১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Home Blog Page 15

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে প্রকাশ্যে হামলাকারীরা সকলেই যুবলীগ নেতা!

নিউজ প্রতিদিন ডটনেট : নারায়ণগঞ্জের বন্দরে জিওধরা চৌরাস্তা এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে মাহাবুবকে রাস্তায় ফেলে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা সিসিটিভি ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। নৃশংস সেই দৃশ্য বুধবার (১২সেপ্টেম্বর ) রাত থেকে অনেকেই ফেসবুকে শেয়ার করছেন।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মাহাবুবকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হামলাকারীরা মারধর শুরু করলে তিনি বাড়ির দিকে ফিরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তাকে পাঁচ জনের মিলে নৃশংস ভাবে পায়ের দিকে কোপাতে শুরু করেন। আশপাশ মিলে পাঁচ জন হামলাকারীকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়। মাত্র ৩ মিনিট এর মধ্যে তাকে কুপিয়ে হামলাকারীরা ধীরে ধীরে পূর্ব দিক দিয়ে বাড়ি চলে যান। সড়কে অচেতন হয়ে পড়ে থাকেন মাহাবুব। আশপাশে স্থানীয় কয়েকজন মানুষকে দেখা গেলেও মাহাবুবকে সাহায্য করতে কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি।

গত বুধবার ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চৌরাস্তা এলাকায় মাহাবুব এর ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মাহাবুব বন্দর উপজেলার কল্যান্দি নয়ানগর এলাকার মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব মিয়ার ছেলে।

সিসি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের পরিচয় পাওয়া যায়,হামলাকারীরা জিওধরা এলাকার আলতাফ মিয়ার ছেলে, বাদশা প্রধান, দ্বীন ইসলাম প্রধান, আতাউর প্রধান, মানিক প্রধান ও সাদ্দাম প্রধান। তারা সবাই আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। সরকার পতনের পরপরই ভোল্ট পাল্টিয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজিবের মিটিং মিছিলে এবং ছবি সম্মিলিত করে পোস্টারে ছেয়ে গেছে বন্দর এলাকায়।
স্থানীয় জানান, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত ৬ আগস্ট রাতে দ্বীন ইসলাম এর উপর হামলা চালায় মাহাবুব গং।

এঘটনায় বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন আহত দ্বীন ইসলাম। এই ঘটনার জের ধরেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাহাবুবকে প্রকাশ্যে রাস্তায় ফেলে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চয় রেখে চলে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত মাহবুবকে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

ডিসি অফিসে বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের অচলাবস্থা দূরীকরণে আলোচনা অনুষ্ঠিত

নিউজ প্রতিদিন ডটনেট : নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন প্যানেল চেয়ারম্যান ভেঙ্গে নতুন ভাবে প্যানেল চেয়ারম্যান পরিষদ গঠন করার লক্ষ্যে আলোচনা সভা ও ভোটাভোটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (৮ ই সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালকের কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত আলোচনা সভা শেষে নতুন প্যানেল চেয়ারম্যান পরিষদ গঠন ও পুরাতন প্যানেল চেয়ারম্যান ভেঙ্গে দেওয়ার লক্ষ্যে ভোটাভোটি অনুষ্ঠিত হয়।স্থানীয় সরকার নারায়ণগঞ্জের উপ-পরিচালক মৌরীন করিম এর উপস্থিতিতে গোপন ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১১ জন ইউপি মেম্বার ভোটাভোটিতে অংশ নিলেও একজন ইউপি মেম্বার সেকান্দার আলী অনুপস্থিত ছিলেন।

গোপন ভোটে আব্দুর রশিদ মেম্বার ১০ ভোট ও আকিল উদ্দিন মেম্বার ১ ভোট পান।

ইউপি মেম্বাররা জানান, আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করবেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি মেম্বার আব্দুর রশিদ,  আকিল উদ্দিন শিকদার, আজিজুর রহমান, আমজাদ হোসেন বাঁধন, ওমর ফারুক, রাসেল চৌধুরী, আলমগীর হোসেন, মহিউদ্দিন ভূইয়া, মহিলা মেম্বার হাসনা বানু, পিংকি আক্তার ও নুপুর আক্তার প্রমুখ।

