখানা সিকিউরিটি গার্ড কমান্ডার মকবুল, মান্নান, ফারুক, হানিফ, নাজিম জানায়, রূপসীস্থ এলাকার সিটি গ্রুপ কারখানার নিরাপত্তার পহরি দায়িত্বে রয়েছেন প্রায় সাড়ে ৩ শতাধীক সিকিউরিটি গার্ড। কারখানায় সিকিউরিটি গার্ডদের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন মাজিদুর রহমান। মাজিদুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

তারা আরো জানান, প্রধান মাজিদুর রহমান তার নিজ এলাকা রাজশাহী থেকে নিজস্ব প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জনকে নগদ নারায়নে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে চাকুরি দিয়েছেন। মাজিদুর রহমানের নিয়োজিত সিকিউরিটি গার্ডদের ওভারটাইমসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিলেও অন্যদের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে আসছে।
এ বিষয় নিয়ে শনিবার সকাল ৯টার দিকে সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত সিকিউরিটি গার্ড রানা ও রাকিবুল সিকিউরিটি প্রধান মাজিদুর রহমানের কাছে ওভারটাইমসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দাবি করেন। এসময় ক্ষিপ্ত হয়ে মাজিদুর রহমানসহ তার নিয়োজিত লোকজন রানা ও রাকিবুলকে পিটিয়ে আহত করে। এক পর্যায়ে সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত সিকিউরিটি গার্ডদের সঙ্গে সিকিউরিটি প্রধানের নিয়োজিত লোকজন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এসময় কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কাজ ছেড়ে ছুটাছুটি করতে শুরু করেন শ্রমিক, কর্মচারীরা। প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে চলে রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষ।

উভয় পক্ষের সিকিউরিটি গার্ড প্রধান মাজিদুর রহমান, কমান্ডার আল-আমিন, সাহিন মিয়া, মেহেদী হাসান, সবুজ মিয়া, রানা, রাকিবুলসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় ও রাজধানীর বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে সংর্ঘষ নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে কারখানার ডিজিএম জাকির হোসেন ও ফ্যক্টরীর দায়ীত্বরত সাত্তার মাহাজন সুবিধা বঞ্চিতদের সুযোগ-সুবিধা দিবেন বলে আশ্বাস দেন। পরে উত্তেজিত সিকিউরিটি গার্ড সবাই কাজে যোগ দেন।

রূপগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ফতুল্লায় সোর্স রনি দাসের বিরুদ্ধে ২ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজীর মামলা

