জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে আওয়ামীলীগ, সহযোগী সংগঠন, ব্যবসায়ী সংগঠন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে দিবসটি পালন করা হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত পাঠানতুলী, আইলপাড়া, চৌধুরীবাড়ি, ২নং ঢাকেশ্বরী বাসষ্ট্যান্ড, এসও রোড, সুমিলপাড়া, আদমজী সিএমবি ব্যবসায়ী সমাজ, মিজমিজি. মৌচাক, সানাড়পাড়, মুক্তিনগর, হিরাঝিল, জালকুড়ি, সিদ্ধিরগঞ্জ কবরস্থান সংলগ্ন ঈদগাঁ মাঠসহ ২শতাধিক স্থানে কোরআন খানি, মিলাদ মাহফিল ও গরীব- দুঃখিদের মাঝে খাবার বিতরন বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিন মাষ্টার, মহানগর আওয়ামীলীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক কাজী আতাউর রহমান সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মজিবুর রহমান, সহ সভাপতি সাদেকুর রহমান,আলহাজ্ব শাহ আলম, সাধারন সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া, যুগ্ন-সম্পাদক জহিরুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মতিউর রহমান মতি, কাউন্সিলর রুহুল আমীন, কাউন্সিলর ইতেখার আহম্মেদ খোকন, কাউন্সিলর মোঃ হাসান, থানা শ্রমিকলীগের সভাপতি আবদুল সামাদ ব্যাপারী, ঢাকা বিভাগ শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা সম্পাদক শামীম আরা লাভলী, থানা কৃষক লীগের সাধারন সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া, সেচ্ছা সেবক লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, নাসিক ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিল রুহুল আমিন মোল্লা, ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডল, পাঠানটুলী আইলপাড়ায় যুবলীগ নেতা, শাহজাহান, শহিদুল্লাহ, সাইদুল ইসলাম, এমদাদ হোসেন, মোতালিব, নাছিরসহ দলের নেতাকর্মীরা। বামষ্ট্যান্ড এলাকায় বাংলাদেশ ট্যাংকলরী ওনার্স এসোসিয়সনের উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল ও রান্না করা খাবার বিরতন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ট্যাংকলরী ওনাস এসোসিয়সনের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মেহেদী, সাধারন সম্পাদক মাসুদ পারভেজ, ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের পদ্মা শাখার সভাপতি জাহিদ হোসেন, সাধারন সম্পাদক ফারুক হোসেন। এদিকে বিকাল সাড়ে ৫ টায় ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেনর নিজ উদ্যোগে নাসিক ১নং ওয়ার্ড মিজমিজি কবরস্থান ঈদগাঁ মাঠে মিলাদ মাহফিল ও বঙ্গবন্ধু ও সকল শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা মধ্যে দিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয় । এ সময় তিনি মাদ্রাসার ছাত্র ও গবীর দুঃখিদের মাঝে রান্না করা তবারক বিতরন করা হয়। এদিকে আদমজী সিএমবি ব্যবসায়ী সমাজের উদ্যোগে সংগঠনের কার্যালয়েগবীর দুঃখি মানুষের মাঝে রানাœ করা খবার বিতরন করা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন,সভাপতি লিটন আহমেদ,সহ সভাপতি ওয়াছেক, সাধারন সম্পাদক স্বপন আহমেদ,সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল,সহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। দুপর ২ টায় আদমজী কোমল মিনিবাস মালিকÑশ্রমিক যৌথ উদ্যোগে সংগঠনের কার্যালয় প্রাঙ্গনে মিলাদ মাহফিল ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানসহ সকল শহিদদের প্রতি বিশেষ দোয়া ও খাবার বিতর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মালিক সমিতির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, এমডি জাহাঙ্গীর আলম, তৌহিদ ভুঁইয়া, আমানুর হক মন্ডল, আলিম, মাহবুব, ইব্রাহিম, শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সালাউদ্দিন, সহ সভাপতি জাহাঙ্গী আলম, সাধারন সম্পাদক শাহাজালাল, যুগ্ন সম্পাদক সামসুল, সাংগঠনিক সম্পাদক রহম আলী, অর্থ সম্পাদক সাত্তার, প্রচার সম্পাদক নবী হোসেন, সহ প্রচার সম্পাদক রাসেল, মিলন। বিকালে