ফতুল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

নিউজ প্রতিদিন ডটনেট : ফতুল্লা প্রেসক্লাবে জরুরী সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে প্রেসক্লাবের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রয়াত দপ্তর সম্পাদক মোঃ বদিউজ্জামানের মৃত্যু পদটি শূন্য হয়। প্রয়াত জামানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে স্থায়ী সদস্য এমএ সুমন। এছাড়াও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আবদুর রহিম-মাসুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধি করে আগামী ২০২৭ইং সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি আবদুর রহিম।

প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মোঃ মাসুমের সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি সেলিম মুন্সী, পিয়ার চাঁন,সাংগঠনিক সম্পাদক আঃ আলিম লিটন, অর্থ সম্পাদক শাকিল আহমেদ ডিয়েল, দপ্তর সম্পাদক এমএ সুমন, প্রচার সম্পাদক মাসুদ আলী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক প,ম আজিজ,কার্যকরি সদস্য রাশেদুল ইসলাম, মোঃ সেলিম,জসিমউদদীন, আরিফ হোসেন, সোহেল রানা,রাকিব চৌধুরী শিশির।

ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত তিনজন পলাতক আসামী গ্রেফতার

নিউজ প্রতিদিন ডটনেট : কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে থাকা বন্দিরা বিদ্রোহ করে সেখান থেকে পলাতক তিন ফাসিঁর দন্ডপ্রাপ্ত আসামী নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) জেলার আড়াইহাজার থানাধীন পাঁচরুখি বাজার এলাকা হতে আড়াইহাজারের নয়াগাঁও গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে মোসাদ্দেক @ সাদেক আলী (৩২), একই গ্রামের ইফনুস আলীর ছেলে মোঃ জাকারিয়া (৩২), এবং মুন্সিগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন চর মুক্তারপুর এলাকা হতে হাজী কামাল দেওয়ানের ছেলে মোঃ জুলহাস দেওয়ান (৪৫) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র‌্যাবের এএসপি সনদ বড়–য়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে,বিদ্রোহের সময় বন্দিরা কারাগার ভেঙে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কারারক্ষীরা তাদের নিভৃত করার চেষ্টা করলে বন্দিরা কারারক্ষীদের ওপর চড়াও হয়।

এক পর্যায়ে বন্দিরা চলমান দাঙ্গা-হাঙ্গামার মধ্যে দক্ষিণ অংশের পেরিমিটার ওয়াল ভেঙ্গে গর্ত করতে থাকলে তা প্রতিহত করা হয়। এ প্রতিহতকালীন সময়ে অন্য দিকে কারা অভ্যন্তরের বৈদ্যুতিক খুঁটি উপরে ফেলে মই বানিয়ে পশ্চিম দিকের দেওয়াল টপকে বেলা ১টা থেকে ২টার মধ্যে ২০৩ জন বন্দি পালিয়ে যায় এবং বুলেট ইনজুরিতে ৬ জন বন্দি মারা যায়। মৃত্যুদন্ডের আদেশ প্রাপ্ত পলাতক আসামীরা দেশে বিশৃঙ্খলা এবং সামাজিক অপরাধ করতে পারে বিধায় তাদের গ্রেফতার করতে র‌্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীমোসাদ্দেক এবং জাকারিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ২০০৮ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাধীন নয়াগাঁও এলাকায় জনৈক বারেক চৌধুরী নামক এক ব্যক্তির বাড়িতে হাঁস ওমুরগী চুরির ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারেক চৌধুরীর বাড়িতে একটি সালিশ/বৈঠক হয়। সালিশেশামীম ভুইয়া (৪১), মোসাদ্দেক আলী (৩২) ও জাকারিয়া (৩২) চুরির সাথে জড়িত বলে একই গ্রামের ফজলুল মোল্লার ছেলে মোঃ শামীম স্বাক্ষ্য দেন। চুরির ঘটনায় স্বাক্ষী দেওয়ার কারণে ভিকটিম মোঃ শামীমকে ক্রোধের বশবর্তি হয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের ২৯ মার্চ রাতে আসামী শামীম ভুইয়াও তার সহযোগী মোসাদ্দেক এবং জাকারিয়া মিলে ভিকটিম মোঃ শামীমকে নয়াগাঁও গ্রামের পারিবারিক গোরস্থানে ডেকে নিয়ে যায়। আসামী শামীম ভুইয়া ও জাকারিয়া ভিকটিমের হাত-পা চেপে ধরে এবং আসামী মোসাদ্দেক ভিকটিমকে ছুরি দিয়ে জবাই করে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমের বাবা উক্ত ঘটনায় বাদী হয়ে ৩০ মার্চ ২০০৮ তারিখ নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- আড়াইহাজার থানার মামলা নং-২৪(৩)০৮, ধারা- ৩০২ দন্ডবিধি। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ ১২ জুন ২০১৩ তারিখ তাদেরকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ প্রদান করেন।