ফতুল্লায় আবারও সোর্স রনি কুমার দাসের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর মামলা । গতকাল শনিবার ফতুল্লা মডেল থানায় গার্মেন্টস ব্যবসায়ী শামীম বাদী হয়ে রনিসহ ৫ জনকে আসামী করে ২ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজীর মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অন্য আসামীরা হলো জুট সন্ত্রাসী আব্দুল, মো: আলী, সাইফুল ওরফে বরিশাইল্যা সাইফুল, সুমন । মামলা নং- ৯১(৮)১৬। এর আগে ফতুল্লা ধর্মগঞ্জ শীষ মহল এলাকায় হিন্দুদের ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ও মোবাইল চুরির এবং নাশকতার মামলা রয়েছে । এ মামলা সূত্রে জানাযায়, ফতুল্লা মাসদাইর শেরে বাংলাসড়কের মো. সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মো. শামীম মিয়া। সে গার্মেন্টস ব্যবসা করে আসছে। এই ব্যবসায়ীকে নিয়ে মাসদাইর পাকারপুল এলাকার আ. জব্বারের ছেলে জুট সন্ত্রাসী মো.আব্দুলের সাথে বিরোধ চলে আসছে। গত ২৪ আগস্ট রাত সোয়া ৯টায় শামীম ব্যবসায়ীক কাজে ধর্মগঞ্জ শীষ মহল এলাকায় তার বন্ধু পলাশের বাসায় যায়। পলাশের সাথে কথা বার্তা শেষ করে শামীম তার বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।এমন সময় পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ঔৎ পেতে থাকা মাসদাইর পাকাপুল এলাকার আ.জব্বারের ছেলে আব্দুল, মো.আলী, সোর্স রনি কুমার দাস, সাইফুল ওরফে বরিশাইল্যা সাইফুল, সুমন গংরা শীষ মহল মাঠে শামীম পৌছানো মাত্রই সন্ত্রাসী কায়দায় মারপিট করে। এরপর রনি অব্দুল গংরা শামীমকে মারপিট করে আটক রেখে বাসা থেকে ফোন করে নগদ ২লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে । তাদের ২লক্ষ টাকা চাঁদা দিলে শামীম কে ছেড়ে দেয়ার প্রতিশ্রæতি দেয়। যদি টাকা না দেয় তাহলে শামীম মেরে ফেলার হুমকী দেয়। এরপর শামীমের পরিবার তাকে খুজেঁ না পেয়ে শামীমে পরিবারের লোকজন ফতুল্লা মডেল থানায় এসে অভিযোগ করে পুলিশ নিয়ে ঘটনা স্থলে যায়।পুলিশের টের পেয়ে রনি ও আব্দুল গংরা শামীমকে শীষ মহল মাঠে ফেলে পালিয়ে যায়।এঘটনা যাচাই করে তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ জুট সন্ত্রাসী আব্দুল ,পুলিশের সোর্স কথিত সাংবাদিক রনিকুমার দাস সহ ৫জনকে আসামী করে শামীম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করেছেন। সূত্রে জানাযায়, ফতুল্লা মডেল থানার সাবেক এস আই হারুন আর রশিদের সোর্স ছিলেন ফতুল্লার পঞ্চবটি হরিহর পাড়া এলাকার রনি কুমার দাস। সেই থেকে পুলিশের সাথে সখ্যতা রেখে সাধারন মানুষকে ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ফাও না দেওয়ায় পুলিশ দিয়ে তাদের ধরিয়ে দিত। চলতি বছরের ২৬ ও ২৭ ফেব্রæয়ারী ফতুল্লা ধর্মগঞ্জ শীষ মহল এলাকায় রাতে নিতাইচন্দ্রের ঘরে এবং সত্যচন্দ্র দাসের নারিকেলের শলার গোডাউনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ২ মার্চ রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় অমর চন্দ্র দাস বাদী হয়ে সোর্স রনি কুমার দাসকে প্রধান আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলানং ৬(৩)১৬। প্রায় ৩ মাস পূর্বে ড্যান্ডিবার্তার সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাদলের মোবাইল চুরির দায়ে অভিযোগ দায়ের হয়। পরে তার বাবা ও মার অনুরোধে অভিযোগটি প্রত্যাহার করেন। এছাড়া জামাত শিবিরের নাশকতার মামালা ও রয়েছে সোর্স রনির বিরুদ্ধে। ওই দুটি মামলা জেল খেটে জামিনে বের হয়ে আরো বেপোয়ারা হয়ে যায় সোর্স রনি। এরপর গত ২৪ আগষ্ট গার্মেন্টস ব্যবসায়ী শামীমের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজীর অভিযোগে গতকাল এ মামলাটি দায়ের হয়।

