এনসিপি নেতা আমিনুলের ঘনিষ্ঠ ওমরের অস্ত্র হাতে ছবি-ভিডিও, এলাকায় উদ্বেগ

17

নিউজ প্রতিদিন ডটনেট : নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার বক্তাবলী ইউনিয়নের পূর্ব গোপাল নগরের এনসিপি নেতা আমিনুল ইসলামকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। তার আপন ছোট ভাই ও হত্যা মামলার আসামি মেহেদী হাসান রাব্বি কারাগারে থাকলেও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ওমর ওরফে ‘পিস্তল ওমর’কে নিয়ে এলাকায় আতঙ্কের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে অস্ত্র হাতে ওমরের একাধিক ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিওতে মুখে সাদা কাপড় পেঁচিয়ে হাতে পিস্তল সদৃশ অস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন ভঙ্গিতে পোজ দিতে দেখা যায় তাকে। প্রকাশ্যে এভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং নিজের প্রভাব জাহিরের চেষ্টা করছেন ওমর- এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

অভিযোগ রয়েছে, এলাকায় কেউ ওমরের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে কিংবা তার বিরুদ্ধে কথা বললে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ভয় দেখানো হয়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এনসিপি নেতা আমিনুল ইসলামের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষকে হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকে তার ফুফাতো ভাই ওমর। ফলে ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আমিনুল ইসলামের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তার ফুফাতো ভাই ওমর এলাকায় দাপট দেখানোর চেষ্টা করছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এর আগেও ‘পিস্তল ওমর’কে ঘিরে ছিনতাইসহ গুরুতর অভিযোগের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছিল। ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর রাতে নারায়ণগঞ্জের ধর্মগঞ্জ এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে চাপাতি ও রামদাসহ তাকে আটক করে স্থানীয় জনতা। পরে গণধোলাই দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। ঘটনাটি তখন স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং এ নিয়ে সংবাদও প্রকাশিত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ঘটনার পরও ওমরের কর্মকাণ্ডে লাগাম পড়েনি; বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র সদৃশ প্রদর্শনের মাধ্যমে নতুন করে ভয়ভীতি ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন তিনি।

এদিকে, গত ১৮ আগস্ট বক্তাবলী এলাকা থেকে মাদক সেবনের সময় আমিনুল ইসলামের আপন ছোট ভাই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান রাব্বিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্রলীগের পরিচয় ব্যবহার করে রাব্বি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে দাপট দেখাতেন। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।

রাব্বি কারাগারে থাকার মধ্যেই তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ওমরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র প্রদর্শনের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, হত্যা মামলার আসামী কারাগারে থাকার পরও তার ঘনিষ্ঠজন কীভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে?

এলাকাবাসীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও যাচাই করে ওমরের অস্ত্রের বৈধতা ও তার কর্মকাণ্ড তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে কেউ যেন এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ চান তারা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।