গ্রেফতারকৃত আসামী মোসাদ্দেক আলী (৩২) কে ০৬ এপ্রিল ২০০৮ তারিখ ও জাকারিয়া (৩২) কে ০৩ এপ্রিল ২০০৮ তারিখ নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে এবং পরবর্তীতে দুইজনকেই ১৮ জুন ২০১৩ তারিখ কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত অপর আসামী মোঃ জুলহাস দেওয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত একজন আসামী। ঘটনার দিন ভিকটিম সাহাদ অনেক অসুস্থ ছিল। ২০১৪ সালের ১৩ই অক্টোবর তাকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে বাবা জুলহাস মুন্সিগঞ্জের পশ্চিম মুক্তারপুরের নিজ বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে শিশু পুত্রের বাবা ও সাহাদ নিরুদ্দেশ ছিলেন। নিখোঁজ থাকার তিনদিন পর শিশু পুত্রের বাবা মোঃ জুলহাস দেওয়ান এর সন্ধান পাওয়া যায় । এ সময়ছেলের কথা জিজ্ঞেস করলে ছেলে হারিয়ে গেছে বলে নানা অজুহাতে আশ্রয় নেয় সাহাদের বাবা। এতে সন্দেহ হলে তাকে মুক্তারপুর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বাবা স্বীকার করে যে সে সাহাদ কে হত্যা করেছে।

শিশু পুত্র সাহাদের বাবার স্বীকারোক্তি মতে গত ১৬ অক্টোবর ২০১৪ সালে সাহাদের লাশ নারায়ণগঞ্জ জেলার কয়লাঘাটা এলাকায় একটি মুরগি ফার্মের পাশে ডোবা হতে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে স্ত্রী তানিয়া বেগম বাদী হয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-৪৬(১০)১৪, ধারা-৩০২/২০১ পেনাল কোড।দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষেদাম্পত্য কলহের জের ধরে নিজের পাঁচ বছরের শিশু পুত্র সাহাদ (০৫) কে হত্যার দায়েমুন্সিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজগত ইং ০৯ অক্টোবর ২০১৮ সালে বাবা মোঃ জুলহাস দেওয়ান (৩২) কে মৃত্যুদন্ডের আদেশ প্রদান করেন।তাকে ১৬ অক্টোবর ২০১৪ তারিখ মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার এবং ২৬ নভেম্বর ২০১৮ তারিখ কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ জুলহাস দেওয়ান এর বিরুদ্ধে নিম্মোক্ত মামলা চলমান রয়েছেঃ
জিএমপি এর কোনাবাড়ী থানার এফআইআর নং- ০৪ তারিখ – ১৫ আগস্ট ২০২৪, ধারা – ১৪৩/১৪৮/১৪৯/৩৫৩/২২৪/৪২৭/৩৩২/৩৩৩/৪৩৬/৩৪ পেনাল কোড। ,মুন্সিগঞ্জ এর মুন্সিগঞ্জ সদর থানার এফআইআর নং- ৬১/৩৪৯ তারিখ – ২৭ জুন ২০১২ ধারা- ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/৫০৬/পেনাল কোড।,মুন্সিগঞ্জ এর মুন্সীগঞ্জ সদর থানার এফআইআর নং-৪৭/৩০৭, তারিখ -১২ এপ্রিল ২০১৪, ধারা- ১৯(ধ)/১৯(ভ) ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন।,মুন্সিগঞ্জ এর মুন্সিগঞ্জ সদর থানার এফআইআর নং- ৪৪/২০৭, তারিখ – ২৭ জুন ২০১২ ধারা- ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৪২৭/১১৪/পেনাল কোড, মুন্সিগঞ্জ এরমুন্সিগঞ্জ সদর থানার এফআইআর নং- ১৩/২২৯, তারিখ – ১৪ জুন ২০১১ ধারা- ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩০৭/১১৪/৫০৬ পেনাল কোড।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বক্তাবলী মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ অলিউল্লাহ কর্তৃক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত 