না:গঞ্জে ‘হিট স্ট্রং ২৭’ অভিযানে নিহত ২ জঙ্গির পরিচয় মিলেছে

নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার একটি ৩ তলা ভবনে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট এর `অপারেশন হিট স্ট্রং ২৭` অভিযানে নিহত হওয়া অপর দুই জঙ্গি সদস্যের পরিচয় মিলেছে। এদের মধ্যে একজন হলেন মানিক (৩৫) আরেকজন ইকবাল (২৫)। এদের মধ্যে মানিক পাইকপাড়ার ওই বাসাটি ভাড়া নিয়েছিল। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ইউনিটের এক সদস্য প্রাথমিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা শনিবারের অভিযানে অংশ নেন। অভিযানের পর তিনি জানান, তাৎক্ষণিকভাবে মানিকের পরিচয় বিস্তারিত জানা যায়নি। গত ঈদের আগে মানিক দুই কক্ষের ওই বাসাটি ভাড়া নিয়েছিল। তার মাধ্যমেই ওই বাড়িতে ওঠে গুলশান হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ তামিম চৌধুরী।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, কল্যানপুর থেকে গ্রেফতার হওয়া রিগ্যানকে নিহত মানিক ও ইকবালের ছবি দেখানো হয়েছে। রিগ্যান তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তিনি আরও জানান, কল্যানপুরের অভিযানের সময় ইকবাল একে-২২ রাইফেল নিয়ে পালিয়েছিল। শনিবারের অভিযানে ওই রাইফেলটি পাওয়া গেছে। এদিকে নিহত জঙ্গিদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে এ্যাম্বুলেন্স আনা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফারুক হোসেন জানান, লাশের সুরতহাল প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য কোথায় নেয়া হবে তা চুড়ান্ত হয়নি। তবে নিহত অপর দুই জঙ্গির পরিচয় সনাক্তের ব্যাপারে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।

উল্লেখ্য, পাইকপাড়া বড় কবরস্থান এলাকায় শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ইউনিটের সদস্যরা। অভিযানে গুলশান হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ তামিম চৌধুরীসহ তিন জঙ্গি নিহত হয়। শনিবার (২৭ আগষ্ট) সকাল ৯টা ২৫ মিনিট থেকে ১০ টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত চলমান ‘হিট স্ট্রং’-২৭’ এর অভিযানে এই জঙ্গিরা নিহত হয়।

“অপারেশন হিট স্ট্রং ২৭` এ নিহতরা ‘নিউ জেএমবি’র সদস্য”- আইজিপি

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল ইসলাম বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় `অপারেশন হিট স্ট্রং ২৭` অভিযানে নিহতরা ‘নিউ জেএমবি’র সদস্য। প্রায় একমাস পূর্বে ঔষধ ব্যবসায়ী পরিচয়ে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় বাসা ভাড়া নিয়েছিল জঙ্গিরা। অভিযান চালানো যৌথ বাহিনীকে বলেছিলাম জঙ্গিদের সারেন্ডার করার আহবান জানাতে। কিন্তু জঙ্গিরা সে আহবান না শুনে যৌথ বাহিনীকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালায়। তখন সকাল ৯:২৫ থেকে ১০:২৫ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে তিন জঙ্গি নিহত হয়েছে।

শনিবার (২৭ আগষ্ট) সকাল পৌনে ১১ টায় নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় ‘অপারেশন হিট স্টর্ম-২৭’ পরিচালনার পর আইজিপি শহিদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গণমাধ্যমকে এতথ্য জানান।

তিনি আরও বলেন, নিহত এক জঙ্গির চেহারার সাথে সরকারের পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ জঙ্গি তামিমের চেহারার মিল পাওয়া গেছে। বাকী দুইজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে একটা একে-৪৭, তিনটা পিস্তল ও পাঁচটি লাইট গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানীর গুলশান ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় জড়িত ‘নিউ জেএমবি’র সদস্য এরা। প্রায় একমাস আগে তারা ঔষধের ব্যবসায়ী পরিচয়ে পাইকপাড়া বড় কবরস্থান এলাকার নুরুদ্দিন দেওয়ানের তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলা ভাড়া নেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আজকের এই অভিযান `অপারেশন হিট স্ট্রং ২৭` পরিচালিত হয়।

নাঃগঞ্জে জঙ্গি আস্তানায় ‘কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অভিযানে নিহত-৩

কল্যাণপুরের ‘জাহাজ বিল্ডিংয়ে’র পর নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার বড় কবরস্থান এলাকার একটি তিনতলা ভবনে জঙ্গি আস্তানার খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

`অপারেশন হিট স্ট্রং ২৭` নামের ঘন্টাব্যাপী এই অভিযান শেষে ঘটনাস্থলে তিনজনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