শিমরাইল মোড়ে রেন্ট এ কার ষ্ট্যান্ডে মালিক সমিতির উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল অনুষ্টিত হয়। এসময় বঙ্গবন্ধুর জন্য দোয়া করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সমিতির সভাপতি আমিনুল কহ রাজু, সাধারন সম্পাদক সালাউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক বিশু বাবু, মাইন উদ্দিন, সাইফুলম লিটন প্রমুখ। অপরদিকে, সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজি কবরস্থান ঈদগাহ মাঠে মাদ্রাসার ছাত্র, এতিম, দুস্থ ও গরিবদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগি ও সমাজ সেবক হাজ্বী আনোয়ার ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান, সাধারন সম্পাদক হাজ্বী ইয়াছিন মিয়া, সোহেল পারভেজ। এসময় বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এর আগে হাজ্বী আনোয়ার ইসলাম দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নারায়নগঞ্জ-৪ আসনের মাননীয় সাংসদ আলহাজ্ব এ.কে.এম শামীম ওসমানের সাথে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মী কর্তৃক আয়োজিত শোক দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
বঙ্গবন্ধু স্মরণে বঙ্গভবনে মিলাদ
ডেস্ক নিউজঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বঙ্গভবনে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাদ জোহর বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এ মাহফিলের আয়োজন করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নিহত সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মিলাদ মাহফিলে রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্যরা, সংশ্লিষ্ট সচিব, সামরিক কর্মকর্তা ও বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
বঙ্গভবন জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ সাইফুল কবির মোনাজাত পরিচালনা করেন।
এর আগে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতর প্রযোজিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র দরবার হলে প্রদর্শন করা হয়।
বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী‘র ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে তার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৩৩ মিনিটে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে ফিরে যাওয়ার পর স্থানটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। তখন সেখানে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন শাখা, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে।
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত হিজলতলা এখনো রয়েছে সেভাবেই
ডেস্ক নিউজঃ ছোট খাল। সময়ের ব্যবধানে আরও ছোট হয়ে আসছে। তবে বর্ষা হওয়ায় খালটি পানিতে টুইটম্বুর। পানি যেন উপচে পড়ছে। টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার মধ্য দিয়ে যাওয়া খালটি আজও যেন তার নাম ধরে ডাকছে। এ খালেই সাঁতার কাটতেন তিনি। শৈশব-কৈশোরে এ খালেই ডুব-সাঁতারে ঝড় তুলতেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বঙ্গবন্ধুর বাড়ির একেবারেই পাশ ঘেঁষে খালটি প্রবাহিত হয়েছে। ছোট হলেও বেশ পরিপাটি করে রাখা খালের দু’পাশ। দু’পাড় সবুজে ভরা। ব্লক দিয়ে পিচিং করে শাসন করা হয়েছে খালটি। বঙ্গবন্ধুর বাড়ির পার্শ্ববর্তী পাড় বাঁধাই করা। শান বাঁধানো ঘাট করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ধরে রাখতেই।
Bisk Club
jagonews24
আজ বঙ্গবন্ধু নেই, আছে তার সেই প্রিয় ঘাট পাড়। আছে সেই হিজল গাছ। ঘাটের দু’পাশে তাল গাছ। ঘাটে হিজল গাছটি এখনও ঠায় দাঁড়িয়ে। হিজল গাছটি ঠিক যেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতিকথার সাক্ষী হয়ে আছে। আর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আজও ডুকরে কাঁদছে প্রিয় মানুষটির জন্য।