নিউজ প্রতিদিন ডটনেট : নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার বক্তাবলীর লক্ষীনগর ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মডেল মাদ্রাসার দুর্নীতিবাজ সাবেক অধ্যক্ষ আনম অলিউল্লাহ কর্তৃক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ( ৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় মাদ্রাসার প্রাঙ্গণে অভিবাবক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, অত্র মাদ্রাসার সাবেক দূর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ আনম অলিউল্লাহ বিরুদ্ধে তার অনিয়ম, লুটপাট ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে গত ৪ বছর যাবত শিক্ষার্থী ও অভিবাবক বৃন্দ আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু অলিউল্লাহ এলাকার কিছু বদ লোককে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে বহাল তবিয়তে ছিল।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের চাপে পড়ে অধ্যক্ষ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেও এ নিয়ে তিনি নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন।

তিনি অত্র মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী অভিভাবকদের নামে একটা মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়ের করে হয়রানি করছেন।

আমরা আজকের প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে ডিসি, পুলিশ সুপার ও মাদ্রাসার সভাপতি ইউএনওর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি। দুর্নীতিবাজ ও লুটেরা সাবেক অধ্যক্ষ অলিউল্লাহর বিরুদ্ধে যেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

সেই সাথে অলিউল্লাহর দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ সময় বক্তব্য রাখেন মুফতি মোখতার হোসাইন, অভিবাবক সাঈদ হাসান হীরা, সাবেক ছাত্র তানভীর হোসাইন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস এম রফিকুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ, মোহাম্মদ জুনায়েদ হোসেন, মোঃ আব্দুস সালাম, মোহাম্মদ জহিরুল হক, মোঃ মোস্তফা জামাল, সামিয়া আক্তার, কারী সাইদুর রহমান, মোঃ সালাউদ্দিন প্রধান, হালিমা বেগম, মাহফুজা আক্তার, শরিফা আক্তার, মর্জিনা বেগম, হেলাল উদ্দিন সহ শিক্ষার্থী বৃন্দ।

বাংলাদেশের এসিস্ট্যান্ট এটর্নী জেনারেল আল আমীন সিদ্দিকীকে ফুলেল শুভেচছা জানান জাহিদ হাসান রোজেল

নিউজ প্রতিদিন ডটনেট : বাংলাদেশের এসিস্ট্যান্ট এটর্নী জেনারেল পদে নিয়োগ পাওয়ায় নারায়ণগঞ্জের কৃতি সন্তান এড. আল আমীন সিদ্দিকীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেলের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীবৃন্দ।

বুধবার (২৮ আগস্ট) মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তাঁকে এই পদে নিয়োগ দিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সলিসিটর কার্যালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ল’ অফিসার অর্ডার ১৯৭২ এর ৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতা বলে এই আদেশ দেন।

এডভোকেট আল আমীন সিদ্দিকী নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়নভুক্ত গাজীনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কানাইনগর ছোবহানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ঢাকা স্টেট কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাশ করেন। অতঃপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এলএল.বি. (অনার্স) ও এলএল.এম. ডিগ্রি অর্জন করেন।

মামলা থেকে অব্যাহতির দাবিতে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের নিকট একাধিক দরখাস্ত জমা

নিউজ প্রতিদিন ডটনেট : স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার পতনের পর কিছু স্বার্থলোভী কুচক্রীমহল ব্যক্তিগত আক্রোশে সাধারণ জনগণ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানি করার লক্ষ্যে জুলাই ও আগস্ট মাসের হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় বেশ কিছু সাধারণ মানুষের নাম এজাহার ভুক্ত করিয়াছেন, এমনটাই মনে করেন সাধারণ জনগণ।

এ সমস্ত মামলা থেকে অব্যাহতির দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার ২৮ শে আগস্ট বেশ কিছু এজহার ভুক্ত আসামি নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবর মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়ে আবেদন করেন।

নিম্নে আবেদনকারীদের বয়ান হুবহু তুলে ধরা হলো।

১) আঃ বারেক ব্যবসায়ী  লক্ষ্মীনগর, বক্তাবলী, ফতুল্লা, নাঃগঞ্জ এর স্থায়ী বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। আমি ইতিপূর্বে কোন রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক পদ বা কোন কর্মকান্ডে জড়িত ছিলাম না। ব্যক্তিগত আক্রোশের কারনে মোঃ সিপন (৩৪), জাতীয় পরিচয়পত্র নং- ৫৫৫২০০৮৮১৪, পিতা- লাল মিয়া, বাদী হইয়া আমার নামে ফতুল্লা থানা মামলা নং- ৩০(৮)২৪ তে অন্তর্ভুক্ত করিয়াছে যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