এ অভিযানে গুলশান হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ কানাডা প্রবাসী তামিম চৌধুরীসহ তিনজন নিহত হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

তবে অভিযানে নিহত হওয়া অন্যদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

শনিবার (২৭ আগস্ট) সকালে শহরের পাইকপাড়া এলাকার নুরুদ্দিন মিয়ার বাড়িতে এ জঙ্গি আস্তনার সন্ধান পেয়ে ভবনটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভবনে অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এ সময় জঙ্গিদের উদ্দেশ্যে ব্যপক গোলা-গুলি চালায় আভিযানিক দল।

এর আগে ভবন থেকে সাধারণ মানুষদের সরিয়ে আনেন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

এর আগে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের জানান, সকাল ৯টার দিকে তারা অভিযান শুরু করলে জঙ্গিরা গ্রেনেড হামলা করে। পরবর্তীতে পুলিশও পাল্টা গুলি ছূঁড়তে শুরু করে।

পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সদর থানার পুলিশ, জেলার গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব-১১ ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের বিপুল সংখ্যক সদস্য এই অভিযানে অংশ নেয়।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানান, একজন জেএমবি সদস্য গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এই আস্তানার সন্ধান পাওয়া গেছে। সন্ধান পাওয়ার পর সেখানে অভিযান শুরু চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

এদিকে গুলশান হামলার মূল হোতা তামিম চৌধুরীকে ধরিয়ে দিতে গত ০২ আগস্ট ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহীদুল হক।

সিদ্ধিরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের গরুর হাট দখল করলো সন্ত্রাসীরা

সিদ্ধিরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের ইজারা নেয়া ৮নং ওয়ার্ডে ঢাকেশ্বরী ইব্রাহীম টেষ্টাইল মিলিস্ বালুর মাঠের হাটটি দখল করে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় মাঠের মধ্যে পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গছে। শুক্রবার সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হাঁটের চতুর্দিকে বাঁশ ও অন্যান্য সরজামাধী স্থাপন করে। এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সন্ত্রাসী ইফতেখার আলম খোকন ও কাজী আমির বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা বাধা দিলে সন্ত্রাসী কাজী আমির মুক্তিযোদ্ধারের দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এর আগে গত ৪দিন ধরে সন্ত্রাসীরা গোদনাইল ঢাকেশ্বরী ইব্রাহীম টেক্সটাইল মিলস্ বালুর মাঠের হাটটি দখল নিতে ২নং ঢাকেশ্বরী বাসষ্ট্যান্ড, বাজার ও হাটের আশপাশে চিহৃত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী , দূর্ধর্ষ ক্যাডার, দেড় শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী এ মহড়া দেয়। এ ব্যাপারে জাতীর বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনাসহ যাতে সুষ্ঠভাবে স্বাভাবিক পরিবেশে হাট পরিচালনা করতে পারে এর ব্যবস্থা করা আহবান জানিয়েছে।
জানা গেছে, ঈদুল আয্হা উপলক্ষে ৮নং ওয়াডের্র ঢাকেশ্বরী ইব্রাহীম টেষ্টাইল মিলস্ বালুর মাঠের কোরবানীর হাটের ইজারা পার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা মুক্তিযোদ্ধা বহুমুখি সমবায় সমিতি লিঃ। এ হাটটি দখল নিতেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সন্ত্রাসী আমির বাহিনী ও ফতুল্লা নয়ামাটির অস্ত্রধারী ক্যাডার, মাদক ব্যবসায়ী মোফাজ্জাল হোসেন চুন্নু বাহিনী হাট এলাকায় মহড়া দেয়। এর পেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের সাথে কথা বললে সন্ত্রাসী খোকন, কাজী আমির ৫০% শেয়ার দাবি করেন এবং হাট তাদের নামে হস্তান্তর করতে বলেন। অন্যথায় তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে হাটের সকল ক্ষমতা। এটা মুক্তিযোদ্ধারা মানতে না পারায় সন্ত্রাসী খোকন ও কাজী আমির শুক্রবার সকাল থেকেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের উপস্থিতিতে হাটটি দখল নিয়ে বাঁশ ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মান করেছে। এনিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সন্ত্রাসীদের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে কোন মুহুর্তে ৭১ বীর সন্তানদের সাথে সন্ত্রাসীরেদর রক্তক্ষই সংঘর্ষ হতে পারে।
এ ব্যাপারে ইফতেখার আলম খোকন জানান, এ মাঠে পালাগান করা হবে। তাই পেন্ডেল করা হয়েছে। আমরা কোন হাট দখল করিনাই। আমাদের নামে মিথ্যা অপবাধ দেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারের সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডা বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাজান ভুইঁয়া (জুলহাস) জানান, খোনক ও হাজী আমিরসহ আরো অনেক হাটের শেয়ার থাকতে চাইছে। আমি বলেছি থাকবে। তারা ৫০% শেয়ারসহ সকল কিছু নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। দিতে রাজি না হওয়ার তারা হাটে বাশ দিয়ে স্থাপনা নির্মান করছে। পাশাপাশী গত মঙ্গলবার থেকে মুক্তিযোদ্ধা অফিসসহ আশপাশের কয়েকশ ছেলেপেলে নিয়ে ঘুরাঘুরি করেছে । তাই সকল মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে থেকে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আহবান করছি সুস্থ্য সুন্দরভাবে যাতে মুক্তিযোদ্ধারা হাট পরিচালনাসহ হাট করতে পারে তা ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য।