ঘাট পাড়ে লেখা ‘এই তো- সেই হিজলতলা। যেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা বাল্যকালে গোসল করতেন’।
ঘাট প্রসঙ্গে কথা হয় শেখ হাসিনার মামা শেখ বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শৈশব এবং কৈশোরে এ ঘাটেই গোসল করতেন। এমনকি পরিণত বয়সে তিনি গ্রামে আসলেও এ ঘাটেই গোসল করতেন। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানাও বাল্যকালে এ ঘাটে গোসল করতেন, সাঁতার কাটতেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছোটবেলায় দেখেছি, এই ঘাট থেকেই বঙ্গবন্ধু নৌকা করে বের হতেন। এখানে বড় বড় নৌকা ভিড়ত। শেখ বাড়ির নিজস্ব একটি বড় নৌকাও ছিল। ওই নৌকায় গিয়েই নদীতে লঞ্চে উঠতেন। এ ঘাট পাড়ে এলেই বঙ্গবন্ধুর কথা মনে পড়ে যায়। এ ঘাটেই মিশে আছে জাতির জনকের নানা স্মৃতিকথা।’
বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে
টানা ভারী বর্ষণ ও ভারতের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে তলিয়ে গেছে দেশের উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলা। বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পানিতে ডুবে মারা গেছে অন্তত ২৬ জন। ঢাকার সাথে রেল ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
নিহতদের মধ্যে দিনাজপুরে ১৪, কুড়িগ্রামে ৬, লালমনিরহাটে একই পরিবারে ৪ জনসহ ৫ ও ঠাকুরগাঁয়ে ১ জন রয়েছে। গত দুই দিনে পানিতে তলিয়ে অন্তত ১৫০২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানা বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ রাখা হয়েছে ওই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি পরীক্ষা।
লালমনিরহাটে রেল লাইনের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। একই সঙ্গে বেশ কিছু এলাকায় সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে তিস্তা ব্যারাজ এলাকায়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী আগামী কয়েকদিন পানি আরো বাড়তে পারে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর বাংলাদেশ অংশ ও মেঘনা নদীর অববাহিকায় পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তা বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া, তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার অববাহিকার ভারতীয় অংশে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে এই তিন নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তা বেসিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি পানি বৃদ্ধি পেয়েছে যমুনা নদীর বাহাদুরাবাদ, সারিয়াকান্দি ও সিরাজগঞ্জ স্টেশনে। যমুনা এবং মেঘনা নদীর পানি অব্যাহতভাবে বাড়ছে। একই সঙ্গে এর শাখা নদী সুরমা, কুশিয়ারা, ভোগাই কংস নদীতেও পানি বাড়ছে।
লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার তিস্তা, ধরলা, সানিয়াজান, সিঙ্গীমারী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রেললাইনের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ঢাকা-লালমনিরহাট রুটে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। সদর উপজেলার তিস্তা রেলস্টেশন সংলগ্ন ও জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার কয়েক জায়গায় রেললাইনে উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় লাইনের নিচে বিশাল আকার গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে বর্তমানে লালমনিরহাট-বুড়িমারী রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার ৯ উপজেলার ৬০ ইউনিয়নের প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ। ঘর-বাড়ী ছেড়ে বানভাসীরা আশ্রয় নিয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ উঁচু জায়গায়।
পানির প্রবল তোড়ে ভেসে গেছে প্রায় দুই শতাধিক ঘর-বাড়ি। সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ১৩২ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার,
নুন খাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার এবং পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমারের পানি বিপদসীমার ১৩৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কের সাড়ে ৪ কিলোমিটার এলাকার উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় কুড়িগ্রামের সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে
কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী সড়ক তলিয়ে কয়েকটি পয়েন্টে ধ্বসে যাওয়ার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ী উপজেলাসহ সোনাহাট স্থল বন্দরের যোগাযোগ ব্যবস্থা।
ঠাকুরগাঁওয়ে প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। পুরো জেলায় ৬৫ টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১২ হাজার মানুষ । ঠাকুরগাও জেলা ত্রান ও পূর্নবাসন অফিসের তথ্য মতে জেলার ৫ টি উপজেলায় ৪০ টি ইউনিয়নে পানিবন্দি হয়ে পরেছে কয়েক লাখ মানুষ ।
টঙ্গন, সেনুয়া ও শুক নদীসহ আঞ্চলিক নদীগুলোতে রোববার সকাল থেকে পানি বিপদসীমার ৪০ মিলিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে জেলার প্রায় ১ হাজার গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামে বন্যার পানির আতঙ্কে রেহেনা পারভীন নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার টাঙ্গন নদীর তীরে অবস্থিত ডিসি বস্তিতে প্রবল স্রোতের মুখে আটকা পরা বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করেছে রংপুর ডিভিশন সেনাবাহিনী। তবে এখনো রিয়াদ (২০) নামে একজন নিখোঁজ রয়েছে। পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁওয়ের রেলপথের নয়ন ব্রিজ এলাকায় ২ কিলোমিটার রেলপথ ডুবে যাওয়ায় ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় থেকে ট্রেন চলাচল দুই দিন থেকে বন্ধ রয়েছে।
জয়পুরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় জেলার পাঁচবিবি, ক্ষেতলাল, আক্কেলপুর ও সদর উপজেলার কমপক্ষে ১০টি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
দিনাজপুরে পানির তোড়ে ভেঙে গেছে শহররক্ষা বাঁধ। দিনাজপুর জেলায় পানিতে ডুবে, দেয়াল চাপায় ও সাপের কামড়ে অত্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভেঙে গেছে শহররক্ষা বাঁধসহ বেশ কয়েকটি নদীর বাঁধ। বাড়ি-ঘর ডুবে গিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে জেলার প্রায় সাত লাখ মানুষ।
রোববার দুপুর থেকে বৃষ্টি থেমে গেলেও ঢলে নেমে আসা পানিতে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে বিভিন্ন এলাকা।দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুর সদর, বিরল, কাহারোল, বীরগঞ্জ, খানসামা,ঘোড়াঘাট,নবাবগঞ্জ চিরিরবন্দর ও পার্বতীপুর উপজেলা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ।
পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অসংখ্য মানুষ। গৃহহীন এসব মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন বাঁধ,উচু এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠনে। জেলার দুই হাজার ৯৩০টি শিক্ষা প্রতষ্ঠানের অধিকাংশই বানভাসী মানুষের আশ্রয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্ধ রয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।
বাংলাদেশে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে-শামীম ওসমান
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, দেশে ও নারায়ণগঞ্জে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। বিচার বিভাগ থেকেও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। যারা খেলছেন খেলতে থাকেন। খেলা হবে এবং আমরা জিতব। কারণ আমরা খেলোয়াড়। সেই খেলা সুপ্রিম কোর্ট হোক, বিএনপি হোক, খালেদা জিয়া কিংবা তারেক হোক, জামায়াত হোক কোনো সমস্যা না।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় শোকর্যালির আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তার নেতৃত্বে কালো পতাকা সম্বলিত একটি বিশাল র্যালি শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
শামীম ওসমান বলেন, শেখ হাসিনা শেখ হাসিনাই। বাংলাদেশ পাকিস্তান নয়। শেখ হাসিনা নওয়াজ শরিফও নয়। বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানে বসবাস করে না। যদি কেউ মনে করে, পাকিস্তানের আদালত দিয়ে পাকিস্তানে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা বাংলাদেশেও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হবে- তাহলে তারা বোকার রাজ্যে বাস করছেন।
তিনি বলেন, দেশে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সব শকুন একদিকে হয়েছে মরণ আঘাত হানার জন্য। আমার নেত্রী শেখ হাসিনার ওপর আল্লাহর রহমত আছে বলে আমি বিশ্বাস করি।
শামীম ওসমান আরও বলেন, বাংলাদেশে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। ষড়যন্ত্র শুরু না হলে রূপগঞ্জে এতো অস্ত্র পাওয়া যায় না। এ অস্ত্র সরকারকে সাহায্য করার জন্য আনা হয়নি। সেখানে শতাধিক হেভি মেশিনগান পাওয়া গেছে। রকেট লাঞ্ছার পাওয়া গেছে। গ্রেনেড পাওয়া গেছে। এসএমজি পাওয়া গেছে, এলএমজি পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জের পুলিশই সেটা উদ্ধার করেছে।
রূপগঞ্জের অস্ত্রগুলো কার জন্য আনা হয়েছে- এমন প্রশ্ন করে শামীম ওসমান বলেন, এই স্থান দিয়ে দেশের প্লেন উড়ে। এখান দিয়েই আমার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানে উড়ে যান। এই জায়গা দিয়ে অনেক নিচু দিয়ে বিমান উড়ে যায়। ওদের টার্গেট একটাই। আর সেটা হচ্ছে আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করা।
তিনি বলেন, সমরাস্ত্র শক্তি, সব ষড়যন্ত্রকারী এক হয়েছে। তাদের এখন একটাই উদ্দেশ্য তারা শেখ হাসিনাকে ধ্বংস করতে চায়।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিন মাস্টার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতা চন্দন শীল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সামিউল্লাহ মিলন, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ রশিদ, মহিলা লীগের সভাপতি ইসরাত জাহান খাঁন স্মৃতি, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু প্রমুখ।
৫৭ ধারা বাতিলের দাবিতে সিদ্ধিরগঞ্জে সাংবাদিকদের মানববন্ধন
সালমান শাহকে খুন করা হয়েছে
ডেস্ক নিউজঃ ঢাকাই চলচ্চিত্রের রাজকুমার সালমান শাহ। মৃত্যুর দুই দশক পেরিয়েও এতটুকু কমেনি তার জনপ্রিয়তা। এখনও তিনি নায়কদের প্রিয় নায়ক, দর্শকদের বিরাট এক আক্ষেপের নাম। বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বকালের ব্যবসাসফল সেরা ১০ চলচ্চিত্রের দুই, তিন ও চার নম্বরে আছে সালমান শাহ অভিনীত সিনেমা।
ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। মৃত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হয় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু সালমান শাহের পরিবারের দাবি, তাদের সন্তানকে খুন করা হয়েছে।
এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মামলাও হয়েছে। সালমান ভক্তরাও তাদের প্রিয় নায়ককে খুন করা হয়েছে দাবি করে আন্দোলন করে খুনিদের শনাক্ত করে তাদের শাস্তি দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু কোনো কিনারা পাওয়া যায়নি আজ অবধি। এরই মাঝে বোমা ফাটালেন রাবেয়া সুলতানা রুবি নামের এক আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশি।
অনলাইনে একটি ভিডিও বার্তা ছেড়ে তিনি দাবি করেছেন, সালমান শাহকে খুন করা হয়েছে। সেই খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তারই স্বামী। চীনাদের দিয়ে এই খুন করানো হয়। এতে জড়িত ছিল সালমান শাহের স্ত্রী সামিরার পরিবারও।
এ তথ্যসম্বলিত ভিডিওটি এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে। ভিডিওতে রাবেয়া সুলতানা রুবি সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে কাতর কণ্ঠে বলেন, ‘এই খুনের বিষয়ে আমি সব জানি। যেভাবেই হোক আবার যেন মামলা তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়। আমি যেমন করেই হোক আদালতে সাক্ষী দেব।’
রুবি তার ভিডিওতে সালমানের মাকে উদ্দেশ্য করে বারবার বলেছেন, ‘সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই, তাকে খুন করা হইছে। প্লিজ কিছু একটা করেন, কিছু একটা করেন।’
রুবি বলেন, ‘সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই, সালমান শাহ খুন হইছে। আমার হাসব্যান্ড এইটা করাইছে আমার ভাইরে দিয়ে। আমার হাজব্যান্ড করাইছে, এইটা সামিরার ফ্যামিলি করাইছে আমার হাজব্যান্ডরে দিয়ে, সবাইরে দিয়ে, সব চাইনিজ মানুষ ছিল। সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই, শালমান শাহ খুন হইছে।’
নিজের নাম প্রকাশ করে ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমি রুবি, এখানে ভেগে আসছি, আমি ভেগে আসছি, এই কেস যেন না শেষ হয়। আমি যেভাবে পারি, ঠিকমত যেন আমি সাক্ষী দিতে পারি। আপনারা আমার জন্য দোয়া করেন।’
তাকেও খুন করার চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে রুবি বলেন, ‘আমারেও খুন করার চেষ্টা করা হচ্ছে, দয়া করে আমার জন্য দোয়া করেন। আমি ভালো নাই, আমি কী করব জানি না, এতটুক জানি যে সালমান শাহ ইমন আত্মহত্যা করে নাই। ইমনরে সামিরা, আমার হাজব্যান্ড ও সামিরার সমস্ত ফ্যামিলির সবাই মিলে খুন করছে। প্লিজ দয়া করে কিছু করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এরা কী মানুষ, পুরা চাইনিজ কমিউনিটি আপনারা জানেন না। আমি পুরা ভেগে আসছি এখানে, কোনো রকমে। দয়া করে একটুখানি কারোরে জানান। কারোরে জানান যে, এটা আত্মহত্যা না, এটা খুন। খুন হইছে। আমার ছোট ভাই রুমিরে দিয়া খুন করানো হইছে। রুমিরেও খুন করা হইছে। আমি জানি না রুমির কবর কোথায় আছে। রুমির লাশ যদি কবর থেকে তুলে ঠিকমত আবার পোস্টমর্টেম করে, তাহলে দেখা যাবে যে ওরা গলা টিপে মাইরা ফেলছে।
রুবি আরও কয়েকজন এই খুনের সঙ্গে জড়িত আছেন দাবি করে বলেন, ‘এর মধ্যে আমার খালু মুন্তাজ হাসান আছে, আমার খালাত ভাই জুম্মান থাকতে পারে, আমার হাজব্যান্ড চ্যাং লিং চ্যাং, জন চ্যাং নামে বাংলাদেশে পরিচিত ছিল। সাংহাই চাইনিজ রেস্টুরেন্টের মালিক ছিল ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোডে। দয়া করে কাউরে জানান।’
‘আমি ভেগে আসছি আমার জানের ওপর মায়ার জন্য। আমি লাস্ট মানুষ যে কি না জানে যে, এটা খুন। আমি এটা প্রমাণ করতে পারব ইনশাআল্লাহ।’
‘দয়া করে একটু সাহায্য করেন, একটু সাহায্য করেন। সাংঘাতিক অবস্থা, এরা আমারে বাসার মধ্যে খুন করার প্ল্যান করছিল। আশেপাশে সমস্ত, সুযোগ পায় নাই। আমার জামাইরে আমি জিজ্ঞাস করেছিলাম যে, তুমি আমারে খুন করতে চাও, তাই না? ও বলেছে যে, খুন করলে তো তোরে আমি কবেই খুন করে ফেলতাম।’
‘এইটা তো আমি জানি। এখন আবার খুন করতে চায়, কারণ এখন আবার কেইস ওপেন হইছে। প্লিজ দয়া করে কিছু করেন, দয়া করে জানান।’
সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে ভিডিওতে বলা হয়, ‘ভাবি, আপনার ছেলেরে খুন করা হইছে। আমার যা করার আমি করব, আমি ভেগে আছি ভাবি, নাইলে আমারেও মেরে ফেলত এরা সবাই মিলে। লুসি, আমার হাজব্যান্ড জন, সবাই মিলে আমার বাচ্চাটা, আমার বাচ্চা রিকি আর আমার জানের ওপর অনেক জিনিস আছে ভাবি। দয়া করে কিছু করেন ভাবি, কিছু করেন, কিছু করেন। যেখানেই যান ইনভেস্টিগেশন করেন। এটা খুন ছিল, ইমন আত্মহত্যা করে নাই। সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই, সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই ভাবি, সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই। আপনার ছেলে আত্মহত্যা করে নাই, আপনার ছেলেরে খুন করানো হইছে। আমার বাপরেও মনে হয় মাইরা ফেলছে ভাবি, আমি জানি না, আমার ভাইটারেও মাইরা ফেলছে মনে হয়।
‘দয়া করেন, আল্লাহ, আপনি দয়া করেন, কিছু করেন। আসসালামো আলাইকুম আবার। আল্লাহ হাফেজ, বেঁচে থাকলে ইনশাআল্লাহ দেখা হবে’-বলে শেষ করেন রুবি।
প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি দিয়ে সালমান শাহের রূপালি পর্দায় যাত্রা শুরু। চার বছরের ক্যারিয়ারে তিনি মোট ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এর প্রতিটিই দর্শকপ্রিয়তা পায়।
সালমান শাহ মৃত্যুর পেছনে তার মা নীলা চৌধুরী শুরু থেকেই সালমান শাহের স্ত্রী সামিরাকে দায়ী করে আসছিলেন। তিন ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন। এতে সামিরা ছাড়াও আসামি ছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই। সেখানে একজন ছিলেন এই ভিডিও বার্তা প্রচারকারী রাবেয়া সুলতানা রুবির নামও রয়েছে। তিনি এই মামলার ৭ নম্বর আসামি।
সালমান শাহের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী সামিরা পরে মুস্তাক ওয়াইজ নামে এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করে সংসার করছেন থাইল্যান্ডে। তাদের সংসারে তিন সন্তানও রয়েছে। আর রুবি তার স্বামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় অবস্থান করছিলেন।
বাংলা চলচ্চিত্রে তোলপাড় ফেলা নায়ক সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশকে জানান তার স্ত্রী সামিরা। কিন্তু সালমান শাহের পরিবার একে হত্যা বলে আসছিল।
তবে গত দুই দশকেও এই মামলার রহস্য উদঘাটন হয়নি। পুলিশ দুই দফা ময়নাতদন্ত করে একে আত্মহত্যাই বলেছিল। কিন্তু নারাজি আবেদন করেছে সালমান শাহের পরিবার। মামলাটির বিচার বিভাগীয় তদন্তও হয়েছিল। এখন মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ে রয়েছে।
সম্প্রতি মামলাটি আবার পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। এবং এই মুহূর্তে রাবেয়া সুলতানা রুবি নামের ওই নারীর দুই মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা এই খুন ও মামলাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এলো।
তবে এই ভিডিওটির বিষয়ে সালমান শাহের মায়ের মতামত জানতে যোগাযোগ করতে গিয়ে জানা গেল, নীলা চৌধুরী বর্তমানে লন্ডনে রয়েছে। সেখানে তার ছোট ছেলে সাহরাতের বাসায় আছেন তিনি। তবে এই ভিডিও প্রকাশের পর সালমানের আত্মীয়রা নীলা চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন।
ভিডিও বার্তাকারী রুবিকে রাজসাক্ষী করে আবারও সালমান খুনের মামলার তদন্ত পুনরায় খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন।
সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে পিবিআই’র স্পেশাল পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, রুবি ছিলেন সালমান শাহ’র বিউটিশিয়ান। রুবির সঙ্গে আমরাও যোগাযোগের চেষ্টা করছি। কিন্তু তিনি দেশে নেই। এ কারণে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিনি যে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন তা বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করে দেখা হবে। সূত্র-জাগো নিউজ
আলোচিত ৫ খুন মামলায় মাহফুজের ফাঁসি
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নারায়ণগঞ্জে আলোচিত ৫ খুন মামলার একমাত্র আসামি ভাগ্নে মাহফুজকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ভাগ্নে মাহফুজকে পাঁচবার ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেয়া হয়েছে তবে একবার ফাঁসি দিলেই এ আদেশ কার্যকর হয়ে যাবে।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ বেগম হোসনে আরা আক্তারের আদালত এ আদেশ দেন।
নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, আলোচিত পাঁচ খুনের মামলায় ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করার বিজ্ঞ আদালত রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন। বিচারক সকল কিছু পর্যোলচনা করে মামলার একমাত্র আসামি মাহফুজের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, রায়ে প্রথমে তাসলিমাকে হত্যার দায়ে মাহফুজের ফাঁসি দেয়া হয়। বাকি চারজনকে হত্যায়ও তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতের অনুমতিক্রমে অাসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখার আদেশ দেয়া হয়।
এ রায়ে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট, যত দ্রুত সম্ভব রায় কার্যকর করতে জোর দাবি জানানো হচ্ছে। তবে আসামি পক্ষের আপিল করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিহত তাসলিমার স্বামী মামলার বাদী শফিকুল ইসলাম জানান, মাহফুজ যেভাবে ৫ জনকে হত্যা করেছে তার জন্য আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে আদালতের এ রায় দ্রুত কার্যকর করার পরই পুরোপুরি খুশি হতে পারব।
এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রোকনউজ্জামান জানান, আসামির কোনো লোক না থাকায় ন্যায় বিচারের জন্য মাহফুজের পক্ষে আদালতে হাজির হয়েছি। এ রায়ে আসামি ন্যায় বিচার পায়নি। আসামিপক্ষের হয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে এবং আমি বিশ্বাস করি মাহফুজ খালাস পাবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৬ জানুয়ারি রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল এলাকা থেকে তাসলিমা (৩৫), তার ছেলে শান্ত (১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫), তাসলিমার ছোট ভাই মোরশেদুল (২২) ও তার জা লামিয়ার (২৫) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন ১৭ জানুয়ারি সকালে নিহত তাসলিমার স্বামী শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে তার ভাগ্নে মাহফুজ, ঢাকার কলাবাগানের নাজমা ও শাহজাহানের নাম উল্লেখ করে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
ওইদিন রাতেই মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরদিন গ্রেফতার করা হয় মাহফুজ ও নাজমাকে। পরে ২১ জানুয়ারি আদালতে মাহফুজের দেয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি ছিল অনেকটাই গা শিউরে ওঠার মত। মামির সঙ্গে পরকীয়ার জেরে তার সঙ্গে আরও গভীর সম্পর্কে যেতে ব্যর্তোর ক্ষোভ থেকেই একে একে পাঁচজনকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে ভাগ্নে মাহফুজ।
সিদ্ধিরগঞ্জে গুলি করে আড়াই লাখ টাকা ছিনতাই
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকা থেকে হাফিজুল ইসলাম (৩৯) নামে এক বিকাশ ব্যবসায়ীকে গুলি করে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে অজ্ঞাত দূর্বৃত্তরা। রোববার রাত ১১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কান্দাপাড়া বোতল কারখানা সড়কের মোড় এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। গুলিবিদ্ধ ঐ ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশংকাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে। দূর্বৃত্তরা ব্যবসায়ী হাফিজুল ইসলামের পায়ে ও কোমরে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে বলে জানিয়েছেন তারা।গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী হাফিজুল কান্দাপাড়া এলাকার শাহজাহানের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার পিতার নাম মোঃ আব্বাস আলী। তিনি দীর্ঘদিন যাবত ওই এলাকার আফসার উদ্দিনের টিনসেট মার্কেটে রিয়া মেডিকেল নামে একটি ঔষধের দোকান দিয়ে ব্যবসা করছেন। সেই সাথে একই দোকানে বিকাশ ব্যবসাও করতেন। প্রতিদিনের ন্যায় রোববার দোকান বন্ধ করে রাত ১১টার দিকে বাসায় ফিরছিলেন।
এ সময় মিজমিজি কান্দাপাড়া বোতল কারখানা সড়কের মোড়ে পৌঁছলে একটি এ্যাপাচি মটরসাইকেল নিয়ে পূর্ব থেকেই অবস্থানরত অজ্ঞাত ৩ জন দূর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এক পর্যায়ে দূর্বৃত্তরা তার কোমরে ও পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে মোটরসাইকেল দিয়ে পালিয়ে যায়।সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন) মোঃ নাসির উদ্দিন সরকার জানান, ঘটনাস্থসহ আশেপাশের এলাকার বিভিন্ন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দূর্বৃত্তদের সনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ছিনতাই হওয়ায় টাকা ও ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।#