২) আমি আব্দুল মতিন একজন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), ফতুল্লা ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ডের প্রাথমিক সদস্য। আমি ইতিপূর্বে আওয়ামীলীগের কোন সাংগঠনিক পদ বা কোন কর্মকান্ডে জড়িত ছিলাম না। ব্যক্তিগত আক্রোশের কারনে নামধারী বিএনপি নেতা রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম টিটু এবং একজন সাংবাদিক নামধারী দালাল আমার নামে ফতুল্লা থানা মামলা নং- ৩০(৮)২৪ তে অন্তর্ভুক্ত করিয়াছে যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

৩) আমি সুমন কাজি একজন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), ফতুল্লা ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ডের প্রাথমিক সদস্য। আমি ইতিপূর্বে আওয়ামীলীগের কোন সাংগঠনিক পদ বা কোন কর্মকান্ডে জড়িত ছিলাম না। ব্যক্তিগত আক্রোশের কারনে নামধারী বিএনপি নেতা রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম টিটু এবং একজন সাংবাদিক নামধারী দালাল আমার নামে ফতুল্লা থানা মামলা নং- ৩০(৮)২৪ তে অন্তর্ভুক্ত করিয়াছে যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

৪) আমি আরাফাত কাজী একজন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), ফতুল্লা ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ডের প্রাথমিক সদস্য। আমি ইতিপূর্বে আওয়ামীলীগের কোন সাংগঠনিক পদ বা কোন কর্মকান্ডে জড়িত ছিলাম না। ব্যক্তিগত আক্রোশের কারনে নামধারী বিএনপি নেতা রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম টিটু এবং একজন সাংবাদিক নামধারী দালাল আমার নামে ফতুল্লা থানা মামলা নং- ৩০(৮)২৪ তে অন্তর্ভুক্ত করিয়াছে যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

৫)আমি হান্নান কাজী একজন ব্যবসায়ী, কাজী মোল্ডিং এন্ড আয়রন ওয়ার্কশপ প্রতিষ্ঠানের মালিক হই বটে। গত ০৫/০৮/২০২৪ ইং তারিখে রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরীর নির্দেশে আনুমানিক ২০০/২৫০ জন সন্ত্রাসী আমার প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও প্রায় ৫৩,০০,০০০/- (তিপান্ন লক্ষ) টাকার মালামাল লুট করে। আমার ব্যবসায়ে ঈর্ষান্বিত হইয়া ব্যক্তিগত আক্রোশের কারনে নামধারী বিএনপি নেতা রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম টিটু এবং একজন সাংবাদিক নামধারী দালাল আমার নামে ফতুল্লা থানা মামলা নং- ৩০(৮)২৪ তে অন্তর্ভুক্ত করিয়াছে যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

৬।আমি নাজমুল হোসেন সবুজ একজন ব্যবসায়ী এবং ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত মেম্বার। আমার ব্যবসায়ে ঈর্ষান্বিত হইয়া ব্যক্তিগত আক্রোশের কারনে নামধারী বিএনপি নেতা রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম টিটু এবং একজন সাংবাদিক নামধারী দালাল আমার নামে ফতুল্লা থানা মামলা নং- ৩০ (৮)২৪ ও ২৬(৮) ২৪ দায়ের করে। যাহা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

৭। আমি আব্দুর রশিদ মেম্বার একজন ব্যবসায়ী। আমার ব্যবসায়ে ঈর্ষান্বিত হইয়া ব্যক্তিগত আক্রোশের কারনে নামধারী বিএনপি নেতা রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম টিটু এবং একজন সাংবাদিক নামধারী দালাল আমার নাম ফতুল্লা থানা মামলা নং- ৩০(৮)২৪ তে অন্তর্ভুক্ত করিয়াছে। যাহা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
আবেদন কারিগণ, এ সমস্ত মামলা থেকে অব্যাহতি দান করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের নিকট আবেদনের মাধ্যমে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।

বাংলাদেশের এসিস্ট্যান্ট এটর্নী জেনারেল হলেন নারায়ণগঞ্জের কৃতি সন্তান এড. আল আমীন সিদ্দিকী

নিউজ প্রতিদিন ডটনেট : নারায়ণগঞ্জের কৃতি সন্তান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এড. আল আমীন সিদ্দিকীকে বাংলাদেশের এসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) নিয়োগ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বুধবার (২৮ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তাকে নিয়োগ দিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর কার্যালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ল’ অফিসার অর্ডার ১৯৭২ এর ৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতা বলে এই আদেশ দেন।

এডভোকেট আল আমীন সিদ্দিকী নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন বক্তাবলী ইউনিয়নের গাজীনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কানাইনগর ছোবহানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ঢাকা স্টেট কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাশ করেন। অতঃপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এলএল.বি (অনার্স) ও এলএল.এম. ডিগ্রি অর্জন করেন।

এদিকে এড. আল আমিন সিদ্দিকীর এমন নিয়োগের খবরের ছড়িয়ে পড়ার পরে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে সামাজিক, রাজনৈতিক ও স্থানীয় গণ্যমান্যরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে শুভেচ্ছাবার্তা।

 

ছাত্র-জনতার ব্যানারে এরা কারা! নৈপথ্য নায়ক শীর্ষ স-ন্ত্রা-সী শরীফ

নিউজ প্রতিদিন ডটনেট : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৫ আগষ্ট দেশ থেকে পালিয়ে যায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় ২১ দিনের ছাত্র-জনতার এ আন্দোলনকে মদাতে সরকার আইন-শৃংখলা বাহিনী ও তার অনুগত ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের সন্ত্রাসীদের অস্ত্র-সস্ত্রে লেলিয়ে দেয় আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার উপর। সরকারের পেটোয়া বাহিনীর নির্বিচারে গুলি ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে অনেক শিক্ষার্থী ও সাধারন মানুষ নিহত হয়েছে। তাদের ক্ষমতালোভী মনোভাব ঘরে থাকা মা ও শিশুও রক্ষা পায়নি। ছাত্র-জনতা সেই আন্দোলনের ফসল বাংলার জমিনে উঠে আসে ৫ আগষ্ট।

নতুনভাবে বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয় প্রায় ১৫ বছর অস্ত্রতন্তের রাজনীতিতে জড়িত আওয়ামীলীগকে হঠাতে। যার ফলে পরবর্তীতে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয় নোভেল জয়ী ড.মুহাম্মদ ইউনুসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে রেখে। অন্তবর্তীকালীন সরকারে দুইজন সমন্ময়কারীও রয়েছেন।

কিন্তু ৫ আগষ্টের পুরো দেশেই চলে অনাকাঙ্খিত কিছু ঘটনা। যেখানে বিএনপির কতিপয় নেতাদের সাথে আওয়ামীলীগের ভাড়াটে ( আতাঁতকারী) যুক্ত হয়ে চালায় অগ্নিকান্ড,ভাংচুর ও লুটপাটের তান্ডবলীলা।

তবে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে জড়িতদেরকে অনেকটাই দেখা যাচ্ছেনা। কিন্তু তাদের রয়ে যাওয়া সম্পদগুলো দখলে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে নামধারী কতিপয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ। আর এ ক্ষেত্রে ছাত্র-জনতার ব্যানারে বিভিন্নস্থানে ছাত্র নয় এমন কিছু ছেলেদের দিয়ে মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ মিছিল করাচ্ছে একদল সুবিধাবাদী চক্র। যা দীর্ঘ ২১ দিনের আন্দোলনে নিহত শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারন মানুষের রক্তকে অনেকটাই কলুষিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামীলীগের ব্যানারে রাজনীতি করা শরীফ হোসেন তার ভোল পাল্টে রাতারাতি বিএনপির নেতা সেজে ছাত্র-জনতার ব্যানারে মাদক ব্যবসায়ী ও ভুমিদস্যুসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে নিয়ে একটি মানববন্ধন করেন।

সেখানে ছাত্র পরিচয়ে যে ছেলেটিকে দিয়ে বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে সে আদৌ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিল কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে রাস্তার পাশে থাকা সাধারনগুলোর মাঝে। তবে সেখানে যে নয়ামাটি-লামপাড়া এলাকার একাধিক মাদক ব্যবসায়ী ও ভুমিদস্যু উপস্থিত ছিলেন তা বুঝতে বাকী ছিলনা অনেকের মাঝে।

আবার দুপুর ১২টায় লিংক রোডের সাইন বোর্ড এলাকা থেকে আওয়ামীলীগ নেতা রাজ্জাক বেপারীর সাথে রাজনীতি করার অপরাধে সেখান থেকে আলাউদ্দিন নামে ব্যবসায়ীকে মারধর করে ফতুল্লা থানায় নিয়ে আসেন জেলা শ্রমিক দলের শিপলু ও সঞ্জয় নামে দুই নেতা। তবে এক্ষেত্রে তারা কয়েকজন ছাত্রকে ব্যবহার করেছেন তারা।

প্রচন্ড মারধর করে আলাউদ্দিনকে ফতুল্লা মডেল থানায় নিয়ে আসলেও থানা পুলিশ হাসপাতালে কাগজপত্র ছাড়া আলাউদ্দিনকে থানায় রাখতে অপারগতা প্রকাশ করলে পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান তারা।

এ সময় সাংবাদিকরা জানতে চাইলে শ্রমিকদল নেতা শিপলু একটি মুঠোফোনে রাজ্জাক বেপারীর সাথে আলাউদ্দিনের হাতে দেশীয় অস্ত্রের একটি ছবি দেখান। যদি আহত আলাউদ্দিনের দাবী,সাইনবোর্ড এলাকায় তারা একটি সমিতির কাজে থাকাবস্থায় সেখান থেকে শিপলুগংরা তাকে উঠিয়ে এনে মারধর করে থানায় নিয়ে আসেন। সর্বশেষ জানা যায়,প্রায় লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে বিকেলে নাকি ভুইগড় এলাকায় দেনদরবার শেষে আলাউদ্দিনকে মুক্ত করা হয়।

শিবু মার্কেট ও সাইনবোর্ড এলাকার মত প্রায় এলাকাতে বর্তমানে নামধারী বিএনপি নেতারা কথিত ছাত্রদেরকে ব্যবহার করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। তবে প্রতিটি এলাকায় বসবাসকারীদের মতে, এসকল বিষয়গুলোর প্রতি ছাত্র নেতাদের দৃষ্টি দেয়া একান্ত প্রয়োজন।

কারন সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় প্রতিটি শিক্ষার্থীই কোন না কোন নেতৃত্বের মাধ্যমেই তাদের আন্দোলন কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। কিন্তু বর্তমানে ছাত্রদের নাম ব্যবহার করে কোথাকার কোন ছাত্রদেরকে নিয়ে পাড়া-মহল্লায় কথিত এ নেতারা অনৈতিকভাবে টাকা কামানোর মহোৎসবে মেতে উঠেছে তাও তাদেরকে চিহিৃত করা উচিত। নতুবা তাদের এ সফল আন্দোলনকে মুষ্টিমেয় কিছু সুবিধাবাদী অর্থলোভী নামধারী বিএনপি নেতাদের কারনে ভুলুণ্ঠিত হতে পারে।

তবে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য সুবিধাভোগী যে সকল অছাত্ররা এরুপ অপরাধে জড়িত হচ্ছে তাদের বিষয়ে সোচ্চার হওয়া অতীব প্রয়োজন।

এ প্রতিটি থানার পুলিশ সদস্যরা যদি একটু সোচ্চার হয়ে তাদের ভুমিকা পালন করে তাহলে নামধারী ঐসকল বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি তাদের সাথে যুক্ত হওয়া সে সকল অছাত্রদেরকেও খুজে বের করার কঠিন কোন কাজ নয়।

অথ্যাৎ কোন সাধারন কিংবা আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এ ধরনের মানুষগুলোকে যদি তারা ধরে এনে থানায় সোপর্দ করতে চায় তাহলে প্রতিটি থানা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারী ছাত্র নেতাদের সাথে যোগাযোগ করলেই বেড়িয়ে আসবে ছাত্র এবং অছাত্র বিষয়টি।

কুতুরপুর নয়ামাটি এলাকাবাসী জানান, শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাদাঁবাজ, মাদক বিক্রেতা,ভূমিদস্যু সহ নানান অপকর্মের হোতা শরীফ ও তার ভাই যে সকল নেতাদের বিরুদ্ধে ফাঁসি দাবী করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করিয়েছে সেই শাহ নিজাম,ফাইজুল ইসলাম,আজমেরী ওসমানের ক্যাডার আমিরের সাথে মিলে গত ১৭ বছর যাবত ব্যবসা বানিজ্য সহ নানান অপকর্ম করে বেড়াতো।

অথচ ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে রাতারাতি পল্টি মেরে বিএনপির শীর্ষ সন্ত্রাসী জাকির খানের অনুসারী বনে যায় মাদক,চাঁদাবাজি,ভূমিদস্যুতা সহ একাধিক মামলার আসামি শরীফ।

এ ব্যাপারে শরীফ বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সচেতন এলাকাবাসী।

ফতুল্লার কুতুবপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী শরীফ বেপরোয়া! আইন শৃংখলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা

নিউজ প্রতিদিন ডটনেট : নারায়নগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা কুতুবপুর লামাপাড়ার ভয়ংকর এক সন্ত্রাসীর নাম শরীফ । তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমিদখল, অস্ত্র ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে। চলতি বছরের ২০ এপ্রিল অস্ত্র ও মাদক সহ তার নিজ বাড়ী থেকে তার ছোট ভাই বাদশাকে আটক করেছিল ফতুল্লা থানা পুলিশ। বতর্মানে কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে এসে পুরোদমে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে বাদশা ও শরীফ।সেই সাথে বন্ধ হয়নি তার আধিপত্য বিস্তারের একক নিয়ন্ত্রন। বর্তমানে শরীফ আধিপত্যকে ধরে রাখতে এলাকায় বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে মহড়া চালাচ্ছে। তার সাথে রয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী রকমতের সহযোগীরা।শরীফ নিজেও পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত রকমতের একজন সহচর ছিল। শরীফও বহিরাগত ২০/২৫ খলিফাদের নিয়ন্ত্রনেই চলছে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজী, ভূমিদস্যুতা সহ নানা অপকর্ম।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যপক অভিযোগ। একাধিক অপরাধের জন্য ফতুল্লা থানায় রয়েছে একাধিক মামলা। ২০০৩ সালে কুতুবপুর মির হোসেনের বাড়ী থেকে পুলিশের লুট করা শটগান অস্ত্র সহ শরীফকে আটক করেছিল ফতুল্লা থানা পুলিশ।
এছাড়াও ২০১৫ সালের ২২ আগষ্ট কুতুবপুর নয়ামাটি এলাকার নাজমা বেগমকে মারপিট করে , জখম, প্রাণ নাশের হুমকী ও চুরির ডাকাতির অভিযোগ এনে শরীফ, বাদশা, সহ আরো একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ্য করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ৬৬। ২০১৬ সালের ২রা আগষ্ট র‌্যাব-১১ এর অভিযানে বিপুল পরিমান মাদক ও বিক্রির নগদ অর্থ সহ আটক হয় বাদশা, সহ চার জন মাদক ব্যবসায়ী। ২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবর র‌্যাব-১১ এর অভিযানে মাদক বিক্রির নগদ অর্থ ও মাদক সহ আটক হয় শরিফ। এসময় তাদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি মাদক মামলা রুজু করা হয়। অপরদিকে, ২০১৮ সালের ২১ জুলাই চুরির মামলায় শরীফ সহ আরো একাধিক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তবে এরা একাধিক বার জেলা গোয়েন্দা, পুলিশ, র‌্যাব এর হাতে মাদক ও অস্ত্রসহ নানা অপরাধে আটক হলেও বেরিয়ে এসে তাদের সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট তৎপর থেকে যায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শরীফের কারণে নয়ামাটি, লামাপাড়া এলাকায় কেউ নতুন বাড়ি করতে সাহস পায়না। তাকে মোটা অংকের টাকা চাঁদা না দিলে কেউ বাড়ি বা ফ্যাক্টরীতে একটি ইটও লাগাতে পারেনা। নতুন জমি বেচাকেনাতেও শরীফ বাহিনীকে মোটা অংকের টাকা দিতে হয়। আশেপাশের এলাকায় জমির দাম বাড়লেও শরীফ বাহিনীর চাঁদাবাজীর কারণে এলাকায় এখনও জমির দাম প্রয়োজনের তুলনায় কম।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে নানান অপকর্ম করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যায়।গত ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে রাতারাতি ভূল পাল্টে আরেক সন্ত্রাসী কারারুদ্ধ জাকির খানের কর্মী বনে যায়।

শরীফ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সচেতন মহল।