আপনি ভারতের প্রতি এত দুর্বল কেন?-এমাজউদ্দীন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেছেন, আপনি ভারতের প্রতি এত দুর্বল কেন? দিয়েছি তো বহু, আর কত দিতে হবে?

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত ‘রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং সুন্দরবন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় এমাজউদ্দীন এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে এমাজউদ্দীন বলেন, ভারতের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দুর্বলতার কোনো সীমা নেই। ভারতের সবকিছু তার কাছে পবিত্র মনে হয়। এই মানসিকতা আপনি পরিত্যাগ করুন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে সহায়তা করায় আপনাদের জনগণের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। এর একটা মূল্য আছে। এটা আমরা বহুদিন ধরেই শোধ করছি। আমার মনে হয়, জাতি হিসেবে আমাদের ৭৫-৮০ শতাংশ মানুষ ভারতবিরোধী। ভারতবিরোধী এই কারণে যে বর্তমান সরকারের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক। অথচ সম্পর্ক থাকা উচিত ছিল বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তো সেটাই বলে।

ভারতের উদ্দেশে এমাজউদ্দীন বলেন, এখনো সময় আছে, বাংলাদেশের জনস্বার্থে সংশোধন হোন। আমাদের আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে সচেতন হোন।

ভারতের ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার কোম্পানিকে (এনটিপিসি) ‘মায়ে তাড়ানো বাপে খেদানো কোম্পানি’ বলে উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই উপাচার্য বলেন, এই কোম্পানির স্থান বাংলাদেশে হবে না। দুর্নীতিপরায়ণ, দূষণপ্রিয় কোম্পানির কাছে আমরা আত্মবিক্রয় করার চেষ্টা করছি। এটা সম্পূর্ণ ভুল।

এমাজউদ্দীন আহমদ নির্মাণাধীন রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রকে সুন্দরবন ধ্বংসকারী প্রকল্প আখ্যা দিয়ে তা বাতিল এবং সৌরবিদ্যুতের দিকে নজর দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক এহসানুল হক জসিম। তিনি বলেন, ছোট জাহাজে করে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে নদীপথে রামপালে কয়লা পাঠানো হবে। এতে বছরে ৪৭ লাখ ২০ হাজার টন কয়লা পুড়বে। প্রতিদিন জাহাজে করে আসবে ১৩ হাজার টনের বেশি কয়লা। এই পরিমাণ কয়লা সুন্দরবনের ক্ষতি করবেই।

সংগঠনের উপদেষ্টা আকবর হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমান।